ঢাকা ০৯:২৮ , Sat, ০৮ Aug ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাজ্যে

৪৪ বছর পর এশিয়ার মেধাবী শিক্ষার্থীদের অক্সফোর্ড-কেমব্রিজ স্নাতক বৃত্তি কর্মসূচি বন্ধ করছে জার্ডিন ফাউন্ডেশন

এ্যানী রহমান
  • প্রকাশঃ ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৯:২৭
  • / 4
৪৪ বছর পর অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজের স্নাতক পর্যায়ের বৃত্তি কর্মসূচি বন্ধ করছে জার্ডিন ফাউন্ডেশন গ্রাফিক্স: প্রজন্ম কথা

লন্ডন, ৮ আগষ্ট, (প্রজন্ম কথা) – এশিয়ার মেধাবী শিক্ষার্থীদের অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ করে দেওয়া দীর্ঘদিনের বৃত্তি কর্মসূচি ৪৪ বছর পর বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জার্ডিন ফাউন্ডেশন। হংকংভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান জার্ডিন ম্যাথেসনের প্রতিষ্ঠিত এই ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষ দিকে অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজে স্নাতক পর্যায়ে যারা পড়াশোনা শুরু করবেন, তারাই এই কর্মসূচির শেষ ব্যাচ হবেন।

কর্মসূচিটি বন্ধ হলেও এশিয়ায় উচ্চশিক্ষায় সহায়তা দেওয়ার কার্যক্রম থেকে সরে যাচ্ছে না জার্ডিন ফাউন্ডেশন। বরং অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজের নির্দিষ্ট স্নাতক বৃত্তির পরিবর্তে এশিয়ার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে বৃত্তির অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে তারা।

ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, জার্ডিনসের ব্যবসায়িক কার্যক্রম রয়েছে এমন এশীয় অঞ্চলের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরিতে ভবিষ্যতেও তাদের প্রতিশ্রুতি থাকবে। তবে আগের কর্মসূচির তুলনায় এশিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অর্থায়নের পরিমাণ ও পরিধি বাড়ানো হবে।

বর্তমানে যারা জার্ডিন স্কলার হিসেবে অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজে পড়াশোনা করছেন, তাদের বৃত্তি বাতিল হচ্ছে না। চলতি বছর ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরাও নির্ধারিত সহায়তা পাবেন। একই সঙ্গে অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজে জার্ডিন ফাউন্ডেশনের বিদ্যমান স্নাতকোত্তর বৃত্তি কর্মসূচিও অব্যাহত থাকবে।

১৯৮২ সালে জার্ডিন ম্যাথেসনের ১৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জার্ডিন ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ ছিল ফাউন্ডেশনটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

প্রতিষ্ঠার পর প্রাথমিক পর্যায়ে অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজের নির্দিষ্ট কয়েকটি কলেজে পূর্ণ বৃত্তি দেওয়ার মাধ্যমে কর্মসূচিটির কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে এশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও অংশীদারত্ব গড়ে তোলে ফাউন্ডেশনটি। এর মধ্যে হংকং বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইন্দোনেশিয়ার গাদজাহ মাদা বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ের বৃত্তি কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীরা এক্সেটার কলেজ, ওরিয়েল কলেজ, দ্য কুইন্স কলেজ ও ট্রিনিটি কলেজের মতো নির্দিষ্ট কলেজে পড়ার সুযোগ পেতেন।

হংকং, চীন, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, ফিলিপাইন ও তাইওয়ানের শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারতেন।

চার দশকের বেশি সময় ধরে পরিচালিত কর্মসূচিটির সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে খ্যাতিমান ব্যক্তিরাও যুক্ত ছিলেন। এর সাবেক চেয়ারম্যানদের মধ্যে ছিলেন শিল্প-ইতিহাসবিদ ডানকান রবিনসন, ব্রিটিশ কূটনীতিক স্যার আইভার রবার্টস এবং ইংরেজ গণিতবিদ জিওফ্রে গ্রিমেট।

হংকংয়ের অন্যতম পুরোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান জার্ডিন ম্যাথেসনের ইতিহাস ইম্পেরিয়াল চীনের সময় পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে গড়ে ওঠা জার্ডিন ফাউন্ডেশনের বৃত্তি কর্মসূচি চার দশকেরও বেশি সময় ধরে এশিয়ার শিক্ষার্থীদের বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ তৈরি করেছে।

