আমেরিকায় নতুন এলে যে ১৫টি ভুল কখনোই করবেন না
- প্রকাশঃ ২৮ জুলাই ২০২৬, ০১:৪১
- / 4
আমেরিকায় নতুন জীবন শুরু করতে গিয়ে অনেক অভিবাসী অজান্তেই এমন কিছু ভুল করে বসেন, যার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক, আইনি ও ব্যক্তিগত জীবনে পড়তে পারে। স্বাস্থ্যবিমা থেকে শুরু করে কর দাখিল, ক্রেডিট স্কোর, ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা এবং সরকারি নিয়মকানুন সম্পর্কে সচেতন থাকলে এসব ঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
নতুন অভিবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ১৫টি বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে-
প্রথমত, স্বাস্থ্যবিমা (হেলথ ইন্স্যুরেন্স) ছাড়া থাকা বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে বিল হাজার হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে। তাই দেশে পৌঁছেই স্বাস্থ্যবিমা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর (SSN) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য। ফোন, ইমেইল বা অপরিচিত কারও অনুরোধে এই নম্বর শেয়ার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তৃতীয়ত, ক্রেডিট স্কোরের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকতে বলা হয়েছে। সময়মতো বিল পরিশোধের মাধ্যমে ভালো ক্রেডিট স্কোর গড়ে তুললে বাড়ি ভাড়া, গাড়ি কেনা কিংবা অনেক ক্ষেত্রে চাকরি পাওয়াও সহজ হয়।
চতুর্থত, বাড়ি ভাড়া, গাড়ির ঋণ বা অন্য যেকোনো চুক্তিপত্রে স্বাক্ষরের আগে পুরো নথি ভালোভাবে পড়ে বুঝে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে অভিজ্ঞ কারও সহায়তা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
পঞ্চমত, পাসপোর্ট, ভিসা, আই-৯৪ (I-94), গ্রিন কার্ড এবং সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ সব নথির ফটোকপি ও স্ক্যান কপি নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ষষ্ঠত, ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্টপ সাইন, গতিসীমা এবং স্কুল জোন সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘন করলে জরিমানার পাশাপাশি গাড়ির বিমার খরচও বেড়ে যেতে পারে।
সপ্তমত, আয় কম হলেও প্রতি বছর নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভুলভাবে বা সময়মতো ট্যাক্স ফাইল না করলে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
অষ্টমত, ইউএসসিআইএস (USCIS), আইআরএস (IRS), ডিএমভি (DMV) বা আদালত থেকে আসা অফিসিয়াল চিঠি গুরুত্বসহকারে পড়া এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
নবমত, বিভিন্ন ধরনের প্রতারণামূলক ফোনকল সম্পর্কে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। আইআরএস, পুলিশ বা ইউএসসিআইএস কখনো ফোন করে টাকা বা গিফট কার্ড দাবি করে না। “আপনার SSN ব্লক হয়ে যাবে” ধরনের ফোনকল প্রতারণার অংশ হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
দশমত, গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ইন্স্যুরেন্স নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অনেক অঙ্গরাজ্যে লায়াবিলিটি ইন্স্যুরেন্স বাধ্যতামূলক এবং তা ছাড়া গাড়ি চালানো আইনত দণ্ডনীয়।
একাদশত, বাসা পরিবর্তনের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নতুন ঠিকানা জানানো প্রয়োজন। প্রয়োজনে অনলাইনের মাধ্যমে ডিএমভি এবং ইউএসসিআইএসকে ঠিকানা পরিবর্তনের তথ্য হালনাগাদ করতে বলা হয়েছে।
দ্বাদশত, ক্যাশ ভিত্তিক চাকরি নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট আইন ও করব্যবস্থা সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশত, জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহৃত ৯১১ সেবার ব্যবহার সম্পর্কে পরিবারের সবাইকে আগে থেকেই জানিয়ে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
চতুর্দশত, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের ব্যয় বিবেচনায় রেখে আগেই বাজেট পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাসাভাড়া, খাদ্য, বিমা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ মাথায় রেখে অন্তত প্রথম তিন মাসের আর্থিক পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।
পঞ্চদশত, স্থানীয় কমিউনিটি সেন্টার, পাবলিক লাইব্রেরি এবং বিশ্বস্ত বিভিন্ন সংস্থার সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা গ্রহণে এসব প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এ বিষয়ে একটি ডিসক্লেইমারে উল্লেখ করা হয়েছে, তথ্যগুলো সাধারণ জ্ঞান ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে উপস্থাপন করা হয়েছে। এটি কোনো আইনি, কর বা অভিবাসনসংক্রান্ত পরামর্শ নয়। বিস্তারিত তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


























