ঢাকা ১০:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাকিরা থেকে লিসা, বিশ্বকাপ মাতাতে ৫০ গানের প্লেলিস্ট প্রকাশ করলো ফিফা

খেলা ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ০১:৫২:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
  • / 3

কানাডার টরন্টোতে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান । ছবি: রয়টার্স

বিশ্বকাপ মানেই ফুটবলের উন্মাদনা। আর সেই উন্মাদনার অন্যতম অনুষঙ্গ বিশ্বকাপের গান। মাঠে বল গড়ানোর অনেক আগে থেকেই ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ, প্রত্যাশা আর উৎসবের আবহ তৈরি করে এসব গান। প্রতি আসরের মতো এবারও বিশ্বকাপের গান ঘিরে আলোচনায় সরব ভক্তরা। তবে এবার ভিন্ন পথে হাঁটছে ফিফা।

এবার আর একটি নির্দিষ্ট ‘অফিশিয়াল গান’ প্রকাশ করা হয়নি। এর পরিবর্তে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ফিফা প্রকাশ করেছে ‘ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ অ্যান্থেম’ নামে একটি অফিশিয়াল প্লেলিস্ট, যেখানে স্থান পেয়েছে ৫০টি গান।

২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার সংস্কৃতি, সংগীতধারা এবং জীবনযাত্রার বৈচিত্র্য তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে ফিফা। তিন দেশের সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছে পুরো অ্যালবামটি।

বিশ্বকাপের প্রথম গান হিসেবে মুক্তি পেয়েছিল ‘লাইটার’। পপ ও কান্ট্রি মিউজিকের সংমিশ্রণে তৈরি এই গানে অংশ নিয়েছেন মার্কিন র‍্যাপার জেলি রোল এবং মেক্সিকান গায়ক কারিন লিওন। তবে গানটি প্রত্যাশিত সাড়া ফেলতে পারেনি। অনেক শ্রোতার কাছেই এটি বিশ্বকাপের আবহ তৈরিতে ব্যর্থ হয়েছে।

তবে প্লেলিস্টের দ্বিতীয় গান ‘পর অ্যায়া’ মেক্সিকান শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। মেক্সিকোর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ফুটবলপ্রেমকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই গানে কণ্ঠ দিয়েছেন আইকনিক কুম্বিয়া ব্যান্ড লস অ্যাঞ্জেলেস আজুলস এবং পপ তারকা বেলিন্ডা। দুই শিল্পীর সমন্বয় শ্রোতাদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

যদিও মুক্তির ক্রমে এটি তৃতীয় গান, তবুও ‘ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ অ্যান্থেম’ প্লেলিস্টের শীর্ষে রয়েছে ‘গোলস’। কে-পপ, আফ্রোবিটস এবং লাতিন পপের মিশেলে তৈরি গানটিতে এক হয়েছেন জনপ্রিয় তিন শিল্পী লিসা, অনিতা ও রেমা। লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামের জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গানটি পরিবেশনের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্লেলিস্টের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা এবং নাইজেরিয়ান আফ্রোবিটস শিল্পী বার্না বয়ের ‘দাই দাই’। বিশ্বকাপের গানের সঙ্গে শাকিরার নাম যেন অনেকটাই সমার্থক হয়ে উঠেছে। চার মিনিটের এই মিউজিক ভিডিওর শুরুতেই দেখা যায় লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং আর্লিং হলান্ডের মতো তারকা ফুটবলারদের।

ভিডিওটিতে মেক্সিকোর বিখ্যাত ‘অ্যাঞ্জেল অব ইনডিপেনডেন্স’ স্মৃতিস্তম্ভের দৃশ্য যেমন রয়েছে, তেমনি আফ্রিকার মরুভূমিতে শিশুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগির মুহূর্তও তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্বকাপের বৈশ্বিক আবেদনকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা দেখা যায় পুরো ভিডিওজুড়ে।

‘দাই দাই’ গানের মাধ্যমে শাকিরা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের জন্য গান গাইলেন। এর আগে ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে তাঁর গাওয়া ‘ওয়াকা ওয়াকা’ বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপেও ‘লা লা লা’ গানটি ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। এছাড়া ২০০৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও পারফর্ম করেছিলেন এই কলম্বিয়ান শিল্পী।

এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণ হতে যাচ্ছে ফাইনালের হাফটাইম শো। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই অনুষ্ঠানে ম্যাডোনা ও বিটিএসের সঙ্গে প্রধান শিল্পীদের একজন হিসেবে পারফর্ম করবেন শাকিরা।

‘ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ অ্যান্থেম’ প্লেলিস্টে আরও রয়েছে ড্যাডি ইয়াংকি ও শেনসিয়ার গাওয়া ‘ইকো’। পাশাপাশি ফিউচার, টাইলা এবং ফিফা সাউন্ডের যৌথ প্রযোজনায় তৈরি ‘গেম টাইম’ গানটিও স্থান পেয়েছে এই তালিকায়।

