ঢাকা ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বোচ্চ সক্রিয় আগ্নেয়গিরির চূড়ায় প্যারাস্যুটে নেমে বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন থাইল্যান্ডের ‘সুপার টুম’

তথ্যসূত্র: গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস
  • প্রকাশঃ ১২:৩৭:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
  • / 3

চিলির ওহোস দেল সালাদো আগ্নেয়গিরির চূড়ায় অবতরণের পর থাইল্যান্ডের স্কাইডাইভার তানাবোওর্ন সিরিকুনাকর্নকুন। ছবি: গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস


থাইল্যান্ডের তানাবোওর্ন সিরিকুনাকর্নকুন, যিনি ‘সুপার টুম’ নামে পরিচিত, প্যারাস্যুটে অবতরণ করে নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন। ৪৮ বছর বয়সী এই বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক, রিয়েল এস্টেট উদ্যোক্তা ও থাই সংসদের নির্বাহী পৃথিবীর সর্বোচ্চ সক্রিয় আগ্নেয়গিরির চূড়ায় অবতরণ করে ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন।

গত ১৪ মার্চ তিনি চিলির ওহোস দেল সালাদো আগ্নেয়গিরির চূড়ায় অবতরণ করেন। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫ হাজার ৪৪২ মিটার বা ১৭ হাজার ৮৫৪ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই স্থান এখন সর্বোচ্চ উচ্চতায় স্কাইডাইভ বা প্যারাস্যুটে অবতরণের বিশ্ব রেকর্ডের স্বীকৃতি পেয়েছে। আন্দিজ পর্বতমালায় অবস্থিত ওহোস দেল সালাদো বিশ্বের সর্বোচ্চ সক্রিয় আগ্নেয়গিরি হিসেবে পরিচিত।

‘সুপার টুম’ যে উচ্চতা থেকে প্যারাস্যুট নিয়ে লাফিয়ে নেমেছেন, তার চেয়ে কম উচ্চতায় অধিকাংশ বাণিজ্যিক টার্বোপ্রপ উড়োজাহাজ চলাচল করে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এত উঁচুতে লাফ দেওয়ার সময় তাকে তীব্র ঠান্ডা বাতাস ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মুখোমুখি হতে হয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চতার কারণে বাতাসে অক্সিজেনের স্বল্পতাও ছিল বড় একটি চ্যালেঞ্জ।

এর আগে সর্বোচ্চ উচ্চতায় স্কাইডাইভ করে অবতরণের রেকর্ডটি গড়া হয়েছিল ২০২৩ সালে। নতুন এই রেকর্ডের মাধ্যমে সেই অর্জনকে ছাড়িয়ে গেছেন সিরিকুনাকর্নকুন।

লাফিয়ে পড়ার সময় আকাশ থেকে দেখা প্রাকৃতিক দৃশ্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “চারপাশের দৃশ্য ছিল অবিশ্বাস্যরকম সুন্দর। আমি আগে এমন কিছু দেখিনি। এটি সত্যিই এক অসাধারণ জায়গা। বিভিন্ন খনিজের কারণে সেখানে নানা রঙের সমারোহ দেখা যায়। এ কারণে আগ্নেয়গিরিটিকে রংধনুর মতো মনে হয়।”

মাত্র দুই বছর আগে, ২০২৪ সালে স্কাইডাইভিং শুরু করেন সিরিকুনাকর্নকুন। এরই মধ্যে তিনি ১ হাজার ২৫০ বার আকাশ থেকে লাফ দিয়েছেন। নতুন রেকর্ড গড়ার পর তিনি বলেন, বিশ্বের মানুষ যেন থাইল্যান্ডকে আরও ভালোভাবে চিনতে পারে এবং দেশটির জন্য গর্ব অনুভব করে, সেটিই তার অন্যতম লক্ষ্য।

রেকর্ড গড়ার জন্য কেন ওহোস দেল সালাদোকে বেছে নিয়েছিলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এটি এমন একটি স্থান, যা আমার দলের সবার কাছেই আকর্ষণীয় মনে হয়েছিল। পরে লাফ দেওয়ার সময় আমরা বিশ্বের সর্বোচ্চ সক্রিয় আগ্নেয়গিরির অসাধারণ সৌন্দর্য আবিষ্কার করি।”

