ঢাকা ১১:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার শিক্ষা দেয় যে সুরায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০১:৫১:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 27

বর্তমান সময়ে মুসলিম তরুণদের জীবনে পারিবারিক চাপ, সামাজিক বাস্তবতা ও শয়তানের কুমন্ত্রণা একত্রে মানসিক ও আত্মিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এই পরিস্থিতিতে কোরআনের শিক্ষা সবচেয়ে বড় আশ্রয় হিসেবে কাজ করতে পারে। বিশেষ করে সুরা আন-নাস মানুষের জীবনে মানসিক শক্তি এবং আত্মিক নিরাপত্তা প্রদান করে।

হাদিস থেকে জানা যায়, সুরা আন-নাস মক্কায় অবতীর্ণ এবং এতে ছয়টি আয়াত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিয়মিতভাবে এই সুরা ও সুরা আল-ফালাক পাঠ করতেন, যাতে জিন, বদনজর ও অদৃশ্য অনিষ্ট থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। অসুস্থতার সময়ও তিনি এগুলো পড়ে নিজের ওপর ফুঁ দিতেন।

সুরা আন-নাসে আল্লাহকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ গুণে পরিচয় করানো হয়েছে—রব (সৃষ্টিকর্তা ও প্রতিপালক), বাদশাহ (সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী) এবং উপাস্য (একমাত্র ইবাদতের যোগ্য)। এই তিন গুণের মাধ্যমে মানুষকে বোঝানো হয়েছে, সব ধরনের অনিষ্ট ও কুমন্ত্রণা থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র ভরসাস্থল আল্লাহ তায়ালা।

তাফসিরকারদের মতে, শয়তান মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়। তবে আল্লাহকে স্মরণ করলে সে প্রভাব কমে যায়। মানুষের অবহেলার সময় এই কুমন্ত্রণা আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। এজন্য সর্বদা সচেতন থাকা এবং আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া অত্যন্ত জরুরি।

সুরা আন-নাস শুধুমাত্র শয়তানের নয়, মানব সমাজের ক্ষতিকর সঙ্গীদের প্রভাব থেকেও রক্ষা শিখায়। যারা মিথ্যা ছড়ায়, গিবত করে, অন্যায় কামনাকে প্ররোচিত করে, সুদ, ব্যভিচার, জুয়া ও মদ্যপানে মানুষকে উৎসাহিত করে, তারা মানব শয়তানের অন্তর্ভুক্ত।

মানুষ একা এসব কুমন্ত্রনার মোকাবিলা করতে সক্ষম নয়। তাই সব অবস্থায় আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং তার কাছে আশ্রয় চাওয়ার শিক্ষা সুরা আন-নাসের মূল বক্তব্য।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

প্রাসঙ্গিক

শেয়ার করুন

আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার শিক্ষা দেয় যে সুরায়

প্রকাশঃ ০১:৫১:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

বর্তমান সময়ে মুসলিম তরুণদের জীবনে পারিবারিক চাপ, সামাজিক বাস্তবতা ও শয়তানের কুমন্ত্রণা একত্রে মানসিক ও আত্মিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এই পরিস্থিতিতে কোরআনের শিক্ষা সবচেয়ে বড় আশ্রয় হিসেবে কাজ করতে পারে। বিশেষ করে সুরা আন-নাস মানুষের জীবনে মানসিক শক্তি এবং আত্মিক নিরাপত্তা প্রদান করে।

হাদিস থেকে জানা যায়, সুরা আন-নাস মক্কায় অবতীর্ণ এবং এতে ছয়টি আয়াত রয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিয়মিতভাবে এই সুরা ও সুরা আল-ফালাক পাঠ করতেন, যাতে জিন, বদনজর ও অদৃশ্য অনিষ্ট থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। অসুস্থতার সময়ও তিনি এগুলো পড়ে নিজের ওপর ফুঁ দিতেন।

সুরা আন-নাসে আল্লাহকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ গুণে পরিচয় করানো হয়েছে—রব (সৃষ্টিকর্তা ও প্রতিপালক), বাদশাহ (সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী) এবং উপাস্য (একমাত্র ইবাদতের যোগ্য)। এই তিন গুণের মাধ্যমে মানুষকে বোঝানো হয়েছে, সব ধরনের অনিষ্ট ও কুমন্ত্রণা থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র ভরসাস্থল আল্লাহ তায়ালা।

তাফসিরকারদের মতে, শয়তান মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়। তবে আল্লাহকে স্মরণ করলে সে প্রভাব কমে যায়। মানুষের অবহেলার সময় এই কুমন্ত্রণা আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। এজন্য সর্বদা সচেতন থাকা এবং আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া অত্যন্ত জরুরি।

সুরা আন-নাস শুধুমাত্র শয়তানের নয়, মানব সমাজের ক্ষতিকর সঙ্গীদের প্রভাব থেকেও রক্ষা শিখায়। যারা মিথ্যা ছড়ায়, গিবত করে, অন্যায় কামনাকে প্ররোচিত করে, সুদ, ব্যভিচার, জুয়া ও মদ্যপানে মানুষকে উৎসাহিত করে, তারা মানব শয়তানের অন্তর্ভুক্ত।

মানুষ একা এসব কুমন্ত্রনার মোকাবিলা করতে সক্ষম নয়। তাই সব অবস্থায় আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং তার কাছে আশ্রয় চাওয়ার শিক্ষা সুরা আন-নাসের মূল বক্তব্য।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”