ঢাকা ০৭:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দ্য বিটলসকে দেখতে রাস্তায় নেমেছিল অর্ধেক শহর, ১৯৬৪ সালের সেই ঐতিহাসিক অ্যাডিলেড

বিনোদন ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ০৬:৪২:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
  • / 3

১৯৬৪ সালের ১২ জুন প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়া সফরে যায় ‘দ্য বিটলস । ’ছবি: কোলাজ


১৯৬৪ সালের ১২ জুন প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়া সফরে পৌঁছায় কিংবদন্তি ব্যান্ড দ্য বিটলস। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড শহরে তাদের আগমন ঘিরে তৈরি হয়েছিল নজিরবিহীন উন্মাদনা। ব্যান্ডটির চার সদস্যকে একনজর দেখার জন্য শহরের রাস্তায় নেমে এসেছিলেন ৩ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ, যা সেই সময়ের বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সংগীতশিল্পী অভ্যর্থনা হিসেবে বিবেচিত হয়।

চার্টার্ড এএনএ জেটে দ্য বিটলসের অবতরণের মুহূর্তটি দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম জনসমাগমের ঘটনা হিসেবে স্থান করে নেয়। অ্যাডিলেডের জনসংখ্যা তখন ছিল প্রায় ৬ লাখ ৭০ হাজার। অর্থাৎ শহরের প্রায় অর্ধেক মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিলেন ব্যান্ডটির সদস্যদের দেখার জন্য।

তৎকালীন সময়ে বিশ্বজুড়ে চলছিল ‘বিটলম্যানিয়া’র ঢেউ। সেই প্রভাব অস্ট্রেলিয়াতেও সমানভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। অ্যাডিলেড বিমানবন্দর থেকে টাউন হল পর্যন্ত পুরো পথজুড়ে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেন। অ্যানজ্যাক হাইওয়ের দুই পাশে প্রায় ১০ মাইলজুড়ে তৈরি হয়েছিল জনস্রোত। ভক্তদের চিৎকার ও উচ্ছ্বাসে পরিস্থিতি একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে ব্যারিকেড স্থাপন করতে হয়।

অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফরের প্রাথমিক সূচিতে অ্যাডিলেডের নাম ছিল না। বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি স্থানীয় রেডিও উপস্থাপক বব ফ্রান্সিস। তৎকালীন এই তরুণ রেডিও ডিজে দ্য বিটলসের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে রাজি করাতে ৩ হাজার স্বাক্ষর সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়ে প্রচারণা শুরু করেন। কিন্তু প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি সাড়া পেয়ে শেষ পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন তিনি।

এই উদ্যোগে তার সঙ্গে যুক্ত হন সংগীত অঙ্গনের দুই পরিচিত ব্যক্তিত্ব রন ট্রেমেইন এবং কিম বনিথন। ট্রেমেইন সংগ্রহ করা আবেদনপত্র পৌঁছে দেন সফরের আয়োজক কেন ব্রডজিয়াকের কাছে। মেলবোর্নভিত্তিক এই প্রোমোটার শুরুতে অ্যাডিলেডের তুলনামূলক ছোট ভেন্যুর কারণে আগ্রহ দেখাননি।

তবে পরে ট্রেমেইনের প্রচেষ্টা এবং জন মার্টিনস ডিপার্টমেন্ট স্টোরের পারিবারিক যোগাযোগের সহায়তায় একটি সমঝোতা হয়। এর ফলে ওয়েভিল শোগ্রাউন্ডসের সেন্টেনিয়াল হলে দ্য বিটলসের চারটি কনসার্ট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

১৯৬৪ সালের ১২ ও ১৩ জুন দুটি করে মোট চারটি শো অনুষ্ঠিত হয়। এসব কনসার্টের প্রায় ১২ হাজার টিকিট মাত্র সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায়, যা সেই সময়ের জন্য ছিল একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

অস্ট্রেলিয়ায় তখন দ্য বিটলসের জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। ১৯৬৪ সালের মে ও জুন মাসে টানা ছয় সপ্তাহ দেশটির সংগীত চার্টের শীর্ষে ছিল তাদের গান ‘ক্যান্ট বাই মি লাভ’। এর আগে ‘অল মাই লাভিং’ গানটিও চার্টের এক নম্বর অবস্থানে পৌঁছেছিল।

অ্যাডিলেড তখন তুলনামূলক রক্ষণশীল শহর হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু দ্য বিটলসকে ঘিরে এমন দৃশ্য শহরটি আগে কখনো দেখেনি। টাউন হলে পৌঁছানোর পর ব্যান্ডটির গাড়ির চারপাশে জনতা ভিড় করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হয়।

এই সফরে ব্যান্ডটির ড্রামার রিঙ্গো স্টার অসুস্থ থাকায় তিনি লন্ডনে অবস্থান করেন। তার পরিবর্তে সাময়িকভাবে ড্রাম বাজান জিমি নিকল। পরে মেলবোর্নে এসে তিনি আবার দলে যোগ দেন।

অ্যাডিলেডে কনসার্ট শেষ করে দ্য বিটলস মেলবোর্ন ও সিডনিতে পারফর্ম করে। এরপর নিউজিল্যান্ড সফরের মাধ্যমে শেষ হয় তাদের ঐতিহাসিক এই সফর। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এটিই ছিল দ্য বিটলসের একমাত্র অস্ট্রেলিয়া সফর।

