ফিফায় নেতৃত্ব বদলের আভাস? ইনফান্তিনোর পর কে হতে পারেন সভাপতি
- প্রকাশঃ ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬:০২
- / 7
ফিফার বিতর্কিত বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পা প্রত্যাহারের পর সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। বিশ্বকাপ ও অন্যান্য ফিফা প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক অধিকার আংশিকভাবে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পা বাতিল হওয়ায় বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাৎক্ষণিক শঙ্কা অনেকটাই কমেছে। তবে এই ঘটনার পর ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং আগামী মার্চে অনুষ্ঠিতব্য সভাপতি নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে।
বিনিয়োগ পরিকল্পাকে কেন্দ্র করে ফিফা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরো পদত্যাগ করেন। একই সময়ে ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) কেভিন লামুর অভিযোগ করেন, পরিকল্পাটি নিয়ে ইনফান্তিনো কর্মীদের বিভ্রান্ত করেছিলেন।
এদিকে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা জানিয়েছে, তারা ইনফান্তিনোর প্রতি আস্থা হারিয়েছে। ফলে আগামী বছরের ১৮ মার্চ মরক্কোয় অনুষ্ঠেয় ফিফা সভাপতি নির্বাচন দীর্ঘ সময় পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আলোচনায় যেসব সম্ভাব্য প্রার্থী

নাসের আল-খেলাইফি (পিএসজি সভাপতি)
সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নাম প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের (পিএসজি) সভাপতি নাসের আল-খেলাইফি।
৫২ বছর বয়সী কাতারি এই ক্রীড়া প্রশাসক ২০১১ সাল থেকে পিএসজির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি একই সঙ্গে beIN Media Group-এর চেয়ারম্যান, ইউরোপিয়ান ক্লাবস সংগঠনের চেয়ারম্যান, উয়েফার নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং ফিফা কাউন্সিলের সদস্য।
তার নেতৃত্বে পিএসজি ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতে এবং ২০২৬ সালে শিরোপা ধরে রাখে।

ভিক্টর মন্টাগলিয়ানি (কনকাকাফ সভাপতি)
ফিফার বর্তমান সহসভাপতিদের একজন এবং কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্টাগলিয়ানি সম্ভাব্য শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
৬০ বছর বয়সী কানাডীয় এই কর্মকর্তা ২০১৬ সাল থেকে কনকাকাফের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক কানাডার ফুটবল প্রশাসনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
ফিফার বিনিয়োগ পরিকল্পার বিরোধিতা করলেও কনকাকাফ উয়েফার মতো বয়কটের অবস্থান নেয়নি। তবে বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি তিনি বিবেচনা করছেন।

শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা (এএফসি সভাপতি)
এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সভাপতি এবং ফিফার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফাও সম্ভাব্য প্রার্থীদের একজন।
বাহরাইনের এই ক্রীড়া প্রশাসক ফিফার বিনিয়োগ পরিকল্পাকে প্রকাশ্যে “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেন।
২০১৬ সালের ফিফা সভাপতি নির্বাচনে তিনি ইনফান্তিনোর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। আগামী নির্বাচনে তিনি আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।’

আলেকসান্দার চেফেরিন (উয়েফা সভাপতি)
উয়েফা সভাপতি আলেকসান্দার চেফেরিনকেও সম্ভাব্য শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে।
৫৮ বছর বয়সী স্লোভেনিয়ার এই আইনজীবী ২০১৬ সাল থেকে উয়েফার সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি ফিফার সহসভাপতির দায়িত্বও পান।
ফিফার বিনিয়োগ পরিকল্পার কঠোর সমালোচনা করে উয়েফা জানায়, “বিশ্বকাপ বিক্রির জন্য নয়” এবং এ ধরনের উদ্যোগ ফুটবলের “আত্মা” বিক্রির শামিল। শনিবার সংস্থাটি আরও জানায়, তারা ইনফান্তিনোর প্রতি আস্থা হারিয়েছে এবং ফিফার প্রতি বিশ্বাস পুনর্গঠনের কাজ শুরু করা প্রয়োজন।

প্যাট্রিস মোৎসেপে (ক্যাফ সভাপতি)
আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের (ক্যাফ) সভাপতি প্যাট্রিস মোৎসেপেকেও সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার এই ব্যবসায়ী ২০২১ সাল থেকে ক্যাফের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক আফ্রিকা কাপ অব নেশনস (আফকন) ফাইনালকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক বর্তমানে কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টসে (সিএএস) বিচারাধীন রয়েছে, যা তার সম্ভাব্য প্রার্থিতার আলোচনায়ও উঠে আসছে।
নির্বাচন সামনে
ফিফা সভাপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার শেষ সময় আগামী ১৮ নভেম্বর। ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী বছরের ১৮ মার্চ মরক্কোয়।
সাম্প্রতিক বিনিয়োগ পরিকল্পা ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কের পর কয়েক দিন আগেও একক প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবার প্রথমবারের মতো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে পারেন বলে ফুটবল অঙ্গনে আলোচনা চলছে।

















