ঢাকা ০৮:০৭ , Thu, ২৭ Aug ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাজ্যে

এলডিসি উত্তরণের পরও যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের ৯২ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা

আয়ান সরকার
  • প্রকাশঃ ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১৩:১৫
  • / 12
ছবি: সংগৃহীত

লন্ডন, ২৭ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পরও যুক্তরাজ্যের বাজারে দেশের রপ্তানি পণ্যের বড় অংশ শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুবিধা পেতে যাচ্ছে। ব্রিটিশ সরকারের উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাণিজ্য ব্যবস্থার আওতায় বাংলাদেশের প্রায় ৯২ শতাংশ পণ্য শুল্ক ছাড়াই যুক্তরাজ্যের বাজারে প্রবেশ করতে পারবে। পাশাপাশি বর্তমান শুল্ক সুবিধা আরও তিন বছর বহাল রাখার সুযোগ থাকায় এলডিসি উত্তরণের পর রপ্তানিকারকদের জন্য আকস্মিক বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা কমছে।

বাংলাদেশ এই বাণিজ্য ব্যবস্থার ‘উন্নত অগ্রাধিকার’ স্তরের সুবিধা পাবে। ফলে এলডিসি মর্যাদা হারানোর পরও অধিকাংশ রপ্তানি পণ্যে যুক্তরাজ্যের বাজারে অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সুবিধার সবচেয়ে বড় সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তৈরি পোশাক খাতে।

যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য নিটওয়্যার ও ওভেন পোশাকসহ বিভিন্ন তৈরি পোশাক শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগ পাবে। এতে দেশটির বাজারে বাংলাদেশি পোশাকের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখার ক্ষেত্রে সুবিধা তৈরি হতে পারে।

পণ্যের উৎপত্তি সংক্রান্ত নিয়মেও বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য কিছুটা নমনীয়তা রাখা হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা থেকে কাঁচামাল ও প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করে বাংলাদেশে পোশাক তৈরি করে যুক্তরাজ্যে রপ্তানির ক্ষেত্রে তুলনামূলক সুবিধা পাওয়া যাবে।

বিশেষ করে ‘ডাবল ট্রান্সফরমেশন’ সংক্রান্ত কঠোর শর্তে এই নমনীয়তা বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দেশের পোশাক উৎপাদন খাত বিভিন্ন দেশ থেকে কাঁচামাল ও উপকরণ সংগ্রহের ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় উৎপাদন ও রপ্তানির ক্ষেত্রে এই সুবিধা কাজে লাগতে পারে।

এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বর্তমান শুল্ক সুবিধা আরও তিন বছর বহাল রাখার সুযোগও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এতে রপ্তানিকারকেরা হঠাৎ করে বাড়তি শুল্কের মুখে পড়ার পরিবর্তে নতুন বাণিজ্য পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের ব্যবসায়িক কৌশল ও সরবরাহব্যবস্থা মানিয়ে নেওয়ার সময় পাবেন।

যুক্তরাজ্যের উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাণিজ্য ব্যবস্থা

যুক্তরাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য দেশটির বর্তমান বাণিজ্য ব্যবস্থা ২০২৩ সালের ১৯ জুন কার্যকর হয়। এর মাধ্যমে আগের সাধারণীকৃত অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য ব্যবস্থা প্রতিস্থাপিত হয়েছে। বর্তমানে এই ব্যবস্থার আওতায় ৬৫টি উন্নয়নশীল দেশ রয়েছে।

জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী স্বল্পোন্নত দেশ এবং বিশ্বব্যাংকের সংজ্ঞা অনুযায়ী নিম্ন আয়ের ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলো এই ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরের সুবিধা পেতে পারে। এর মূল উদ্দেশ্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করা।

একই সঙ্গে কম আমদানি শুল্কের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও ভোক্তাদের জন্য বিভিন্ন পণ্য আমদানির ব্যয় কমানোর সুযোগও এই ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এই সুবিধা পাওয়ার জন্য যুক্তরাজ্যের সঙ্গে নতুন করে কোনো জটিল বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দরকষাকষির প্রয়োজন নেই। নির্ধারিত কাঠামোর মধ্যেই বাংলাদেশ অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রাখছে।

২০২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি থেকে এই বাণিজ্য ব্যবস্থার পণ্যের উৎপত্তি সংক্রান্ত নিয়মে নতুন পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে। যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বাণিজ্য ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের জন্য গুরুত্ব

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বাজারগুলোতে বিদ্যমান বাণিজ্য সুবিধা ধরে রাখা। সেই দিক থেকে যুক্তরাজ্যের বাজারে প্রায় ৯২ শতাংশ পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার রপ্তানি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে এই সুবিধা বহাল থাকায় যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখার সুযোগ থাকবে। তিন বছরের রূপান্তরকালও রপ্তানিকারকদের ভবিষ্যৎ বাণিজ্য পরিকল্পনা ও বাজার কৌশল নির্ধারণে অতিরিক্ত সময় দেবে।

তবে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার বজায় থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে পণ্যের মান, উৎপাদন ব্যয়, শ্রম উৎপাদনশীলতা, পরিবেশগত মান এবং সরবরাহব্যবস্থার দক্ষতার ওপর গুরুত্ব বাড়াতে হবে।

এলডিসি উত্তরণের পর যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের প্রায় ৯২ শতাংশ পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার এবং বর্তমান সুবিধা আরও তিন বছর বহাল রাখার সুযোগ দেশের রপ্তানি খাতকে একটি রূপান্তরকালীন সুবিধা দিচ্ছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য এটি যুক্তরাজ্যের বাজার ধরে রাখা এবং ভবিষ্যতে রপ্তানি সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