এবার সেই দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটছে। তবে জার্ডিন ফাউন্ডেশনের ভাষ্য অনুযায়ী, অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজের স্নাতক বৃত্তি কর্মসূচি বন্ধ হলেও এশিয়ায় উচ্চশিক্ষায় বিনিয়োগ এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

❤️
👏
🙂
😞

৪৪ বছর পর এশিয়ার মেধাবী শিক্ষার্থীদের অক্সফোর্ড-কেমব্রিজ স্নাতক বৃত্তি কর্মসূচি বন্ধ করছে জার্ডিন ফাউন্ডেশন

প্রকাশঃ ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৯:২৭

লন্ডন, ৮ আগষ্ট, (প্রজন্ম কথা) – এশিয়ার মেধাবী শিক্ষার্থীদের অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ করে দেওয়া দীর্ঘদিনের বৃত্তি কর্মসূচি ৪৪ বছর পর বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জার্ডিন ফাউন্ডেশন। হংকংভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান জার্ডিন ম্যাথেসনের প্রতিষ্ঠিত এই ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষ দিকে অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজে স্নাতক পর্যায়ে যারা পড়াশোনা শুরু করবেন, তারাই এই কর্মসূচির শেষ ব্যাচ হবেন।

কর্মসূচিটি বন্ধ হলেও এশিয়ায় উচ্চশিক্ষায় সহায়তা দেওয়ার কার্যক্রম থেকে সরে যাচ্ছে না জার্ডিন ফাউন্ডেশন। বরং অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজের নির্দিষ্ট স্নাতক বৃত্তির পরিবর্তে এশিয়ার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে বৃত্তির অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে তারা।

ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, জার্ডিনসের ব্যবসায়িক কার্যক্রম রয়েছে এমন এশীয় অঞ্চলের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরিতে ভবিষ্যতেও তাদের প্রতিশ্রুতি থাকবে। তবে আগের কর্মসূচির তুলনায় এশিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অর্থায়নের পরিমাণ ও পরিধি বাড়ানো হবে।

বর্তমানে যারা জার্ডিন স্কলার হিসেবে অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজে পড়াশোনা করছেন, তাদের বৃত্তি বাতিল হচ্ছে না। চলতি বছর ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরাও নির্ধারিত সহায়তা পাবেন। একই সঙ্গে অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজে জার্ডিন ফাউন্ডেশনের বিদ্যমান স্নাতকোত্তর বৃত্তি কর্মসূচিও অব্যাহত থাকবে।

১৯৮২ সালে জার্ডিন ম্যাথেসনের ১৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জার্ডিন ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ ছিল ফাউন্ডেশনটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

প্রতিষ্ঠার পর প্রাথমিক পর্যায়ে অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজের নির্দিষ্ট কয়েকটি কলেজে পূর্ণ বৃত্তি দেওয়ার মাধ্যমে কর্মসূচিটির কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে এশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গেও অংশীদারত্ব গড়ে তোলে ফাউন্ডেশনটি। এর মধ্যে হংকং বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইন্দোনেশিয়ার গাদজাহ মাদা বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ের বৃত্তি কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীরা এক্সেটার কলেজ, ওরিয়েল কলেজ, দ্য কুইন্স কলেজ ও ট্রিনিটি কলেজের মতো নির্দিষ্ট কলেজে পড়ার সুযোগ পেতেন।

হংকং, চীন, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, ফিলিপাইন ও তাইওয়ানের শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারতেন।

চার দশকের বেশি সময় ধরে পরিচালিত কর্মসূচিটির সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে খ্যাতিমান ব্যক্তিরাও যুক্ত ছিলেন। এর সাবেক চেয়ারম্যানদের মধ্যে ছিলেন শিল্প-ইতিহাসবিদ ডানকান রবিনসন, ব্রিটিশ কূটনীতিক স্যার আইভার রবার্টস এবং ইংরেজ গণিতবিদ জিওফ্রে গ্রিমেট।

হংকংয়ের অন্যতম পুরোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান জার্ডিন ম্যাথেসনের ইতিহাস ইম্পেরিয়াল চীনের সময় পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে গড়ে ওঠা জার্ডিন ফাউন্ডেশনের বৃত্তি কর্মসূচি চার দশকেরও বেশি সময় ধরে এশিয়ার শিক্ষার্থীদের বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ তৈরি করেছে।

এবার সেই দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটছে। তবে জার্ডিন ফাউন্ডেশনের ভাষ্য অনুযায়ী, অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজের স্নাতক বৃত্তি কর্মসূচি বন্ধ হলেও এশিয়ায় উচ্চশিক্ষায় বিনিয়োগ এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।