ঢাকা ০৫:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩ লাখ কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বাড়তি গুরুত্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০৪:০৯:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
  • / 4

দেশের ইতিহাসে এই প্রথম বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার তিন লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ কোটি টাকার মূল এডিপি অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন ব্যয় যুক্ত হলে সার্বিক এডিপির আকার দাঁড়াবে প্রায় ৩ লাখ ৮ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।

সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এনইসি সভায় নতুন এডিপি অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

নতুন এডিপিতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া শীর্ষ পাঁচটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় রয়েছে। এসব খাতে আগের তুলনায় বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।

এডিপির নথি অনুযায়ী, মূল কর্মসূচির অর্থায়নের মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে জোগান দেওয়া হবে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্প সহায়তা হিসেবে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পাওয়া যাবে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। নতুন এডিপিতে মোট প্রকল্পের সংখ্যা ১ হাজার ১০৫।

সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা তদারকিতে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে ড্যাশবোর্ড চালু করা হবে। কোনো প্রকল্পের অগ্রগতি সন্তোষজনক না হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, এডিপি থেকে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাদ দেওয়ার জন্য পর্যালোচনা চলছে। পাশাপাশি প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করা হবে। প্রয়োজনীয় দক্ষতা ছাড়া কাউকে প্রকল্প পরিচালক করা হবে না বলেও জানান তিনি।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অতীতে প্রকল্প পরিচালকদের বিরুদ্ধে বহু দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। এ কারণে জবাবদিহি ও দক্ষতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এডিপি অতিরিক্ত উচ্চাভিলাষী কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সরকারের উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকতে হয়। তাঁর ভাষায়, অতীত সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতিতে বিনিয়োগ প্রয়োজন। সে কারণেই বড় আকারের এডিপি নেওয়া হয়েছে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি।

এনইসি সভায় আগামী পাঁচ বছরের জন্য সংস্কার ও উন্নয়নের কৌশলকাঠামোও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বরাদ্দে শীর্ষে যে পাঁচ মন্ত্রণালয়

নতুন এডিপিতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ বিভাগের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৩ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। এ খাতে বরাদ্দ ৩০ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২৬ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা।

চতুর্থ অবস্থানে থাকা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২০ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা।

পঞ্চম সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৯ হাজার ৪৪১ কোটি টাকা।

শেয়ার করুন

৩ লাখ কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বাড়তি গুরুত্ব

প্রকাশঃ ০৪:০৯:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

দেশের ইতিহাসে এই প্রথম বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার তিন লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ কোটি টাকার মূল এডিপি অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন ব্যয় যুক্ত হলে সার্বিক এডিপির আকার দাঁড়াবে প্রায় ৩ লাখ ৮ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।

সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এনইসি সভায় নতুন এডিপি অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

নতুন এডিপিতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া শীর্ষ পাঁচটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় রয়েছে। এসব খাতে আগের তুলনায় বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।

এডিপির নথি অনুযায়ী, মূল কর্মসূচির অর্থায়নের মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে জোগান দেওয়া হবে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্প সহায়তা হিসেবে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পাওয়া যাবে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। নতুন এডিপিতে মোট প্রকল্পের সংখ্যা ১ হাজার ১০৫।

সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা তদারকিতে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে ড্যাশবোর্ড চালু করা হবে। কোনো প্রকল্পের অগ্রগতি সন্তোষজনক না হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, এডিপি থেকে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প বাদ দেওয়ার জন্য পর্যালোচনা চলছে। পাশাপাশি প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করা হবে। প্রয়োজনীয় দক্ষতা ছাড়া কাউকে প্রকল্প পরিচালক করা হবে না বলেও জানান তিনি।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অতীতে প্রকল্প পরিচালকদের বিরুদ্ধে বহু দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। এ কারণে জবাবদিহি ও দক্ষতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এডিপি অতিরিক্ত উচ্চাভিলাষী কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সরকারের উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকতে হয়। তাঁর ভাষায়, অতীত সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতিতে বিনিয়োগ প্রয়োজন। সে কারণেই বড় আকারের এডিপি নেওয়া হয়েছে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি।

এনইসি সভায় আগামী পাঁচ বছরের জন্য সংস্কার ও উন্নয়নের কৌশলকাঠামোও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বরাদ্দে শীর্ষে যে পাঁচ মন্ত্রণালয়

নতুন এডিপিতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ বিভাগের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৩ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। এ খাতে বরাদ্দ ৩০ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২৬ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা।

চতুর্থ অবস্থানে থাকা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২০ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা।

পঞ্চম সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৯ হাজার ৪৪১ কোটি টাকা।