যুক্তরাজ্যে তরুণদের জন্য ১০ হাজার কর্ম-অভিজ্ঞতার সুযোগ দিচ্ছে সেইন্সবারিজ
- প্রকাশঃ ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১৪:৩৪
- / 8
লন্ডন, ২৭ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা): যুক্তরাজ্যে তরুণদের বেকারত্ব মোকাবিলায় আগামী এক বছরে প্রায় ১০ হাজার কর্ম-অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠান সেইন্সবারিজ। আগামী অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে এমন এলাকার তরুণদের, যারা চাকরির বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি বাধার মুখে পড়ছেন।

এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া তরুণরা বাস্তব কর্মক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস বাড়ানো, জীবনবৃত্তান্ত উন্নত করা এবং চাকরির সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতির সুযোগ পাবেন। কর্মজীবনে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা তৈরি করাই এর অন্যতম লক্ষ্য।
তবে ঘোষিত ১০ হাজার সুযোগকে ১০ হাজার স্থায়ী চাকরি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এগুলো মূলত কর্ম-অভিজ্ঞতা ও চাকরির জন্য প্রস্তুতিমূলক সুযোগ। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া প্রত্যেক তরুণের জন্য স্থায়ী চাকরি নিশ্চিত করা হবে না।
তরুণ বেকারত্ব কমানোকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। সেইন্সবারিজের উদ্যোগকে সামনে রেখে তিনি অন্যান্য বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকেও তরুণদের জন্য কর্ম-অভিজ্ঞতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
লন্ডনের মেয়র সাদিক খানও উদ্যোগটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁর মতে, কর্ম-অভিজ্ঞতা একজন তরুণের কর্মজীবনে প্রবেশের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হতে পারে। নিজের কর্মজীবনের শুরুর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, খুচরা বিক্রয় খাতেই তাঁর প্রথম কর্ম-অভিজ্ঞতা হয়েছিল।
যুক্তরাজ্যে তরুণ বেকারত্বের পরিসরও বড়। বর্তমানে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী ১০ লাখের বেশি তরুণ শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছে। কর্মজীবনের শুরুতে অভিজ্ঞতার অভাব তাদের অনেকের জন্য চাকরি পাওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
কর্ম-অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তরুণরা কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার পাশাপাশি নিয়োগদাতাদের প্রত্যাশা, সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি ও পেশাগত আচরণ সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।
সরকারের পরিকল্পনায় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণে চাকরির বাজারে প্রবেশে পিছিয়ে থাকা তরুণদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সেইন্সবারিজের কর্মসূচি তাই তরুণদের কর্মজীবনে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানোর একটি উদ্যোগ হলেও, ১০ লাখের বেশি তরুণ যখন শিক্ষা, চাকরি ও প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছে, তখন বৃহত্তর পরিসরে এমন কর্মসূচি কতটা বাড়ানো যায়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।


























