ঢাকা ১২:২১ , Fri, ০৩ Jul ২০২৬
বিশ্বসমাচার
মধ্যপ্রাচ্য

খামেনির শেষ বিদায়ের অপেক্ষায় তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা, চলছে নজিরবিহীন প্রস্তুতি

প্রজন্ম কথা ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ০৩ জুলাই ২০২৬, ০০:১৮
  • / 1

তেহরানের একটি ভবনের সামনে বড় বিলবোর্ডে আইআরজিসি কমান্ডার কাসেম সোলেইমানির কপালে চুম্বনরত ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি। ছবি: এএফপি


তীব্র দাবদাহ এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে ইরানের রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা চত্বরে চলছে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠানের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আগামী শনিবার (৪ জুলাই) এই কমপ্লেক্সেই রাখা হবে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত খামেনির মরদেহ। দীর্ঘ তিন দশক ধরে ইরান শাসন করা এই নেতার রাষ্ট্রীয় জানাজাকে স্মরণকালের বৃহত্তম গণজমায়েতে রূপ দিতে দিন-রাত কাজ করছেন শত শত কর্মী।

আজ বৃহস্পতিবার বিশেষ অনুমতি নিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে প্রবেশ করে প্রস্তুতির নানা দিক প্রত্যক্ষ করেছে। গ্র্যান্ড মোসাল্লার চারপাশে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মূল প্রবেশদ্বারে মোতায়েন করা হয়েছে সশস্ত্র বাহিনীর কয়েক ডজন সদস্য। ওই এলাকায় চলাচলকারী প্রতিটি যানবাহন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তল্লাশি করা হচ্ছে। বিশেষ অনুমতিপত্র ছাড়া কাউকেই কমপ্লেক্সে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে বাইরে অবস্থান করা উৎসুক সাধারণ মানুষ দূর থেকেই প্রস্তুতির কর্মযজ্ঞ পর্যবেক্ষণ করছেন।

কমপ্লেক্সের ভেতরে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে কালো, লাল ও সবুজ রঙের বিশাল ব্যানার এবং পতাকা। কালো পতাকা শোকের প্রতীক, আর লাল পতাকা শিয়া ঐতিহ্য অনুযায়ী শাহাদাত ও প্রতিশোধের বার্তা বহন করছে। দেয়ালজুড়ে টাঙানো হয়েছে প্রয়াত খামেনির বিশাল প্রতিকৃতি। এর মধ্যে একটি প্রতিকৃতিতে ১৯৮০-এর দশকের ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় তরুণ যোদ্ধাদের পাশে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট খামেনির উপস্থিতির স্মৃতি তুলে ধরা হয়েছে।

প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও মাঠের পরিচর্যায় ব্যস্ত কর্মীদের একজন হোসেইন মোগাদ্দাসি। মুখ ও মাথা স্কার্ফে ঢেকে কাজ করতে করতে তিনি বলেন, “আমাদের শহীদ রাহবারকে শেষ বিদায় জানাতে আমরা এখানে ফুলগাছ লাগাচ্ছি এবং ঝোপঝাড়ে পানি দিচ্ছি।”

আগামী শনিবার তেহরানের তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এ কারণে জানাজায় অংশ নিতে আসা লাখ লাখ মানুষের জন্য ইতোমধ্যে শত শত কার্টন সুপেয় পানির বোতল ট্রাকে করে আনা হচ্ছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান ব্যবস্থাপনা কমিটি জানিয়েছে, শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টা থেকে গ্র্যান্ড মোসাল্লার মূল ফটক সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হবে। আয়োজকদের ধারণা, তেহরানের এই জানাজায় এক কোটি ৫০ লাখ থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম ঘটতে পারে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি বা অতিরিক্ত ভিড় সামাল দিতে কমপ্লেক্সের ভেতরে সারিবদ্ধভাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে কয়েক ডজন অ্যাম্বুলেন্স ও উদ্ধারকারী যান।

পুরো মোসাল্লা চত্বরে খামেনির বিভিন্ন উক্তি সংবলিত ব্যানারের পাশাপাশি পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে তাঁর উত্তোলিত বজ্রমুষ্টির ছবি সম্বলিত পোস্টারও শোভা পাচ্ছে। বিভিন্ন ব্যানারে লেখা রয়েছে, “আমরা শোকাহত, কিন্তু আমরা সোজা দাঁড়িয়ে আছি।”

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় খামেনির সঙ্গে নিহত তাঁর মেয়ে, জামাতা ও নাতনির মরদেহও এই বিদায় অনুষ্ঠানে খামেনির মরদেহের পাশে রাখা হবে বলে আয়োজকেরা জানিয়েছেন। মূল মোসাল্লা ভবনে তিন দিনব্যাপী সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আগামী সোমবার রাজধানী তেহরানের রাস্তায় একটি বিশাল শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

এরপর মঙ্গলবার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে শিয়াদের পবিত্র নগরী কোমে। বুধবার ইরাকের কারবালা ও নাজাফের পবিত্র মাজারে বিশেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। আগামী ৯ জুলাই উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ নগরীতে অবস্থিত ইমাম রেজা মাজারে, যা খামেনির জন্মস্থান হিসেবেও পরিচিত, তাঁকে সমাহিত করার মধ্য দিয়ে এই দীর্ঘ শোকযাত্রার সমাপ্তি ঘটবে।

এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দেশবাসীর প্রতি এই জানাজায় ব্যাপকভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, খামেনির জানাজায় জনগণের ঐতিহাসিক উপস্থিতিই হবে তাঁর হত্যাকাণ্ডের সবচেয়ে বড় প্রতিক্রিয়া এবং সেই বার্তা যেন বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে যায়।