শেয়ার করুন

সর্বোচ্চ সক্রিয় আগ্নেয়গিরির চূড়ায় প্যারাস্যুটে নেমে বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন থাইল্যান্ডের ‘সুপার টুম’

প্রকাশঃ ১২:৩৭:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

চিলির ওহোস দেল সালাদো আগ্নেয়গিরির চূড়ায় অবতরণের পর থাইল্যান্ডের স্কাইডাইভার তানাবোওর্ন সিরিকুনাকর্নকুন। ছবি: গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস


থাইল্যান্ডের তানাবোওর্ন সিরিকুনাকর্নকুন, যিনি ‘সুপার টুম’ নামে পরিচিত, প্যারাস্যুটে অবতরণ করে নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন। ৪৮ বছর বয়সী এই বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক, রিয়েল এস্টেট উদ্যোক্তা ও থাই সংসদের নির্বাহী পৃথিবীর সর্বোচ্চ সক্রিয় আগ্নেয়গিরির চূড়ায় অবতরণ করে ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন।

গত ১৪ মার্চ তিনি চিলির ওহোস দেল সালাদো আগ্নেয়গিরির চূড়ায় অবতরণ করেন। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫ হাজার ৪৪২ মিটার বা ১৭ হাজার ৮৫৪ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই স্থান এখন সর্বোচ্চ উচ্চতায় স্কাইডাইভ বা প্যারাস্যুটে অবতরণের বিশ্ব রেকর্ডের স্বীকৃতি পেয়েছে। আন্দিজ পর্বতমালায় অবস্থিত ওহোস দেল সালাদো বিশ্বের সর্বোচ্চ সক্রিয় আগ্নেয়গিরি হিসেবে পরিচিত।

‘সুপার টুম’ যে উচ্চতা থেকে প্যারাস্যুট নিয়ে লাফিয়ে নেমেছেন, তার চেয়ে কম উচ্চতায় অধিকাংশ বাণিজ্যিক টার্বোপ্রপ উড়োজাহাজ চলাচল করে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এত উঁচুতে লাফ দেওয়ার সময় তাকে তীব্র ঠান্ডা বাতাস ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মুখোমুখি হতে হয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চতার কারণে বাতাসে অক্সিজেনের স্বল্পতাও ছিল বড় একটি চ্যালেঞ্জ।

এর আগে সর্বোচ্চ উচ্চতায় স্কাইডাইভ করে অবতরণের রেকর্ডটি গড়া হয়েছিল ২০২৩ সালে। নতুন এই রেকর্ডের মাধ্যমে সেই অর্জনকে ছাড়িয়ে গেছেন সিরিকুনাকর্নকুন।

লাফিয়ে পড়ার সময় আকাশ থেকে দেখা প্রাকৃতিক দৃশ্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “চারপাশের দৃশ্য ছিল অবিশ্বাস্যরকম সুন্দর। আমি আগে এমন কিছু দেখিনি। এটি সত্যিই এক অসাধারণ জায়গা। বিভিন্ন খনিজের কারণে সেখানে নানা রঙের সমারোহ দেখা যায়। এ কারণে আগ্নেয়গিরিটিকে রংধনুর মতো মনে হয়।”

মাত্র দুই বছর আগে, ২০২৪ সালে স্কাইডাইভিং শুরু করেন সিরিকুনাকর্নকুন। এরই মধ্যে তিনি ১ হাজার ২৫০ বার আকাশ থেকে লাফ দিয়েছেন। নতুন রেকর্ড গড়ার পর তিনি বলেন, বিশ্বের মানুষ যেন থাইল্যান্ডকে আরও ভালোভাবে চিনতে পারে এবং দেশটির জন্য গর্ব অনুভব করে, সেটিই তার অন্যতম লক্ষ্য।

রেকর্ড গড়ার জন্য কেন ওহোস দেল সালাদোকে বেছে নিয়েছিলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এটি এমন একটি স্থান, যা আমার দলের সবার কাছেই আকর্ষণীয় মনে হয়েছিল। পরে লাফ দেওয়ার সময় আমরা বিশ্বের সর্বোচ্চ সক্রিয় আগ্নেয়গিরির অসাধারণ সৌন্দর্য আবিষ্কার করি।”