এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলারের ফি বহাল রাখতে আদালতে ট্রাম্প প্রশাসন
- প্রকাশঃ ১০:৪৮:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
- / 5
গ্রাফিক্স: প্রজন্ম কথা
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসার জন্য আরোপিত ১ লাখ ডলারের ফি বহাল রাখতে নতুন আইনি লড়াই শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ফেডারেল আদালত সম্প্রতি এই ফিকে ‘অননুমোদিত কর’ আখ্যা দিয়ে বাতিলের রায় দিলেও প্রশাসনের দাবি, এটি কোনো কর নয়; অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে বৈধভাবে আরোপিত একটি ফি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বোস্টনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট সার্কিট কোর্ট অব আপিলসে জমা দেওয়া এক আবেদনে দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) আদালতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, আপিলের শুনানি চলাকালে ১ লাখ ডলারের এই ফি কার্যকর রাখা হোক।
ডিএইচএসের দাবি, ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রেসিডেন্টকে বিদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে বিস্তৃত ক্ষমতা দিয়েছে। সেই ক্ষমতার আওতায় এই ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে নিম্ন আদালত এটিকে ‘অননুমোদিত কর’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত দিয়েছে বলে মনে করছে প্রশাসন।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী ঘোষণার মাধ্যমে নতুন এইচ-১বি আবেদনকারীদের জন্য ১ লাখ ডলারের ফি চালু করেন। ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্য ছিল, এর মাধ্যমে বিদেশি শ্রমিকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমবে এবং মার্কিন নাগরিকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।
এইচ-১বি কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য বিশেষায়িত খাতে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগ করতে পারে। প্রতিবছর হাজার হাজার ভারতীয়, বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের পেশাজীবী এই ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ পান।
আদালতে দেওয়া আবেদনে ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তি দিয়েছে, ফি কার্যকর না থাকলে প্রেসিডেন্টের অভিবাসন নীতির বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হবে। তাদের মতে, প্রতিদিন নতুন আবেদনকারীরা এই ফি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন, যা প্রশাসনের ঘোষিত নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ডিএইচএস আরও বলেছে, পরবর্তীতে সরকার আপিলে জয়ী হলেও ইতোমধ্যে ভিসা পাওয়া ব্যক্তিদের অনুমোদন বাতিল করা কিংবা তাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে দেওয়া বাস্তবিকভাবে অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।
এই আইনি বিরোধের সূত্রপাত হয় যখন ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত ২০টি অঙ্গরাজ্য ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত ফি চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা করে। গত ৮ জুন ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক লিও সোরোকিন ফি বাতিলের রায় দেন।
রায়ে বিচারক বলেন, কর আরোপের সাংবিধানিক ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত। প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে এমন উচ্চ অঙ্কের ফি আরোপ করে কার্যত কর আদায়ের চেষ্টা করেছেন, যা ক্ষমতার বিভাজন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তবে রায় ঘোষণার কয়েকদিন পর বিচারক সোরোকিন আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার রায়ের কার্যকারিতা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে সম্মত হন। ফলে বর্তমানে ফিটির চূড়ান্ত ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আপিল আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর।
এদিকে এইচ-১বি ফি নিয়ে আরও অন্তত দুটি মামলা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। একটি মামলার শুনানি চলছে ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া সার্কিট কোর্ট অব আপিলসে এবং অন্যটি ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় ফেডারেল আদালতে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরের জন্য জমা পড়া প্রায় ২ লাখ ৮৬ হাজার এইচ-১বি আবেদনের মধ্যে ২ লাখের বেশি আবেদনের সঙ্গে ১ লাখ ডলারের ফি জমা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এসব আবেদন তুলনামূলক দ্রুত প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই ফি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থানরত নতুন এইচ-১বি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যারা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং ভিসা নবায়ন বা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করছেন, তাদের অধিকাংশই এই অতিরিক্ত ফি থেকে অব্যাহতি পাচ্ছেন।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, আপিল আদালতের রায় এইচ-১বি কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের পাশাপাশি কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট কতটা আর্থিক বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যবসায়িক সংগঠন এবং অভিবাসন অধিকারকর্মীরা এখন আপিল আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখছেন। আদালত যদি ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে রায় দেয়, তাহলে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নতুন এইচ-১বি আবেদনকারীদের কাছ থেকে ১ লাখ ডলারের ফি আদায় অব্যাহত থাকতে পারে। বিপরীত সিদ্ধান্ত এলে ফি কার্যকর রাখার প্রশাসনের পরিকল্পনা বড় ধাক্কার মুখে পড়বে।