খামেনির শেষ বিদায়ের অপেক্ষায় তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা, চলছে নজিরবিহীন প্রস্তুতি

প্রকাশঃ ০৩ জুলাই ২০২৬, ০০:১৮

তেহরানের একটি ভবনের সামনে বড় বিলবোর্ডে আইআরজিসি কমান্ডার কাসেম সোলেইমানির কপালে চুম্বনরত ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি। ছবি: এএফপি


তীব্র দাবদাহ এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে ইরানের রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা চত্বরে চলছে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় বিদায় অনুষ্ঠানের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আগামী শনিবার (৪ জুলাই) এই কমপ্লেক্সেই রাখা হবে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত খামেনির মরদেহ। দীর্ঘ তিন দশক ধরে ইরান শাসন করা এই নেতার রাষ্ট্রীয় জানাজাকে স্মরণকালের বৃহত্তম গণজমায়েতে রূপ দিতে দিন-রাত কাজ করছেন শত শত কর্মী।

আজ বৃহস্পতিবার বিশেষ অনুমতি নিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে প্রবেশ করে প্রস্তুতির নানা দিক প্রত্যক্ষ করেছে। গ্র্যান্ড মোসাল্লার চারপাশে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মূল প্রবেশদ্বারে মোতায়েন করা হয়েছে সশস্ত্র বাহিনীর কয়েক ডজন সদস্য। ওই এলাকায় চলাচলকারী প্রতিটি যানবাহন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তল্লাশি করা হচ্ছে। বিশেষ অনুমতিপত্র ছাড়া কাউকেই কমপ্লেক্সে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে বাইরে অবস্থান করা উৎসুক সাধারণ মানুষ দূর থেকেই প্রস্তুতির কর্মযজ্ঞ পর্যবেক্ষণ করছেন।

কমপ্লেক্সের ভেতরে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে কালো, লাল ও সবুজ রঙের বিশাল ব্যানার এবং পতাকা। কালো পতাকা শোকের প্রতীক, আর লাল পতাকা শিয়া ঐতিহ্য অনুযায়ী শাহাদাত ও প্রতিশোধের বার্তা বহন করছে। দেয়ালজুড়ে টাঙানো হয়েছে প্রয়াত খামেনির বিশাল প্রতিকৃতি। এর মধ্যে একটি প্রতিকৃতিতে ১৯৮০-এর দশকের ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় তরুণ যোদ্ধাদের পাশে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট খামেনির উপস্থিতির স্মৃতি তুলে ধরা হয়েছে।

প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও মাঠের পরিচর্যায় ব্যস্ত কর্মীদের একজন হোসেইন মোগাদ্দাসি। মুখ ও মাথা স্কার্ফে ঢেকে কাজ করতে করতে তিনি বলেন, “আমাদের শহীদ রাহবারকে শেষ বিদায় জানাতে আমরা এখানে ফুলগাছ লাগাচ্ছি এবং ঝোপঝাড়ে পানি দিচ্ছি।”

আগামী শনিবার তেহরানের তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এ কারণে জানাজায় অংশ নিতে আসা লাখ লাখ মানুষের জন্য ইতোমধ্যে শত শত কার্টন সুপেয় পানির বোতল ট্রাকে করে আনা হচ্ছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান ব্যবস্থাপনা কমিটি জানিয়েছে, শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টা থেকে গ্র্যান্ড মোসাল্লার মূল ফটক সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হবে। আয়োজকদের ধারণা, তেহরানের এই জানাজায় এক কোটি ৫০ লাখ থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম ঘটতে পারে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি বা অতিরিক্ত ভিড় সামাল দিতে কমপ্লেক্সের ভেতরে সারিবদ্ধভাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে কয়েক ডজন অ্যাম্বুলেন্স ও উদ্ধারকারী যান।

পুরো মোসাল্লা চত্বরে খামেনির বিভিন্ন উক্তি সংবলিত ব্যানারের পাশাপাশি পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে তাঁর উত্তোলিত বজ্রমুষ্টির ছবি সম্বলিত পোস্টারও শোভা পাচ্ছে। বিভিন্ন ব্যানারে লেখা রয়েছে, “আমরা শোকাহত, কিন্তু আমরা সোজা দাঁড়িয়ে আছি।”

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় খামেনির সঙ্গে নিহত তাঁর মেয়ে, জামাতা ও নাতনির মরদেহও এই বিদায় অনুষ্ঠানে খামেনির মরদেহের পাশে রাখা হবে বলে আয়োজকেরা জানিয়েছেন। মূল মোসাল্লা ভবনে তিন দিনব্যাপী সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আগামী সোমবার রাজধানী তেহরানের রাস্তায় একটি বিশাল শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

এরপর মঙ্গলবার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে শিয়াদের পবিত্র নগরী কোমে। বুধবার ইরাকের কারবালা ও নাজাফের পবিত্র মাজারে বিশেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। আগামী ৯ জুলাই উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ নগরীতে অবস্থিত ইমাম রেজা মাজারে, যা খামেনির জন্মস্থান হিসেবেও পরিচিত, তাঁকে সমাহিত করার মধ্য দিয়ে এই দীর্ঘ শোকযাত্রার সমাপ্তি ঘটবে।

এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দেশবাসীর প্রতি এই জানাজায় ব্যাপকভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, খামেনির জানাজায় জনগণের ঐতিহাসিক উপস্থিতিই হবে তাঁর হত্যাকাণ্ডের সবচেয়ে বড় প্রতিক্রিয়া এবং সেই বার্তা যেন বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে যায়।