ঢাকা ১০:৫৫ , Mon, ০৫ Oct ২০২৬

লন্ডনে কেবল স্ট্রিটের ৯০তম বার্ষিকীতে বর্ণবাদ ও উগ্র ডানপন্থার বিরুদ্ধে হাজারো মানুষের মিছিল

শাহারিয়া নয়ন
  • প্রকাশঃ ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৪২
  • / 7
কেবল স্ট্রিটের যুদ্ধের ৯০তম বার্ষিকী উপলক্ষে লন্ডনের ইস্ট এন্ডে হাজারো মানুষের মিছিল। ছবি: প্রজন্ম কথা

লন্ডন, ৬ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা) – ১৯৩৬ সালের ঐতিহাসিক কেবল স্ট্রিটের বর্ণবাদবিরোধী প্রতিরোধের ৯০তম বার্ষিকী উপলক্ষে রোববার ৪ অক্টোবর লন্ডনের ইস্ট এন্ডে হাজার হাজার মানুষ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন। টাওয়ার হ্যামলেটস টাউন হল থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি কেবল স্ট্রিটের সেন্ট জর্জেস গার্ডেনস পর্যন্ত যায়। কর্মসূচি থেকে ফ্যাসিবাদ, বর্ণবাদ ও উগ্র ডানপন্থার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

১৯৩৬ সালের ৪ অক্টোবর ওসওয়াল্ড মোসলির নেতৃত্বাধীন ব্রিটিশ ইউনিয়ন অব ফ্যাসিস্টসের মিছিল ইস্ট এন্ডের মধ্য দিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। সে সময় এলাকাটিতে বড় একটি ইহুদি জনগোষ্ঠীর বসবাস ছিল। ফ্যাসিস্টদের ওই মিছিলকে পরিকল্পিত উসকানি হিসেবে দেখেছিল ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগঠনগুলো। স্থানীয় বাসিন্দা, ট্রেড ইউনিয়ন ও বিভিন্ন ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগঠনের হাজার হাজার মানুষ একত্র হয়ে মিছিলটি ঠেকিয়ে দেন। ঐতিহাসিক ওই ঘটনাই পরে ‘কেবল স্ট্রিটের যুদ্ধ’ নামে পরিচিত হয়।

৯০তম বার্ষিকীর কর্মসূচিতে মিছিলকারীরা ‘উগ্র ডানপন্থাকে থামাও’সহ বিভিন্ন স্লোগান ও ব্যানার বহন করেন। মিছিলের সামনের বড় একটি ব্যানারে ইহুদিবিদ্বেষ, ইসলামবিদ্বেষ ও সব ধরনের বর্ণবাদের বিরুদ্ধে অবস্থানের কথা তুলে ধরা হয়। ‘১৯৩৬ সালে তারা পার হতে পারেনি, ২০২৬ সালেও পারবে না’ এমন বার্তাও ছিল ব্যানারে।

কেবল স্ট্রিট ৯০ ব্যানারের নেতৃত্বে আয়োজিত মিছিলে টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র লুৎফুর রহমান, বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ট্রেড ইউনিয়ন নেতা, কমিউনিটি সংগঠনের প্রতিনিধি এবং কেবল স্ট্রিটের ঐতিহাসিক ঘটনায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।

মিছিলের সামনে ছিল গ্রেট ইয়িদিশ প্যারেডের ক্লেজমার মার্চিং ব্যান্ড। এরপর ছিল জিউইশ ব্লক, বেঙ্গলি ব্লক, আইরিশ ব্লক ও আন্তর্জাতিক ব্লক। বেঙ্গলি ব্লকে আলতাব আলী ফাউন্ডেশন, স্বাধীনতা ট্রাস্ট, আলতাব আলী ট্রাস্ট, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স কাউন্সিলসহ বিভিন্ন সংগঠন অংশ নেয়। টাওয়ার হ্যামলেটসের স্থানীয় বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠন, আন্তর্জাতিক ব্রিগেডস মেমোরিয়াল ট্রাস্ট, বর্ণবাদ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগঠন এবং ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাও মিছিলে ছিলেন।

