ঢাকা ১১:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আসর

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ১২:১০:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 20

ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফিএএফপি



২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ড্র হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে ব্যয়ের ‘ডমিনো এফেক্ট’। টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম আর আয়োজক শহরগুলোতে হোটেল ভাড়ার অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে এই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আসরে পরিণত হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া বিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিক

মাঠে বসে খেলা দেখার পরিকল্পনা করা সমর্থকদের এখনই ক্রেডিট কার্ডের লিমিট বাড়ানোর কথা ভাবতে হচ্ছে। দ্য অ্যাথলেটিক–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টিকিট, আবাসন, যাতায়াত ও পার্কিং—সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপ দেখার খরচ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

টিকিটের জন্য লড়াই ও রেকর্ড আবেদন

ফিফার তথ্যমতে, গত ১১ ডিসেম্বর থেকে ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত টিকিটের জন্য জমা পড়েছে প্রায় ৫০ কোটি আবেদন। বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) থেকে ই–মেইলের মাধ্যমে জানানো হবে কারা টিকিট পাচ্ছেন। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আগেই জানিয়েছেন, অনেক সমর্থক বেশি দামে টিকিট পুনরায় বিক্রি করবেন, ফলে দাম আরও বাড়তে পারে।

হোটেল ভাড়া বেড়েছে কয়েক গুণ

বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজনকারী শহরগুলোতে হোটেল ভাড়া রীতিমতো বিস্ময়কর পর্যায়ে পৌঁছেছে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের কাছে একটি হোটেলের বর্তমান ভাড়া প্রতি রাত ৪ হাজার ৫১০ ডলার, যেখানে সাধারণ সময়ে তা থাকে মাত্র ১৫৩ ডলার। অর্থাৎ ভাড়া বেড়েছে প্রায় ২ হাজার ৮৪৮ শতাংশ।
শর্ট হিলসে সাত বেডরুমের একটি বাড়ি তিন রাতের জন্য ভাড়া দেওয়া হচ্ছে প্রায় ৩৫ হাজার ডলারে। লস অ্যাঞ্জেলেসে স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার চাহিদা বেড়েছে ১২১ শতাংশ। এয়ারবিএনবির তথ্যমতে, ড্রয়ের পর আবাসন অনুসন্ধান বেড়েছে ১৬০ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক শহরেই এত পর্যটকের চাপ সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত হোটেল অবকাঠামো নেই।

পার্কিংয়ের খরচও বিস্ময়কর

বিশ্বকাপের খরচ শুধু টিকিট ও হোটেলে সীমাবদ্ধ নয়। লস অ্যাঞ্জেলেসে ফিফার অফিসিয়াল পার্কিং স্পটের মূল্য ধরা হয়েছে ২৫০ থেকে ৩০০ ডলার, যা অনেক ক্যাটাগরির ম্যাচ টিকিটের দামের চেয়েও বেশি। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই পার্কিং স্পট থেকে স্টেডিয়ামে পৌঁছাতে হাঁটতে হবে প্রায় এক মাইলের বেশি পথ।

বুকিং বাতিল করে বাড়তি দামে পুনর্বিক্রি

চাহিদা বাড়ার সুযোগে অনেক বাড়ির মালিক আগের বুকিং বাতিল করে দিচ্ছেন। ক্রোয়েশীয় বংশোদ্ভূত সমর্থক অ্যান্থনি জোরিচ ডালাসে ৩২৭ ডলারে একটি বাসা বুক করেছিলেন। ড্রয়ের পর মালিক সেটি বাতিল করে আবার বিজ্ঞাপন দেন ৯১৭ ডলারে।
এয়ারবিএনবি জানিয়েছে, এ ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে—মালিকদের জরিমানা ও প্রোফাইল ব্লক করা হচ্ছে।

ইংল্যান্ডের সমর্থক জন সিয়ারও একই অভিজ্ঞতার কথা জানান। বোস্টনে আগাম বুকিং দেওয়ার পর ড্রয়ের পর মালিক ‘সফটওয়্যার ত্রুটি’র কথা বলে বুকিং বাতিল করেন। সিয়ারের ধারণা, বাড়তি দামে পুনর্বিক্রির উদ্দেশ্যেই এটি করা হয়েছে।

‘ওয়ার্ল্ড কাপ ইফেক্ট’

২০২৫ সালের জুনে এয়ারবিএনবি ফিফার অফিসিয়াল পার্টনার হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এই বিশ্বকাপে শুধু এয়ারবিএনবিতেই প্রায় ১২০ কোটি ডলারের লেনদেন হবে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে ‘টেইলর সুইফট ইফেক্ট’ বা ‘বিয়ন্সে ইফেক্ট’ দেখা গেলেও, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ঘিরে তৈরি হচ্ছে নতুন বাস্তবতা—‘ওয়ার্ল্ড কাপ ইফেক্ট’।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী ১৯ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী এই প্রভাব দৃশ্যমান থাকবে, আর ব্যয়ের এই প্রবণতা ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বিশ্বকাপ উপভোগ করাকে আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যয়বহুল করে তুলবে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আসর

