ঢাকা ০২:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লাল ফিতার দৌরাত্ম্য ও চাঁদাবাজিমুক্ত অর্থনীতি গড়ার ঘোষণা শফিকুর রহমানের

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ১১:১৩:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 50

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দলটি ক্ষমতায় এলে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য, ঘুষ ও চাঁদাবাজিমুক্ত একটি ব্যবসাবান্ধব রাষ্ট্র গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, ঘুষকে ‘স্পিড মানি’ নামে বৈধ করার সংস্কৃতি বন্ধ করা হবে এবং উদ্যোক্তাদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।

আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভাটির শিরোনাম ছিল— ‘সমৃদ্ধির সংলাপ: বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্যের জন্য কৌশলগত ভাবনা’

শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতের কোনো ব্যক্তিগত এজেন্ডা নেই। জনগণ ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনলে সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করা হবে। তিনি বলেন, “লাল ফিতা কারও হাতে থাকতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে কাঁচি দিয়ে কেটে টুকরা টুকরা করা হবে। ঘুষ ও চাঁদাবাজি ব্যবসার প্রথম শত্রু।”

তিনি আরও বলেন, ঘুষ ও চাঁদাবাজির কারণে উদ্যোক্তারা সময়মতো কারখানা চালু করতে পারেন না, অথচ ব্যাংকঋণের সুদ পরিশোধ করতে হয়। এতে বিনিয়োগের আগ্রহ কমে যায়। দেশি বিনিয়োগকারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলে বিদেশি বিনিয়োগও আসবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, এই অর্থ সম্মানের সঙ্গে দেশে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। কাউকে অপমান নয়, জাতির কল্যাণই হবে এর উদ্দেশ্য। যারা অর্থ ফেরত দেবেন, রাষ্ট্র তাঁদের সম্মান দেবে।

তিনি বলেন, ক্ষমতায় গিয়ে যেন কারও সম্পদ অস্বাভাবিকভাবে না বাড়ে এবং আত্মীয়স্বজন রাতারাতি ধনী না হয়ে যায়—এই রাজনৈতিক সংস্কৃতিও ভাঙতে হবে। তহবিলের নিরাপত্তাহীনতা, সম্পদের সুরক্ষার অভাব এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার ঘাটতিকে শিল্পমালিকদের প্রধান সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

নারীদের কর্মক্ষেত্র নিয়েও বক্তব্য দেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, মাতৃত্বকালীন সময়ে নারীদের জন্য স্বস্তিকর ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কেউ এক বছর বা দুই–আড়াই বছর পর কাজে ফিরতে চাইলে সেটিকে সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করতে হবে এবং কোনো প্রতিবন্ধকতা রাখা যাবে না।

মতবিনিময় সভায় ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন, এ কে আজাদ ও মো. জসিম উদ্দিন, বিসিআই সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ, মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামালসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমির অধ্যাপক এ কে এম ওয়ারেসুল করিম। অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরসহ দলের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

লাল ফিতার দৌরাত্ম্য ও চাঁদাবাজিমুক্ত অর্থনীতি গড়ার ঘোষণা শফিকুর রহমানের

প্রকাশঃ ১১:১৩:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দলটি ক্ষমতায় এলে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য, ঘুষ ও চাঁদাবাজিমুক্ত একটি ব্যবসাবান্ধব রাষ্ট্র গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, ঘুষকে ‘স্পিড মানি’ নামে বৈধ করার সংস্কৃতি বন্ধ করা হবে এবং উদ্যোক্তাদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।

আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভাটির শিরোনাম ছিল— ‘সমৃদ্ধির সংলাপ: বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্যের জন্য কৌশলগত ভাবনা’

শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতের কোনো ব্যক্তিগত এজেন্ডা নেই। জনগণ ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনলে সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করা হবে। তিনি বলেন, “লাল ফিতা কারও হাতে থাকতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে কাঁচি দিয়ে কেটে টুকরা টুকরা করা হবে। ঘুষ ও চাঁদাবাজি ব্যবসার প্রথম শত্রু।”

তিনি আরও বলেন, ঘুষ ও চাঁদাবাজির কারণে উদ্যোক্তারা সময়মতো কারখানা চালু করতে পারেন না, অথচ ব্যাংকঋণের সুদ পরিশোধ করতে হয়। এতে বিনিয়োগের আগ্রহ কমে যায়। দেশি বিনিয়োগকারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলে বিদেশি বিনিয়োগও আসবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, এই অর্থ সম্মানের সঙ্গে দেশে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। কাউকে অপমান নয়, জাতির কল্যাণই হবে এর উদ্দেশ্য। যারা অর্থ ফেরত দেবেন, রাষ্ট্র তাঁদের সম্মান দেবে।

তিনি বলেন, ক্ষমতায় গিয়ে যেন কারও সম্পদ অস্বাভাবিকভাবে না বাড়ে এবং আত্মীয়স্বজন রাতারাতি ধনী না হয়ে যায়—এই রাজনৈতিক সংস্কৃতিও ভাঙতে হবে। তহবিলের নিরাপত্তাহীনতা, সম্পদের সুরক্ষার অভাব এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার ঘাটতিকে শিল্পমালিকদের প্রধান সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

নারীদের কর্মক্ষেত্র নিয়েও বক্তব্য দেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, মাতৃত্বকালীন সময়ে নারীদের জন্য স্বস্তিকর ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কেউ এক বছর বা দুই–আড়াই বছর পর কাজে ফিরতে চাইলে সেটিকে সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করতে হবে এবং কোনো প্রতিবন্ধকতা রাখা যাবে না।

মতবিনিময় সভায় ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন, এ কে আজাদ ও মো. জসিম উদ্দিন, বিসিআই সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ, মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামালসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমির অধ্যাপক এ কে এম ওয়ারেসুল করিম। অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরসহ দলের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।