টাওয়ার হ্যামলেটস টাউন হলে সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির শুরু হয়। উদ্বোধনী বক্তব্যের পর মিছিলটি কেবল স্ট্রিটের দিকে যাত্রা করে। কর্মসূচির শেষ পর্বে সেন্ট জর্জেস গার্ডেনসে বক্তৃতা, কবিতা ও সংগীত পরিবেশন করা হয়। আয়োজকদের প্রকাশিত কর্মসূচি অনুযায়ী, চূড়ান্ত সমাবেশে বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন, রাজনৈতিক ও কমিউনিটি সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

সমাবেশে টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “অভিবাসন, অভিবাসী এবং এই এলাকার আদি বাসিন্দারা সবাই মিলে টাওয়ার হ্যামলেটসকে আজকের এই মহান বরোতে পরিণত করেছেন।”

১৯৩০-এর দশক ও ১৯৪০-এর দশকের শুরুর সময়কে বিশ্ব ইতিহাসের ভয়াবহ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মোসলে সারা দেশে তাণ্ডব চালিয়েছিলেন এবং টাওয়ার হ্যামলেটসেও তা করার চেষ্টা করেছিলেন। লুৎফুর রহমান বলেন, তাদের পূর্বপুরুষরা বলেছিলেন, “না, তোমরা এখানে আসতে পারবে না। তোমাদের অতিক্রম করতে দেওয়া হবে না।” তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেই প্রতিরোধের বার্তাই আজও পুনরাবৃত্তি করা হচ্ছে।

ইসলিংটন নর্থের এমপি ও সাবেক লেবার নেতা জেরেমি করবিন বর্তমান সময়ের বর্ণবাদী ভাষা নিয়ে সমালোচনা করেন। ফারাজ, রিফর্ম ও অন্য রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে শরণার্থী ও অভিবাসীদের দায়ী করার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “বর্ণবাদবিরোধিতা মানে আমরা বর্ণবাদের প্রতিটি রূপের বিরোধিতা করি, সেটি যে রূপেই হোক, যেখানেই মাথা তুলুক না কেন।”

তিনি বলেন, বর্ণবাদ সমাজের দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় ঐক্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, “আজ আমরা আবারও বলছি: ফ্যাসিস্টরা, উগ্র ডানপন্থীরা, কখনোই টাওয়ার হ্যামলেটসে তাণ্ডব চালাতে পারবে না।”

প্রাথমিক সমাবেশটি পরিচালনা করেন জিএফটিইউ-এর গাওয়াইন লিটল ও এসইউটিআরের সামিরা আলী। বক্তাদের মধ্যে ছিলেন লুৎফুর রহমান, স্টিভ রাইট, মাইকেল রোজেন, মেগান ডবনি ও তাজ আলী।

সেন্ট জর্জেস গার্ডেনসের চূড়ান্ত সমাবেশ যৌথভাবে পরিচালনা করেন জিউইশ সোশ্যালিস্ট গ্রুপের ডেভিড রোজেনবার্গ, সিপিবির লোরেন ডগলাস ও স্বাধীনতা ট্রাস্টের জুলি বেগম।

সেখানে বক্তব্য দেন সিপিবির অ্যালেক্স গর্ডন ও রব গ্রিফিথস এবং কেবল স্ট্রিটের যুদ্ধে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য রুথ লেভিটাস, মাইকেল রোজেন, টনি বুথ, জুন লেগ ও মিশেল কার্টার। এছাড়া জেরেমি করবিন, পপলার অ্যান্ড লাইমহাউসের এমপি আপসানা বেগম, আলতাব আলী ফাউন্ডেশনের জালাল রাজনউদ্দিন, জিউইশ সোশ্যালিস্ট গ্রুপের জুলিয়া বার্ড, স্ট্যান্ড আপ টু রেসিজমের ওয়েম্যান বেনেট এবং টুগেদার অ্যালায়েন্সের কেভিন কোর্টনি বক্তব্য দেন। বোগোতা, ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি ও আয়ারল্যান্ড থেকেও আন্তর্জাতিক বক্তারা অংশ নেন।

