ঢাকা ০৯:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জবাইয়ে কড়াকড়ির প্রভাব পশ্চিমবঙ্গে, চিড়িয়াখানার বাঘের খাদ্য সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০৯:০৭:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
  • / 4

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে গরু ও মহিষ জবাইয়ে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের প্রভাব পড়েছে চিড়িয়াখানা ও সাফারি পার্কের মাংসাশী প্রাণীদের ওপর। সংকটের কারণে বাঘ, চিতাবাঘসহ বিভিন্ন প্রাণীর জন্য প্রয়োজনীয় গরু ও মহিষের মাংস সংগ্রহে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ETV Bharat-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জবাইয়ে কড়াকড়ির ফলে গরু ও মহিষের মাংসের দাম প্রতি কেজিতে ১৫০ থেকে ২০০ রুপি পর্যন্ত বেড়েছে। একইসঙ্গে সরবরাহও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

এ অবস্থায় চিড়িয়াখানাগুলোতে বিকল্প হিসেবে মুরগি, ছাগল ও শূকরের মাংস ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে এতে ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি প্রাণীদের স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সাফারি পার্ক সূত্রে জানা গেছে, সেখানে ১১টি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, তিনটি চিতাবাঘ, কুমির ও ঘড়িয়ালসহ ২৫টির বেশি মাংসাশী প্রাণী রয়েছে। এসব প্রাণীর জন্য প্রতিদিন প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০ কেজি গরু ও মহিষের মাংস প্রয়োজন হয়। একটি পূর্ণবয়স্ক বাঘকে দৈনিক ৮ থেকে ১০ কেজি মাংস খাওয়ানো হয়।

এতদিন নকশালবাড়ি এলাকা থেকে নিয়মিত মাংস সরবরাহ করা হলেও নতুন বিধিনিষেধের কারণে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

প্রাণিবিষয়ক সংগঠন ‘সলিটরি নেচার অ্যান্ড অ্যানিম্যাল প্রোটেকশন’-এর সম্পাদক কৌস্তভ চৌধুরী বলেন, “বাঘ বা চিতাবাঘের মতো প্রাণীর শারীরিক শক্তি ও স্বাভাবিক প্রবৃত্তির জন্য গরু বা মহিষের মাংস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা বনে নেই যে নিজেরা শিকার করবে। তাই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।”

অন্যদিকে আলিপুর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের প্রতিটি বাঘ ও আমেরিকান চিতার জন্য দৈনিক ১০ থেকে ১২ কেজি লাল মাংস প্রয়োজন হয়। শীতকালে এ চাহিদা আরও বেড়ে যায়।

চিড়িয়াখানাটির প্রধান কর্মকর্তা তৃপ্তি শাহ বলেন, “শুধু মুরগির মাংস দিয়ে সারা বছর এসব প্রাণীর খাদ্যচাহিদা পূরণ সম্ভব নয়। উদ্ভূত পরিস্থিতি সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সম্প্রতি ভারতীয় জনতা পার্টি-নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যে গরু ও মহিষ জবাইয়ের ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কসাইখানা ও সরকারি অনুমতি ছাড়া গরু বা মহিষ জবাই করা যাবে না। এছাড়া জবাইয়ের জন্য গরুর বয়স কমপক্ষে ১৪ বছর হতে হবে এবং প্রাণীটি কর্মক্ষম বা প্রজননক্ষম না হওয়ার শর্তও যুক্ত করা হয়েছে।

প্রাসঙ্গিক

শেয়ার করুন

জবাইয়ে কড়াকড়ির প্রভাব পশ্চিমবঙ্গে, চিড়িয়াখানার বাঘের খাদ্য সংকট

প্রকাশঃ ০৯:০৭:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে গরু ও মহিষ জবাইয়ে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের প্রভাব পড়েছে চিড়িয়াখানা ও সাফারি পার্কের মাংসাশী প্রাণীদের ওপর। সংকটের কারণে বাঘ, চিতাবাঘসহ বিভিন্ন প্রাণীর জন্য প্রয়োজনীয় গরু ও মহিষের মাংস সংগ্রহে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ETV Bharat-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জবাইয়ে কড়াকড়ির ফলে গরু ও মহিষের মাংসের দাম প্রতি কেজিতে ১৫০ থেকে ২০০ রুপি পর্যন্ত বেড়েছে। একইসঙ্গে সরবরাহও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

এ অবস্থায় চিড়িয়াখানাগুলোতে বিকল্প হিসেবে মুরগি, ছাগল ও শূকরের মাংস ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে এতে ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি প্রাণীদের স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সাফারি পার্ক সূত্রে জানা গেছে, সেখানে ১১টি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, তিনটি চিতাবাঘ, কুমির ও ঘড়িয়ালসহ ২৫টির বেশি মাংসাশী প্রাণী রয়েছে। এসব প্রাণীর জন্য প্রতিদিন প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০ কেজি গরু ও মহিষের মাংস প্রয়োজন হয়। একটি পূর্ণবয়স্ক বাঘকে দৈনিক ৮ থেকে ১০ কেজি মাংস খাওয়ানো হয়।

এতদিন নকশালবাড়ি এলাকা থেকে নিয়মিত মাংস সরবরাহ করা হলেও নতুন বিধিনিষেধের কারণে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

প্রাণিবিষয়ক সংগঠন ‘সলিটরি নেচার অ্যান্ড অ্যানিম্যাল প্রোটেকশন’-এর সম্পাদক কৌস্তভ চৌধুরী বলেন, “বাঘ বা চিতাবাঘের মতো প্রাণীর শারীরিক শক্তি ও স্বাভাবিক প্রবৃত্তির জন্য গরু বা মহিষের মাংস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা বনে নেই যে নিজেরা শিকার করবে। তাই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।”

অন্যদিকে আলিপুর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের প্রতিটি বাঘ ও আমেরিকান চিতার জন্য দৈনিক ১০ থেকে ১২ কেজি লাল মাংস প্রয়োজন হয়। শীতকালে এ চাহিদা আরও বেড়ে যায়।

চিড়িয়াখানাটির প্রধান কর্মকর্তা তৃপ্তি শাহ বলেন, “শুধু মুরগির মাংস দিয়ে সারা বছর এসব প্রাণীর খাদ্যচাহিদা পূরণ সম্ভব নয়। উদ্ভূত পরিস্থিতি সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সম্প্রতি ভারতীয় জনতা পার্টি-নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যে গরু ও মহিষ জবাইয়ের ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কসাইখানা ও সরকারি অনুমতি ছাড়া গরু বা মহিষ জবাই করা যাবে না। এছাড়া জবাইয়ের জন্য গরুর বয়স কমপক্ষে ১৪ বছর হতে হবে এবং প্রাণীটি কর্মক্ষম বা প্রজননক্ষম না হওয়ার শর্তও যুক্ত করা হয়েছে।