প্রকাশঃ ১২:১০:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফিএএফপি



২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ড্র হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে ব্যয়ের ‘ডমিনো এফেক্ট’। টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম আর আয়োজক শহরগুলোতে হোটেল ভাড়ার অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে এই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আসরে পরিণত হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া বিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিক

মাঠে বসে খেলা দেখার পরিকল্পনা করা সমর্থকদের এখনই ক্রেডিট কার্ডের লিমিট বাড়ানোর কথা ভাবতে হচ্ছে। দ্য অ্যাথলেটিক–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টিকিট, আবাসন, যাতায়াত ও পার্কিং—সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপ দেখার খরচ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

টিকিটের জন্য লড়াই ও রেকর্ড আবেদন

ফিফার তথ্যমতে, গত ১১ ডিসেম্বর থেকে ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত টিকিটের জন্য জমা পড়েছে প্রায় ৫০ কোটি আবেদন। বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) থেকে ই–মেইলের মাধ্যমে জানানো হবে কারা টিকিট পাচ্ছেন। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আগেই জানিয়েছেন, অনেক সমর্থক বেশি দামে টিকিট পুনরায় বিক্রি করবেন, ফলে দাম আরও বাড়তে পারে।

হোটেল ভাড়া বেড়েছে কয়েক গুণ

বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজনকারী শহরগুলোতে হোটেল ভাড়া রীতিমতো বিস্ময়কর পর্যায়ে পৌঁছেছে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের কাছে একটি হোটেলের বর্তমান ভাড়া প্রতি রাত ৪ হাজার ৫১০ ডলার, যেখানে সাধারণ সময়ে তা থাকে মাত্র ১৫৩ ডলার। অর্থাৎ ভাড়া বেড়েছে প্রায় ২ হাজার ৮৪৮ শতাংশ।
শর্ট হিলসে সাত বেডরুমের একটি বাড়ি তিন রাতের জন্য ভাড়া দেওয়া হচ্ছে প্রায় ৩৫ হাজার ডলারে। লস অ্যাঞ্জেলেসে স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার চাহিদা বেড়েছে ১২১ শতাংশ। এয়ারবিএনবির তথ্যমতে, ড্রয়ের পর আবাসন অনুসন্ধান বেড়েছে ১৬০ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক শহরেই এত পর্যটকের চাপ সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত হোটেল অবকাঠামো নেই।

পার্কিংয়ের খরচও বিস্ময়কর

বিশ্বকাপের খরচ শুধু টিকিট ও হোটেলে সীমাবদ্ধ নয়। লস অ্যাঞ্জেলেসে ফিফার অফিসিয়াল পার্কিং স্পটের মূল্য ধরা হয়েছে ২৫০ থেকে ৩০০ ডলার, যা অনেক ক্যাটাগরির ম্যাচ টিকিটের দামের চেয়েও বেশি। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই পার্কিং স্পট থেকে স্টেডিয়ামে পৌঁছাতে হাঁটতে হবে প্রায় এক মাইলের বেশি পথ।

বুকিং বাতিল করে বাড়তি দামে পুনর্বিক্রি

চাহিদা বাড়ার সুযোগে অনেক বাড়ির মালিক আগের বুকিং বাতিল করে দিচ্ছেন। ক্রোয়েশীয় বংশোদ্ভূত সমর্থক অ্যান্থনি জোরিচ ডালাসে ৩২৭ ডলারে একটি বাসা বুক করেছিলেন। ড্রয়ের পর মালিক সেটি বাতিল করে আবার বিজ্ঞাপন দেন ৯১৭ ডলারে।
এয়ারবিএনবি জানিয়েছে, এ ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে—মালিকদের জরিমানা ও প্রোফাইল ব্লক করা হচ্ছে।

ইংল্যান্ডের সমর্থক জন সিয়ারও একই অভিজ্ঞতার কথা জানান। বোস্টনে আগাম বুকিং দেওয়ার পর ড্রয়ের পর মালিক ‘সফটওয়্যার ত্রুটি’র কথা বলে বুকিং বাতিল করেন। সিয়ারের ধারণা, বাড়তি দামে পুনর্বিক্রির উদ্দেশ্যেই এটি করা হয়েছে।

‘ওয়ার্ল্ড কাপ ইফেক্ট’

২০২৫ সালের জুনে এয়ারবিএনবি ফিফার অফিসিয়াল পার্টনার হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এই বিশ্বকাপে শুধু এয়ারবিএনবিতেই প্রায় ১২০ কোটি ডলারের লেনদেন হবে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে ‘টেইলর সুইফট ইফেক্ট’ বা ‘বিয়ন্সে ইফেক্ট’ দেখা গেলেও, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ঘিরে তৈরি হচ্ছে নতুন বাস্তবতা—‘ওয়ার্ল্ড কাপ ইফেক্ট’।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী ১৯ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী এই প্রভাব দৃশ্যমান থাকবে, আর ব্যয়ের এই প্রবণতা ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বিশ্বকাপ উপভোগ করাকে আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যয়বহুল করে তুলবে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”