চূড়ান্ত সমাবেশে আরএমটি, ইউনিসন, ইউনাইট, পিসিএস, এনইইউ, জিএফটিইউ, টিইউসি, এফবিইউ এবং টাওয়ার হ্যামলেটস ট্রেডস কাউন্সিলসহ বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করে গ্রেট ইয়িদিশ প্যারেড, আরএমটি ফিশবার্ন কলিয়ারি ব্যান্ড, ইয়াং ‘আনস, মাইকেল রোজেন ও চিপ হ্যামার।

কেবল স্ট্রিটের ঐতিহাসিক ঘটনাটি ইস্ট এন্ডের অভিবাসী ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে স্মরণ করা হয়। ১৯৩৬ সালে স্থানীয় ইহুদি বাসিন্দাদের পাশাপাশি আইরিশ শ্রমিক, ট্রেড ইউনিয়নকর্মী ও অন্যান্য স্থানীয় জনগোষ্ঠী মোসলির ফ্যাসিস্টদের মিছিল প্রতিহত করতে একত্র হয়েছিলেন।

পরবর্তী দশকগুলোতেও ইস্ট এন্ডে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতা দেখা গেছে। ১৯৭০-এর দশকে ন্যাশনাল ফ্রন্টের তৎপরতার বিরুদ্ধে স্থানীয় বিভিন্ন কমিউনিটি একত্র হয়েছিল। বর্তমানেও বিভিন্ন ইহুদি, বাঙালি, ভারতীয়, পাকিস্তানি, আইরিশ, সোমালি, আরব ও অন্যান্য অভিবাসী ও স্থানীয় কমিউনিটির সংগঠনগুলো বর্ণবাদ ও উগ্র ডানপন্থার বিরুদ্ধে সম্মিলিত অবস্থানের কথা তুলে ধরছে।

কেবল স্ট্রিটের ৯০তম বার্ষিকীর কর্মসূচিতে তাই ১৯৩৬ সালের ঘটনাকে স্মরণ করার পাশাপাশি বর্তমান সময়ে বর্ণবাদ, অভিবাসীবিরোধী রাজনীতি ও উগ্র ডানপন্থার বিরুদ্ধে বিভিন্ন কমিউনিটি ও সংগঠনের ঐক্যের বার্তা উঠে আসে।

❤️
👏
🙂
😞

লন্ডনে কেবল স্ট্রিটের ৯০তম বার্ষিকীতে বর্ণবাদ ও উগ্র ডানপন্থার বিরুদ্ধে হাজারো মানুষের মিছিল

প্রকাশঃ ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৪২

লন্ডন, ৬ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা) – ১৯৩৬ সালের ঐতিহাসিক কেবল স্ট্রিটের বর্ণবাদবিরোধী প্রতিরোধের ৯০তম বার্ষিকী উপলক্ষে রোববার ৪ অক্টোবর লন্ডনের ইস্ট এন্ডে হাজার হাজার মানুষ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন। টাওয়ার হ্যামলেটস টাউন হল থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি কেবল স্ট্রিটের সেন্ট জর্জেস গার্ডেনস পর্যন্ত যায়। কর্মসূচি থেকে ফ্যাসিবাদ, বর্ণবাদ ও উগ্র ডানপন্থার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

১৯৩৬ সালের ৪ অক্টোবর ওসওয়াল্ড মোসলির নেতৃত্বাধীন ব্রিটিশ ইউনিয়ন অব ফ্যাসিস্টসের মিছিল ইস্ট এন্ডের মধ্য দিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। সে সময় এলাকাটিতে বড় একটি ইহুদি জনগোষ্ঠীর বসবাস ছিল। ফ্যাসিস্টদের ওই মিছিলকে পরিকল্পিত উসকানি হিসেবে দেখেছিল ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগঠনগুলো। স্থানীয় বাসিন্দা, ট্রেড ইউনিয়ন ও বিভিন্ন ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগঠনের হাজার হাজার মানুষ একত্র হয়ে মিছিলটি ঠেকিয়ে দেন। ঐতিহাসিক ওই ঘটনাই পরে ‘কেবল স্ট্রিটের যুদ্ধ’ নামে পরিচিত হয়।

