ট্রাম্পকে কাতারের উপহার দেওয়া ৪০ কোটি ডলারের উড়োজাহাজে কী আছে
- প্রকাশঃ ১২:৫২:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
- / 6
গ্রাফিক্স: প্রজন্ম কথা
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট পরিবহন বহরে নতুন একটি উড়োজাহাজ যুক্ত করেছে। কাতারের উপহার হিসেবে পাওয়া বিলাসবহুল ভিসি-২৫বি ‘ব্রিজ’ উড়োজাহাজটি ঘিরে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। নৈতিকতা, সংবিধান এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উড়োজাহাজটি গ্রহণ করেছেন।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, বিশেষ ক্ষমতা ও উন্নত নিরাপত্তা সুবিধাসম্পন্ন নতুন ভিসি-২৫বি ‘ব্রিজ’ উড়োজাহাজটি প্রেসিডেনশিয়াল এয়ারলিফট গ্রুপের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
প্রায় ৪০ কোটি ডলার মূল্যের এই বোয়িং ৭৪৭-৮আই উড়োজাহাজটির ইতিহাসও বেশ ব্যতিক্রমী। এটি মূলত কাতারের রাজপরিবারের ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। পরে সেটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ব্যবহারের জন্য অধিগ্রহণ করা হয় এবং কাতারের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে হস্তান্তর করা হয়।
প্রেসিডেন্টকে বহনের দায়িত্ব গ্রহণের আগে চূড়ান্ত ধাপের পরীক্ষার জন্য উড়োজাহাজটি মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে নেওয়া হয়েছে। সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন ও প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন কার্যক্রম চলবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ‘ব্রিজ’ উড়োজাহাজটি আনা হয়েছে বর্তমান ভিসি-২৫এ বহরের ওপর চাপ কমানোর উদ্দেশ্যে। একই সঙ্গে বোয়িংয়ের নতুন ভিসি-২৫বি উড়োজাহাজ পূর্ণাঙ্গভাবে সেবায় যুক্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের আকাশপথে যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে এটি ব্যবহার করা হবে।
কীভাবে এলো এই উড়োজাহাজ
এই উড়োজাহাজটি মূলত কাতারের শাসক পরিবার হাউস অব থানির জন্য একটি ‘বোয়িং বিজনেস জেট’ হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। পরে কাতারের আমির এটি যুক্তরাষ্ট্রকে উপহার দেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এয়ারফোর্স ওয়ান বহরে থাকা পুরোনো উড়োজাহাজগুলোর পরিবর্তে নতুন উড়োজাহাজ সরবরাহের জন্য ২০১৮ সালে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি করে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। তবে প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দীর্ঘ বিলম্বের মুখে পড়ে। ২০২৪ সালে সরবরাহের কথা থাকলেও তা পিছিয়ে ২০২৮ সাল পর্যন্ত গড়িয়েছে।
বিদেশি নেতারা যখন আধুনিক ও বৃহৎ উড়োজাহাজ ব্যবহার করছেন, তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে এখনও প্রায় ৩৫ বছর পুরোনো উড়োজাহাজে ভ্রমণ করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প কাতারের রাজপরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে উড়োজাহাজটি উপহার হিসেবে সংগ্রহের উদ্যোগ নেন।
তবে বিদেশি রাষ্ট্রের উপহার গ্রহণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক বিধান ও নৈতিকতার প্রশ্ন সামনে আসায় বিষয়টি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
কেন প্রয়োজন ‘ব্রিজ’ উড়োজাহাজ
বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্টের যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত দুটি বোয়িং ৭৪৭-২০০বি উড়োজাহাজ সামরিকভাবে ভিসি-২৫এ নামে পরিচিত। এগুলো ১৯৯০-এর দশকের শুরু থেকে ব্যবহৃত হচ্ছে।
উড়োজাহাজগুলোর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণ জটিল ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। ফলে নতুন উড়োজাহাজ সরবরাহ না হওয়া পর্যন্ত সাময়িক সমাধান হিসেবে ‘ব্রিজ’ কর্মসূচি চালু করেছে বিমানবাহিনী।
নতুন এই উড়োজাহাজ পুরোনো বহরের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের জন্য সবসময় একটি নির্ভরযোগ্য উড়ন্ত কমান্ড পোস্ট নিশ্চিত করবে।
উড়োজাহাজটিতে কী কী সুবিধা রয়েছে
মার্কিন বিমানবাহিনী উড়োজাহাজটিতে ব্যাপক সংস্কার ও নিরাপত্তা উন্নয়ন করেছে। এটি মূলত একজন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানের জন্য নির্মিত হওয়ায় শুরু থেকেই এতে অত্যাধুনিক বিলাসবহুল সুবিধা ছিল।
সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের জন্য উড়োজাহাজটির অভ্যন্তরীণ বিলাসবহুল অনেক অংশ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। পরিবর্তে নিরাপত্তা ও সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একটি দল উড়োজাহাজটির প্রতিটি প্রযুক্তিগত অংশ পরীক্ষা করে সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত ও দূর করেছে। এরপর এতে আধুনিক যোগাযোগ ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে।
উড়োজাহাজটিতে উন্নত ও বহুমাত্রিক যোগাযোগব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে ইলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেটও রয়েছে। এর ফলে প্রেসিডেন্ট আকাশে অবস্থান করেও সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা ও নিরাপদ যোগাযোগ বজায় রাখতে পারবেন।
এ ছাড়া প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা উন্নত করার মাধ্যমে এটিকে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেও নিরাপদে উড্ডয়নের উপযোগী করে তোলা হয়েছে।
এরপর কী
যদিও উড়োজাহাজটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট পরিবহন বহরে যুক্ত হয়েছে, তবে এটি এখনো প্রেসিডেন্টকে বহনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয়।
বর্তমানে মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে কমিশনিং ফ্লাইটের মাধ্যমে এর বিভিন্ন সক্ষমতা যাচাই করা হচ্ছে। ক্রু ও প্রযুক্তিবিদেরা উড়োজাহাজটির নিরাপত্তা, যোগাযোগ এবং মিশন সক্ষমতা মূল্যায়ন করছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ওয়াশিংটন ডিসিতে বিমানবাহিনীর প্রদর্শনীতে তিনি উড়োজাহাজটি প্রদর্শন করতে চান। পাশাপাশি মাউন্ট রাশমোরে প্রেসিডেন্টের প্রথম ভ্রমণের জন্যও উড়োজাহাজটি বিবেচনায় রয়েছে।












