ঢাকা ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চীন সফর বাংলাদেশের ‘কৌশলগত স্বাধীনতার’ পরীক্ষা, বলছেন চীনা বিশ্লেষক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০২:০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
  • / 3

গ্রাফিক্স: প্রজন্ম কথা


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলমান চীন সফরকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন চীনের একজন শীর্ষ দক্ষিণ এশিয়া বিশ্লেষক। তার মতে, এই সফর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বাধীন কূটনৈতিক ও উন্নয়ন নীতি অনুসরণের সক্ষমতারও একটি পরীক্ষা চীনের সাংহাইভিত্তিক দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ এবং সাংহাই ইনস্টিটিউটস ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সেন্টার ফর সাউথ এশিয়া স্টাডিজের পরিচালক লিউ জংই ‘গ্লোবাল টাইমস’-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে এ মন্তব্য করেন।

বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত অনুষ্ঠিত তারেক রহমানের সরকারি সফরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও গভীর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। লিউ জংইর মতে, সফরকালে অবকাঠামো ও শিল্প খাতকেন্দ্রিক ১৫টিরও বেশি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের প্রত্যাশা রয়েছে। এসব চুক্তি দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীন দীর্ঘদিনের বন্ধু ও প্রতিবেশী রাষ্ট্র। দুই দেশের সম্পর্ক ২০২৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতা অংশীদারত্বে’ উন্নীত হয়েছে। নিবন্ধে লিউ উল্লেখ করেন, টানা ১৫ বছর ধরে চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। এছাড়া বাংলাদেশের সব শুল্কযোগ্য পণ্যের জন্য চীনের শূন্য শুল্ক সুবিধা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে।

তবে তিনি মনে করেন, ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে। তার দাবি, কিছু বৃহৎ শক্তি বাংলাদেশকে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা ও উন্নয়ন কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে চায় এবং চীনের সহায়তায় বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোকে ‘ঋণের ফাঁদ’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করে।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নীতির ধারাবাহিকতা এবং দেশের বিভিন্ন নীতিনির্ধারক মহলে চীন সম্পর্কে ভিন্নমতও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। লিউর ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের একটি অংশ চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অর্থনৈতিক সুবিধাগুলোকে গুরুত্ব দিলেও, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে কিছু মহলে উদ্বেগ রয়েছে।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারেক রহমানের এই সফর শিল্প সহযোগিতা জোরদার করবে, বাংলাদেশকে এশিয়ার সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করবে এবং গ্লোবাল সাউথভিত্তিক বিভিন্ন আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্মে সহযোগিতা সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে। এছাড়া রাজনৈতিক দল, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় সরকার পর্যায়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও বিনিময় বাড়ানোরও আহ্বান জানান তিনি।

নিবন্ধের উপসংহারে লিউ জংই বলেন, “বাংলাদেশি নীতিনির্ধারকদের প্রকৃত অর্থে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণে রাজনৈতিক সাহস দেখাতে হবে।” তার মতে, এই সফর বাংলাদেশ ও চীনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেও স্পষ্ট করবে যে, বেইজিংয়ের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণে ঢাকা কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

শেয়ার করুন

চীন সফর বাংলাদেশের ‘কৌশলগত স্বাধীনতার’ পরীক্ষা, বলছেন চীনা বিশ্লেষক

প্রকাশঃ ০২:০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

গ্রাফিক্স: প্রজন্ম কথা


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলমান চীন সফরকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন চীনের একজন শীর্ষ দক্ষিণ এশিয়া বিশ্লেষক। তার মতে, এই সফর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বাধীন কূটনৈতিক ও উন্নয়ন নীতি অনুসরণের সক্ষমতারও একটি পরীক্ষা চীনের সাংহাইভিত্তিক দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ এবং সাংহাই ইনস্টিটিউটস ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সেন্টার ফর সাউথ এশিয়া স্টাডিজের পরিচালক লিউ জংই ‘গ্লোবাল টাইমস’-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে এ মন্তব্য করেন।

বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত অনুষ্ঠিত তারেক রহমানের সরকারি সফরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও গভীর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। লিউ জংইর মতে, সফরকালে অবকাঠামো ও শিল্প খাতকেন্দ্রিক ১৫টিরও বেশি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের প্রত্যাশা রয়েছে। এসব চুক্তি দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীন দীর্ঘদিনের বন্ধু ও প্রতিবেশী রাষ্ট্র। দুই দেশের সম্পর্ক ২০২৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতা অংশীদারত্বে’ উন্নীত হয়েছে। নিবন্ধে লিউ উল্লেখ করেন, টানা ১৫ বছর ধরে চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। এছাড়া বাংলাদেশের সব শুল্কযোগ্য পণ্যের জন্য চীনের শূন্য শুল্ক সুবিধা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে।

তবে তিনি মনে করেন, ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে। তার দাবি, কিছু বৃহৎ শক্তি বাংলাদেশকে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা ও উন্নয়ন কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে চায় এবং চীনের সহায়তায় বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোকে ‘ঋণের ফাঁদ’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করে।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নীতির ধারাবাহিকতা এবং দেশের বিভিন্ন নীতিনির্ধারক মহলে চীন সম্পর্কে ভিন্নমতও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। লিউর ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের একটি অংশ চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অর্থনৈতিক সুবিধাগুলোকে গুরুত্ব দিলেও, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে কিছু মহলে উদ্বেগ রয়েছে।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারেক রহমানের এই সফর শিল্প সহযোগিতা জোরদার করবে, বাংলাদেশকে এশিয়ার সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করবে এবং গ্লোবাল সাউথভিত্তিক বিভিন্ন আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্মে সহযোগিতা সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে। এছাড়া রাজনৈতিক দল, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় সরকার পর্যায়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও বিনিময় বাড়ানোরও আহ্বান জানান তিনি।

নিবন্ধের উপসংহারে লিউ জংই বলেন, “বাংলাদেশি নীতিনির্ধারকদের প্রকৃত অর্থে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণে রাজনৈতিক সাহস দেখাতে হবে।” তার মতে, এই সফর বাংলাদেশ ও চীনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেও স্পষ্ট করবে যে, বেইজিংয়ের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণে ঢাকা কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।