৯০তম বার্ষিকীর কর্মসূচিতে মিছিলকারীরা ‘উগ্র ডানপন্থাকে থামাও’সহ বিভিন্ন স্লোগান ও ব্যানার বহন করেন। মিছিলের সামনের বড় একটি ব্যানারে ইহুদিবিদ্বেষ, ইসলামবিদ্বেষ ও সব ধরনের বর্ণবাদের বিরুদ্ধে অবস্থানের কথা তুলে ধরা হয়। ‘১৯৩৬ সালে তারা পার হতে পারেনি, ২০২৬ সালেও পারবে না’ এমন বার্তাও ছিল ব্যানারে।

কেবল স্ট্রিট ৯০ ব্যানারের নেতৃত্বে আয়োজিত মিছিলে টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র লুৎফুর রহমান, বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ট্রেড ইউনিয়ন নেতা, কমিউনিটি সংগঠনের প্রতিনিধি এবং কেবল স্ট্রিটের ঐতিহাসিক ঘটনায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।

মিছিলের সামনে ছিল গ্রেট ইয়িদিশ প্যারেডের ক্লেজমার মার্চিং ব্যান্ড। এরপর ছিল জিউইশ ব্লক, বেঙ্গলি ব্লক, আইরিশ ব্লক ও আন্তর্জাতিক ব্লক। বেঙ্গলি ব্লকে আলতাব আলী ফাউন্ডেশন, স্বাধীনতা ট্রাস্ট, আলতাব আলী ট্রাস্ট, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স কাউন্সিলসহ বিভিন্ন সংগঠন অংশ নেয়। টাওয়ার হ্যামলেটসের স্থানীয় বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠন, আন্তর্জাতিক ব্রিগেডস মেমোরিয়াল ট্রাস্ট, বর্ণবাদ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগঠন এবং ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাও মিছিলে ছিলেন।

টাওয়ার হ্যামলেটস টাউন হলে সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির শুরু হয়। উদ্বোধনী বক্তব্যের পর মিছিলটি কেবল স্ট্রিটের দিকে যাত্রা করে। কর্মসূচির শেষ পর্বে সেন্ট জর্জেস গার্ডেনসে বক্তৃতা, কবিতা ও সংগীত পরিবেশন করা হয়। আয়োজকদের প্রকাশিত কর্মসূচি অনুযায়ী, চূড়ান্ত সমাবেশে বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন, রাজনৈতিক ও কমিউনিটি সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

সমাবেশে টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “অভিবাসন, অভিবাসী এবং এই এলাকার আদি বাসিন্দারা সবাই মিলে টাওয়ার হ্যামলেটসকে আজকের এই মহান বরোতে পরিণত করেছেন।”

১৯৩০-এর দশক ও ১৯৪০-এর দশকের শুরুর সময়কে বিশ্ব ইতিহাসের ভয়াবহ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মোসলে সারা দেশে তাণ্ডব চালিয়েছিলেন এবং টাওয়ার হ্যামলেটসেও তা করার চেষ্টা করেছিলেন। লুৎফুর রহমান বলেন, তাদের পূর্বপুরুষরা বলেছিলেন, “না, তোমরা এখানে আসতে পারবে না। তোমাদের অতিক্রম করতে দেওয়া হবে না।” তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেই প্রতিরোধের বার্তাই আজও পুনরাবৃত্তি করা হচ্ছে।

ইসলিংটন নর্থের এমপি ও সাবেক লেবার নেতা জেরেমি করবিন বর্তমান সময়ের বর্ণবাদী ভাষা নিয়ে সমালোচনা করেন। ফারাজ, রিফর্ম ও অন্য রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে শরণার্থী ও অভিবাসীদের দায়ী করার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “বর্ণবাদবিরোধিতা মানে আমরা বর্ণবাদের প্রতিটি রূপের বিরোধিতা করি, সেটি যে রূপেই হোক, যেখানেই মাথা তুলুক না কেন।”

তিনি বলেন, বর্ণবাদ সমাজের দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় ঐক্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, “আজ আমরা আবারও বলছি: ফ্যাসিস্টরা, উগ্র ডানপন্থীরা, কখনোই টাওয়ার হ্যামলেটসে তাণ্ডব চালাতে পারবে না।”