তবে প্লেলিস্টের সবচেয়ে চমকপ্রদ সংযোজন হিসেবে উঠে এসেছে জনপ্রিয় স্ট্রিমার আইশোস্পিডের ‘চ্যাম্পিয়নস’ গান। প্রকাশের পর অল্প সময়েই এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। অনেক শ্রোতার মতে, বিশ্বকাপের আবেগ ও উদ্দীপনা সবচেয়ে বেশি ধরা পড়েছে এই গানের বিট ও উপস্থাপনায়। দর্শকদের ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার পর ফিফা গানটিকে নিজেদের অফিশিয়াল প্লেলিস্টে যুক্ত করেছে।

বিশ্বকাপকে ঘিরে সংগীতচর্চার আরেকটি নতুন ধারা দেখা যাচ্ছে এবার। বিভিন্ন দেশের সমর্থকেরা নিজেদের উদ্যোগে আনঅফিশিয়াল হিপহপ ও সমর্থনমূলক গান তৈরি করছেন। এসব গানের বড় একটি অংশ তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায়। ইউটিউব, টিকটক এবং ইনস্টাগ্রামে ইতোমধ্যে গানগুলো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

তবে নতুন এই আয়োজন সবার মন জয় করতে পারেনি। অনেক ফুটবলপ্রেমীর কাছে এখনো বিশ্বকাপের গানের সোনালি স্মৃতি হয়ে আছে ১৯৯৮ বিশ্বকাপে রিকি মার্টিনের ‘দ্য কাপ অব লাইফ’ কিংবা ২০১০ বিশ্বকাপে কে’নানের ‘ওয়েভিং ফ্ল্যাগ’। বিশ্বকাপ এলেই সেই গানগুলোর সুর আজও ভেসে আসে অসংখ্য সমর্থকের কণ্ঠে।

সময় বদলেছে, বদলেছে সংগীতের ধারা এবং প্রযুক্তির ব্যবহারও। কিন্তু বিশ্বকাপ ও গান, এই দুইয়ের সম্পর্ক এখনো অটুট। মাঠের লড়াই শুরুর আগে সংগীতই যেন কোটি ফুটবলপ্রেমীর আবেগকে এক সুতোয় গেঁথে দেয়।

শেয়ার করুন

শাকিরা থেকে লিসা, বিশ্বকাপ মাতাতে ৫০ গানের প্লেলিস্ট প্রকাশ করলো ফিফা

প্রকাশঃ ০১:৫২:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

কানাডার টরন্টোতে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান । ছবি: রয়টার্স

বিশ্বকাপ মানেই ফুটবলের উন্মাদনা। আর সেই উন্মাদনার অন্যতম অনুষঙ্গ বিশ্বকাপের গান। মাঠে বল গড়ানোর অনেক আগে থেকেই ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ, প্রত্যাশা আর উৎসবের আবহ তৈরি করে এসব গান। প্রতি আসরের মতো এবারও বিশ্বকাপের গান ঘিরে আলোচনায় সরব ভক্তরা। তবে এবার ভিন্ন পথে হাঁটছে ফিফা।

এবার আর একটি নির্দিষ্ট ‘অফিশিয়াল গান’ প্রকাশ করা হয়নি। এর পরিবর্তে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ফিফা প্রকাশ করেছে ‘ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ অ্যান্থেম’ নামে একটি অফিশিয়াল প্লেলিস্ট, যেখানে স্থান পেয়েছে ৫০টি গান।

২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার সংস্কৃতি, সংগীতধারা এবং জীবনযাত্রার বৈচিত্র্য তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে ফিফা। তিন দেশের সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছে পুরো অ্যালবামটি।

বিশ্বকাপের প্রথম গান হিসেবে মুক্তি পেয়েছিল ‘লাইটার’। পপ ও কান্ট্রি মিউজিকের সংমিশ্রণে তৈরি এই গানে অংশ নিয়েছেন মার্কিন র‍্যাপার জেলি রোল এবং মেক্সিকান গায়ক কারিন লিওন। তবে গানটি প্রত্যাশিত সাড়া ফেলতে পারেনি। অনেক শ্রোতার কাছেই এটি বিশ্বকাপের আবহ তৈরিতে ব্যর্থ হয়েছে।

তবে প্লেলিস্টের দ্বিতীয় গান ‘পর অ্যায়া’ মেক্সিকান শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। মেক্সিকোর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ফুটবলপ্রেমকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই গানে কণ্ঠ দিয়েছেন আইকনিক কুম্বিয়া ব্যান্ড লস অ্যাঞ্জেলেস আজুলস এবং পপ তারকা বেলিন্ডা। দুই শিল্পীর সমন্বয় শ্রোতাদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