❤️
👏
🙂
😞

এলডিসি উত্তরণের পরও যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের ৯২ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা

প্রকাশঃ ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১৩:১৫

লন্ডন, ২৭ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পরও যুক্তরাজ্যের বাজারে দেশের রপ্তানি পণ্যের বড় অংশ শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুবিধা পেতে যাচ্ছে। ব্রিটিশ সরকারের উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাণিজ্য ব্যবস্থার আওতায় বাংলাদেশের প্রায় ৯২ শতাংশ পণ্য শুল্ক ছাড়াই যুক্তরাজ্যের বাজারে প্রবেশ করতে পারবে। পাশাপাশি বর্তমান শুল্ক সুবিধা আরও তিন বছর বহাল রাখার সুযোগ থাকায় এলডিসি উত্তরণের পর রপ্তানিকারকদের জন্য আকস্মিক বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা কমছে।

বাংলাদেশ এই বাণিজ্য ব্যবস্থার ‘উন্নত অগ্রাধিকার’ স্তরের সুবিধা পাবে। ফলে এলডিসি মর্যাদা হারানোর পরও অধিকাংশ রপ্তানি পণ্যে যুক্তরাজ্যের বাজারে অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সুবিধার সবচেয়ে বড় সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তৈরি পোশাক খাতে।

যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য নিটওয়্যার ও ওভেন পোশাকসহ বিভিন্ন তৈরি পোশাক শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগ পাবে। এতে দেশটির বাজারে বাংলাদেশি পোশাকের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখার ক্ষেত্রে সুবিধা তৈরি হতে পারে।

পণ্যের উৎপত্তি সংক্রান্ত নিয়মেও বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য কিছুটা নমনীয়তা রাখা হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা থেকে কাঁচামাল ও প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করে বাংলাদেশে পোশাক তৈরি করে যুক্তরাজ্যে রপ্তানির ক্ষেত্রে তুলনামূলক সুবিধা পাওয়া যাবে।

বিশেষ করে ‘ডাবল ট্রান্সফরমেশন’ সংক্রান্ত কঠোর শর্তে এই নমনীয়তা বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দেশের পোশাক উৎপাদন খাত বিভিন্ন দেশ থেকে কাঁচামাল ও উপকরণ সংগ্রহের ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় উৎপাদন ও রপ্তানির ক্ষেত্রে এই সুবিধা কাজে লাগতে পারে।

এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বর্তমান শুল্ক সুবিধা আরও তিন বছর বহাল রাখার সুযোগও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এতে রপ্তানিকারকেরা হঠাৎ করে বাড়তি শুল্কের মুখে পড়ার পরিবর্তে নতুন বাণিজ্য পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের ব্যবসায়িক কৌশল ও সরবরাহব্যবস্থা মানিয়ে নেওয়ার সময় পাবেন।

যুক্তরাজ্যের উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাণিজ্য ব্যবস্থা

যুক্তরাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য দেশটির বর্তমান বাণিজ্য ব্যবস্থা ২০২৩ সালের ১৯ জুন কার্যকর হয়। এর মাধ্যমে আগের সাধারণীকৃত অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য ব্যবস্থা প্রতিস্থাপিত হয়েছে। বর্তমানে এই ব্যবস্থার আওতায় ৬৫টি উন্নয়নশীল দেশ রয়েছে।

জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী স্বল্পোন্নত দেশ এবং বিশ্বব্যাংকের সংজ্ঞা অনুযায়ী নিম্ন আয়ের ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলো এই ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরের সুবিধা পেতে পারে। এর মূল উদ্দেশ্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করা।

একই সঙ্গে কম আমদানি শুল্কের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও ভোক্তাদের জন্য বিভিন্ন পণ্য আমদানির ব্যয় কমানোর সুযোগও এই ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এই সুবিধা পাওয়ার জন্য যুক্তরাজ্যের সঙ্গে নতুন করে কোনো জটিল বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দরকষাকষির প্রয়োজন নেই। নির্ধারিত কাঠামোর মধ্যেই বাংলাদেশ অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রাখছে।

২০২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি থেকে এই বাণিজ্য ব্যবস্থার পণ্যের উৎপত্তি সংক্রান্ত নিয়মে নতুন পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে। যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বাণিজ্য ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের জন্য গুরুত্ব

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি বাজারগুলোতে বিদ্যমান বাণিজ্য সুবিধা ধরে রাখা। সেই দিক থেকে যুক্তরাজ্যের বাজারে প্রায় ৯২ শতাংশ পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার রপ্তানি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে এই সুবিধা বহাল থাকায় যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখার সুযোগ থাকবে। তিন বছরের রূপান্তরকালও রপ্তানিকারকদের ভবিষ্যৎ বাণিজ্য পরিকল্পনা ও বাজার কৌশল নির্ধারণে অতিরিক্ত সময় দেবে।

তবে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার বজায় থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে পণ্যের মান, উৎপাদন ব্যয়, শ্রম উৎপাদনশীলতা, পরিবেশগত মান এবং সরবরাহব্যবস্থার দক্ষতার ওপর গুরুত্ব বাড়াতে হবে।

এলডিসি উত্তরণের পর যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের প্রায় ৯২ শতাংশ পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার এবং বর্তমান সুবিধা আরও তিন বছর বহাল রাখার সুযোগ দেশের রপ্তানি খাতকে একটি রূপান্তরকালীন সুবিধা দিচ্ছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য এটি যুক্তরাজ্যের বাজার ধরে রাখা এবং ভবিষ্যতে রপ্তানি সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।