প্রাথমিক সমাবেশটি পরিচালনা করেন জিএফটিইউ-এর গাওয়াইন লিটল ও এসইউটিআরের সামিরা আলী। বক্তাদের মধ্যে ছিলেন লুৎফুর রহমান, স্টিভ রাইট, মাইকেল রোজেন, মেগান ডবনি ও তাজ আলী।

সেন্ট জর্জেস গার্ডেনসের চূড়ান্ত সমাবেশ যৌথভাবে পরিচালনা করেন জিউইশ সোশ্যালিস্ট গ্রুপের ডেভিড রোজেনবার্গ, সিপিবির লোরেন ডগলাস ও স্বাধীনতা ট্রাস্টের জুলি বেগম।

সেখানে বক্তব্য দেন সিপিবির অ্যালেক্স গর্ডন ও রব গ্রিফিথস এবং কেবল স্ট্রিটের যুদ্ধে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য রুথ লেভিটাস, মাইকেল রোজেন, টনি বুথ, জুন লেগ ও মিশেল কার্টার। এছাড়া জেরেমি করবিন, পপলার অ্যান্ড লাইমহাউসের এমপি আপসানা বেগম, আলতাব আলী ফাউন্ডেশনের জালাল রাজনউদ্দিন, জিউইশ সোশ্যালিস্ট গ্রুপের জুলিয়া বার্ড, স্ট্যান্ড আপ টু রেসিজমের ওয়েম্যান বেনেট এবং টুগেদার অ্যালায়েন্সের কেভিন কোর্টনি বক্তব্য দেন। বোগোতা, ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি ও আয়ারল্যান্ড থেকেও আন্তর্জাতিক বক্তারা অংশ নেন।

চূড়ান্ত সমাবেশে আরএমটি, ইউনিসন, ইউনাইট, পিসিএস, এনইইউ, জিএফটিইউ, টিইউসি, এফবিইউ এবং টাওয়ার হ্যামলেটস ট্রেডস কাউন্সিলসহ বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করে গ্রেট ইয়িদিশ প্যারেড, আরএমটি ফিশবার্ন কলিয়ারি ব্যান্ড, ইয়াং ‘আনস, মাইকেল রোজেন ও চিপ হ্যামার।

কেবল স্ট্রিটের ঐতিহাসিক ঘটনাটি ইস্ট এন্ডের অভিবাসী ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে স্মরণ করা হয়। ১৯৩৬ সালে স্থানীয় ইহুদি বাসিন্দাদের পাশাপাশি আইরিশ শ্রমিক, ট্রেড ইউনিয়নকর্মী ও অন্যান্য স্থানীয় জনগোষ্ঠী মোসলির ফ্যাসিস্টদের মিছিল প্রতিহত করতে একত্র হয়েছিলেন।

পরবর্তী দশকগুলোতেও ইস্ট এন্ডে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতা দেখা গেছে। ১৯৭০-এর দশকে ন্যাশনাল ফ্রন্টের তৎপরতার বিরুদ্ধে স্থানীয় বিভিন্ন কমিউনিটি একত্র হয়েছিল। বর্তমানেও বিভিন্ন ইহুদি, বাঙালি, ভারতীয়, পাকিস্তানি, আইরিশ, সোমালি, আরব ও অন্যান্য অভিবাসী ও স্থানীয় কমিউনিটির সংগঠনগুলো বর্ণবাদ ও উগ্র ডানপন্থার বিরুদ্ধে সম্মিলিত অবস্থানের কথা তুলে ধরছে।

কেবল স্ট্রিটের ৯০তম বার্ষিকীর কর্মসূচিতে তাই ১৯৩৬ সালের ঘটনাকে স্মরণ করার পাশাপাশি বর্তমান সময়ে বর্ণবাদ, অভিবাসীবিরোধী রাজনীতি ও উগ্র ডানপন্থার বিরুদ্ধে বিভিন্ন কমিউনিটি ও সংগঠনের ঐক্যের বার্তা উঠে আসে।