ক্ষমতায় এলে ব্যবসায়ীদের সংকট নিরসনের প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের
- প্রকাশঃ ১২:৫৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
- / 67
দেশের ব্যবসায়ীরা বর্তমানে বহুমুখী সংকটের মুখে পড়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাত, পুঁজিবাজার ও সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিবেশে বিরাজমান সমস্যার কারণে দেশে বিনিয়োগ কমে যাচ্ছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না এবং অর্থনীতির অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে বিএনপি ক্ষমতায় এলে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রোববার (৪ জানুয়ারি) রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
এর আগে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের সঙ্গে প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন। বৈঠকে ব্যবসায়ীরা তাঁদের বিদ্যমান সমস্যা, প্রতিবন্ধকতা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।
আমীর খসরু বলেন, বৈঠকে ব্যবসায়ীরা ব্যাংকের উচ্চ সুদের হার, নীতিগত জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক হয়রানির কারণে ব্যবসার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার কথা জানান। এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপরও, যার ফলে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলেন, এসব প্রতিকূলতার কারণে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা সম্প্রসারণ ও নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন। দেশীয় বিনিয়োগকারীরা যদি বিনিয়োগ করতে না পারেন, তাহলে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে-এ বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।
তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান শুধু ব্যবসায়ীদের সমস্যার কথা শোনেননি, বরং প্রতিটি সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান কী হতে পারে, সে বিষয়ে তাঁদের মতামত জানতে চেয়েছেন। একই সঙ্গে বিএনপির পক্ষ থেকে প্রণীত নীতিমালা ও সেগুলো বাস্তবায়নের কৌশল, অর্থায়নের কাঠামো সম্পর্কেও ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
আমীর খসরু দাবি করেন, বিএনপি একটি ব্যবসাবান্ধব রাজনৈতিক দল। তাঁর ভাষায়, “বিএনপির শাসনামলে দেশে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ হয়েছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ও রপ্তানি বেড়েছে। তখন শেয়ারবাজারে বড় ধস নামেনি, ব্যাংক লুট বা ব্যাপক টাকা পাচারের ঘটনাও ঘটেনি।” এ কারণেই ব্যবসায়ীরা বিএনপির প্রতি আস্থা রাখছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বৈঠক শেষে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন বলেন, তাঁরা আনুষ্ঠানিক আলোচনার জন্য নয়, বরং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানাতে এসেছিলেন। তবে তারেক রহমান ব্যবসায়ীদের বর্তমান সংকট ও প্রত্যাশার কথা জানতে চান। তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা, গণমাধ্যমের ঝুঁকি, শেয়ারবাজার শক্তিশালী করা এবং ব্যাংক নির্ভরতা কমানোর বিষয়গুলো বৈঠকে তুলে ধরা হয়েছে।
বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, দেশের অর্থনীতি এগিয়ে নিতে ব্যবসায়ীদের সম্মান ও অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, ইকোনমি বড় করতে হলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়েই সরকারকে কাজ করতে হবে। তারেক রহমানও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন এবং ক্ষমতায় এলে স্বচ্ছতা ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির আশ্বাস দিয়েছেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন ও এ কে আজাদ, প্রাণ গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী, স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী, মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফা কামাল, আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ, বিসিআইসহ বিভিন্ন শিল্প সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক নেতারা।




























