যুক্তরাষ্ট্রের স্টুডেন্ট ভিসা: নতুন নিয়মে কী বদলেছে, আবেদনকারীদের যা জানা জরুরি
- প্রকাশঃ ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৪:৫০
- / 6
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে প্রতিবছর হাজারো বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এফ-১ (F-1) স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন, আই-২০ সংগ্রহ, আর্থিক নথি প্রস্তুত এবং সাক্ষাৎকারের মতো বিভিন্ন ধাপ পার হওয়ার পর ভিসা অনুমোদনই হয়ে ওঠে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সম্প্রতি ভিসা প্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তনের কারণে অনেক আবেদনকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য, দূতাবাসে অতিরিক্ত নথি পাঠানো এবং ভিসা সাপোর্ট সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়গুলো নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়ছেন।
আবেদনকারীদের জন্য এসব পরিবর্তন সম্পর্কে আগে থেকেই পরিষ্কার ধারণা থাকলে পুরো ভিসা প্রক্রিয়া অনেক সহজ হতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য: ব্যবহৃত সব অ্যাকাউন্ট উল্লেখ করা জরুরি
সাম্প্রতিক নীতিমালার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হলো আবেদনকারীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য প্রদান। ডিএস-১৬০ (DS-160) ফর্ম পূরণের সময় আবেদনকারীকে গত পাঁচ বছরে ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টের তথ্য দিতে হয়।
অনেকের ধারণা, নিজের পরিচয় প্রকাশ করা নেই বা অ্যানোনিমাসভাবে ব্যবহৃত কোনো অ্যাকাউন্ট উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। তবে আবেদনকারী যেসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেছেন, সেগুলোর হ্যান্ডেল বা পরিচিতি যথাযথভাবে উল্লেখ করাই নিরাপদ। কোনো অ্যাকাউন্ট ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করলে ভবিষ্যতে জটিলতা তৈরি হতে পারে। কারণ, ভিসা কর্মকর্তারা আবেদনপত্রে দেওয়া তথ্যের স্বচ্ছতা ও সত্যতা যাচাই করেন। সাধারণভাবে ডিএস-১৬০ ফর্মে সংশ্লিষ্ট সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল বা ইউজারনেম উল্লেখ করতে হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মধ্যে সাধারণত ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, এক্স (সাবেক টুইটার) এবং পিনটারেস্ট অন্তর্ভুক্ত থাকে। আবেদনকারীদের উচিত ডিএস-১৬০ ফর্ম পূরণের আগে কোন কোন প্ল্যাটফর্ম এই তালিকার আওতায় পড়ে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া। পাশাপাশি গত পাঁচ বছরের মধ্যে ব্যবহৃত বা পরবর্তীতে মুছে ফেলা কোনো অ্যাকাউন্ট থাকলে সেটিও প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী উল্লেখ করা উচিত।
দূতাবাসে অতিরিক্ত তথ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে একই ই-মেইল ব্যবহার করুন
অনেক সময় ভিসা সাক্ষাৎকারের আগে বা পরে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস আবেদনকারীর কাছে অতিরিক্ত তথ্য বা নথি চেয়ে ই-মেইল পাঠায়। এ ক্ষেত্রে উত্তর দেওয়ার সময় আবেদনকারী যে ব্যক্তিগত ই-মেইল ঠিকানা দিয়ে ভিসার আবেদন করেছেন, সেই একই ই-মেইল ব্যবহার করা সবচেয়ে উপযুক্ত। এতে পরিচয় যাচাই সহজ হয় এবং যোগাযোগে বিভ্রান্তির সম্ভাবনা কমে।
অনেক দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা সেবা পরিচালনাকারী সিজিআই (CGI) পোর্টালে ফিডব্যাক বা রিকোয়েস্ট জমা দেওয়ার সুবিধাও রয়েছে। স্থানীয় নিয়মে এই সুবিধা থাকলে প্রয়োজনীয় তথ্য বা সমস্যার বর্ণনা ওই পোর্টালের মাধ্যমে পাঠানো কার্যকর হতে পারে। অনেক সময় ই-মেইল প্রযুক্তিগত কারণে গন্তব্যে না পৌঁছালেও পোর্টালে জমা দেওয়া অনুরোধ সফলভাবে সংরক্ষিত হয়।
কল সেন্টারে যোগাযোগ না হলে কী করবেন
ভিসা আবেদনকারীদের একটি সাধারণ অভিযোগ হলো, ব্যস্ত সময়ে কল সেন্টারে ফোন করেও অনেক সময় প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলা যায় না। এমন পরিস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে ইউএস ট্রাভেল ডকস (U.S. Travel Docs) ওয়েবসাইটের লাইভ চ্যাট সুবিধা ব্যবহার করা যেতে পারে।
ওয়েবসাইটে নিজের নাম ও ই-মেইল দিয়ে নির্ধারিত সময়ে লাইভ চ্যাটে যুক্ত হলে একজন প্রতিনিধির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব। এই মাধ্যমে সাক্ষাৎকার, নথিপত্র, অ্যাপয়েন্টমেন্ট, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বা প্রযুক্তিগত সমস্যা সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়। অনেক ক্ষেত্রে এটি ফোনের তুলনায় দ্রুত সমাধান দেয়। পাশাপাশি পুরো কথোপকথনের লিখিত রেকর্ড সংরক্ষিত থাকে, যা পরবর্তীতে প্রয়োজন হলে কাজে লাগতে পারে।
ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় তথ্যের যথার্থতা, নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আবেদনকারীরা যদি শুরু থেকেই এসব বিষয় সম্পর্কে সচেতন থাকেন, তাহলে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা এড়িয়ে ভিসা প্রক্রিয়া আরও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব।