শেয়ার করুন

দ্য বিটলসকে দেখতে রাস্তায় নেমেছিল অর্ধেক শহর, ১৯৬৪ সালের সেই ঐতিহাসিক অ্যাডিলেড

প্রকাশঃ ০৬:৪২:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

১৯৬৪ সালের ১২ জুন প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়া সফরে যায় ‘দ্য বিটলস । ’ছবি: কোলাজ


১৯৬৪ সালের ১২ জুন প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়া সফরে পৌঁছায় কিংবদন্তি ব্যান্ড দ্য বিটলস। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড শহরে তাদের আগমন ঘিরে তৈরি হয়েছিল নজিরবিহীন উন্মাদনা। ব্যান্ডটির চার সদস্যকে একনজর দেখার জন্য শহরের রাস্তায় নেমে এসেছিলেন ৩ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ, যা সেই সময়ের বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সংগীতশিল্পী অভ্যর্থনা হিসেবে বিবেচিত হয়।

চার্টার্ড এএনএ জেটে দ্য বিটলসের অবতরণের মুহূর্তটি দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম জনসমাগমের ঘটনা হিসেবে স্থান করে নেয়। অ্যাডিলেডের জনসংখ্যা তখন ছিল প্রায় ৬ লাখ ৭০ হাজার। অর্থাৎ শহরের প্রায় অর্ধেক মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিলেন ব্যান্ডটির সদস্যদের দেখার জন্য।

তৎকালীন সময়ে বিশ্বজুড়ে চলছিল ‘বিটলম্যানিয়া’র ঢেউ। সেই প্রভাব অস্ট্রেলিয়াতেও সমানভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। অ্যাডিলেড বিমানবন্দর থেকে টাউন হল পর্যন্ত পুরো পথজুড়ে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেন। অ্যানজ্যাক হাইওয়ের দুই পাশে প্রায় ১০ মাইলজুড়ে তৈরি হয়েছিল জনস্রোত। ভক্তদের চিৎকার ও উচ্ছ্বাসে পরিস্থিতি একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে ব্যারিকেড স্থাপন করতে হয়।

অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফরের প্রাথমিক সূচিতে অ্যাডিলেডের নাম ছিল না। বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি স্থানীয় রেডিও উপস্থাপক বব ফ্রান্সিস। তৎকালীন এই তরুণ রেডিও ডিজে দ্য বিটলসের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে রাজি করাতে ৩ হাজার স্বাক্ষর সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়ে প্রচারণা শুরু করেন। কিন্তু প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি সাড়া পেয়ে শেষ পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন তিনি।

এই উদ্যোগে তার সঙ্গে যুক্ত হন সংগীত অঙ্গনের দুই পরিচিত ব্যক্তিত্ব রন ট্রেমেইন এবং কিম বনিথন। ট্রেমেইন সংগ্রহ করা আবেদনপত্র পৌঁছে দেন সফরের আয়োজক কেন ব্রডজিয়াকের কাছে। মেলবোর্নভিত্তিক এই প্রোমোটার শুরুতে অ্যাডিলেডের তুলনামূলক ছোট ভেন্যুর কারণে আগ্রহ দেখাননি।

তবে পরে ট্রেমেইনের প্রচেষ্টা এবং জন মার্টিনস ডিপার্টমেন্ট স্টোরের পারিবারিক যোগাযোগের সহায়তায় একটি সমঝোতা হয়। এর ফলে ওয়েভিল শোগ্রাউন্ডসের সেন্টেনিয়াল হলে দ্য বিটলসের চারটি কনসার্ট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

১৯৬৪ সালের ১২ ও ১৩ জুন দুটি করে মোট চারটি শো অনুষ্ঠিত হয়। এসব কনসার্টের প্রায় ১২ হাজার টিকিট মাত্র সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায়, যা সেই সময়ের জন্য ছিল একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

অস্ট্রেলিয়ায় তখন দ্য বিটলসের জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। ১৯৬৪ সালের মে ও জুন মাসে টানা ছয় সপ্তাহ দেশটির সংগীত চার্টের শীর্ষে ছিল তাদের গান ‘ক্যান্ট বাই মি লাভ’। এর আগে ‘অল মাই লাভিং’ গানটিও চার্টের এক নম্বর অবস্থানে পৌঁছেছিল।

অ্যাডিলেড তখন তুলনামূলক রক্ষণশীল শহর হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু দ্য বিটলসকে ঘিরে এমন দৃশ্য শহরটি আগে কখনো দেখেনি। টাউন হলে পৌঁছানোর পর ব্যান্ডটির গাড়ির চারপাশে জনতা ভিড় করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হয়।

এই সফরে ব্যান্ডটির ড্রামার রিঙ্গো স্টার অসুস্থ থাকায় তিনি লন্ডনে অবস্থান করেন। তার পরিবর্তে সাময়িকভাবে ড্রাম বাজান জিমি নিকল। পরে মেলবোর্নে এসে তিনি আবার দলে যোগ দেন।

অ্যাডিলেডে কনসার্ট শেষ করে দ্য বিটলস মেলবোর্ন ও সিডনিতে পারফর্ম করে। এরপর নিউজিল্যান্ড সফরের মাধ্যমে শেষ হয় তাদের ঐতিহাসিক এই সফর। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এটিই ছিল দ্য বিটলসের একমাত্র অস্ট্রেলিয়া সফর।