যদিও মুক্তির ক্রমে এটি তৃতীয় গান, তবুও ‘ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ অ্যান্থেম’ প্লেলিস্টের শীর্ষে রয়েছে ‘গোলস’। কে-পপ, আফ্রোবিটস এবং লাতিন পপের মিশেলে তৈরি গানটিতে এক হয়েছেন জনপ্রিয় তিন শিল্পী লিসা, অনিতা ও রেমা। লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামের জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গানটি পরিবেশনের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্লেলিস্টের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা এবং নাইজেরিয়ান আফ্রোবিটস শিল্পী বার্না বয়ের ‘দাই দাই’। বিশ্বকাপের গানের সঙ্গে শাকিরার নাম যেন অনেকটাই সমার্থক হয়ে উঠেছে। চার মিনিটের এই মিউজিক ভিডিওর শুরুতেই দেখা যায় লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং আর্লিং হলান্ডের মতো তারকা ফুটবলারদের।

ভিডিওটিতে মেক্সিকোর বিখ্যাত ‘অ্যাঞ্জেল অব ইনডিপেনডেন্স’ স্মৃতিস্তম্ভের দৃশ্য যেমন রয়েছে, তেমনি আফ্রিকার মরুভূমিতে শিশুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগির মুহূর্তও তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্বকাপের বৈশ্বিক আবেদনকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা দেখা যায় পুরো ভিডিওজুড়ে।

‘দাই দাই’ গানের মাধ্যমে শাকিরা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের জন্য গান গাইলেন। এর আগে ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে তাঁর গাওয়া ‘ওয়াকা ওয়াকা’ বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপেও ‘লা লা লা’ গানটি ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। এছাড়া ২০০৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও পারফর্ম করেছিলেন এই কলম্বিয়ান শিল্পী।

এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণ হতে যাচ্ছে ফাইনালের হাফটাইম শো। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই অনুষ্ঠানে ম্যাডোনা ও বিটিএসের সঙ্গে প্রধান শিল্পীদের একজন হিসেবে পারফর্ম করবেন শাকিরা।

‘ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ অ্যান্থেম’ প্লেলিস্টে আরও রয়েছে ড্যাডি ইয়াংকি ও শেনসিয়ার গাওয়া ‘ইকো’। পাশাপাশি ফিউচার, টাইলা এবং ফিফা সাউন্ডের যৌথ প্রযোজনায় তৈরি ‘গেম টাইম’ গানটিও স্থান পেয়েছে এই তালিকায়।

তবে প্লেলিস্টের সবচেয়ে চমকপ্রদ সংযোজন হিসেবে উঠে এসেছে জনপ্রিয় স্ট্রিমার আইশোস্পিডের ‘চ্যাম্পিয়নস’ গান। প্রকাশের পর অল্প সময়েই এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। অনেক শ্রোতার মতে, বিশ্বকাপের আবেগ ও উদ্দীপনা সবচেয়ে বেশি ধরা পড়েছে এই গানের বিট ও উপস্থাপনায়। দর্শকদের ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার পর ফিফা গানটিকে নিজেদের অফিশিয়াল প্লেলিস্টে যুক্ত করেছে।

বিশ্বকাপকে ঘিরে সংগীতচর্চার আরেকটি নতুন ধারা দেখা যাচ্ছে এবার। বিভিন্ন দেশের সমর্থকেরা নিজেদের উদ্যোগে আনঅফিশিয়াল হিপহপ ও সমর্থনমূলক গান তৈরি করছেন। এসব গানের বড় একটি অংশ তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায়। ইউটিউব, টিকটক এবং ইনস্টাগ্রামে ইতোমধ্যে গানগুলো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

তবে নতুন এই আয়োজন সবার মন জয় করতে পারেনি। অনেক ফুটবলপ্রেমীর কাছে এখনো বিশ্বকাপের গানের সোনালি স্মৃতি হয়ে আছে ১৯৯৮ বিশ্বকাপে রিকি মার্টিনের ‘দ্য কাপ অব লাইফ’ কিংবা ২০১০ বিশ্বকাপে কে’নানের ‘ওয়েভিং ফ্ল্যাগ’। বিশ্বকাপ এলেই সেই গানগুলোর সুর আজও ভেসে আসে অসংখ্য সমর্থকের কণ্ঠে।

সময় বদলেছে, বদলেছে সংগীতের ধারা এবং প্রযুক্তির ব্যবহারও। কিন্তু বিশ্বকাপ ও গান, এই দুইয়ের সম্পর্ক এখনো অটুট। মাঠের লড়াই শুরুর আগে সংগীতই যেন কোটি ফুটবলপ্রেমীর আবেগকে এক সুতোয় গেঁথে দেয়।