ঢাকা ০৯:৩৭ , Thu, ১৩ Aug ২০২৬
বিশ্বসমাচার
এশিয়া

মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগে নতুন কাঠামো, আবেদনকারীদের যেসব ধাপ ও সতর্কতা জানা জরুরি

নাজমুল সাকিব
  • প্রকাশঃ ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯:৩২
  • / 3
ছবি: গ্রাফিক্স প্রজন্ম কথা

কুয়ালালামপুর, ১৩ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – মালয়েশিয়ায় ২০২৬ সালে বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া নতুন কাঠামোর মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। বাংলাদেশসহ কর্মী পাঠানো দেশগুলো থেকে শ্রমিক নিয়োগে মধ্যস্বত্বভোগী ও অননুমোদিত এজেন্ট নিয়ন্ত্রণ, কর্মীদের সুরক্ষা এবং অনলাইন যাচাই ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে নিয়োগ শুরুর সময়, খাতভিত্তিক অনুমোদন ও যোগ্যতার শর্ত পরিবর্তনশীল হওয়ায় আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করে এগোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টের শেষ দিকে ধাপে ধাপে বিদেশি কর্মী নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। উৎপাদন, নির্মাণ, কৃষি, বাগান ও সেবা খাতে বিদেশি কর্মী নিয়োগের সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশসহ কর্মী পাঠানো দেশগুলোর সরকারি বা রাষ্ট্রীয়ভাবে অনুমোদিত জনশক্তি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

সাধারণ শ্রমিকদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা ১৮ থেকে ৪৫ বছর এবং গৃহকর্মীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়স ৪৫ বছর রাখার তথ্য দেওয়া হয়েছে। বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনায় এফডব্লিউসিএমএস এবং ইভিসা ব্যবস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ যাচাই কাঠামো হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় বিদেশে কর্মসংস্থানের অতিরিক্ত ব্যয় ও কর্মী শোষণ কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি কর্মী পাঠানো দেশগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

আগের পর্যায়ে অনুমোদন পাওয়া কিছু কর্মী প্রশাসনিক কারণে নির্ধারিত সময়ে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে পারেননি। আগস্টের শুরুতে এসব অনুমোদিত কর্মীর আবেদন ও প্রবেশসংক্রান্ত জট কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি শুরু হয়েছে বলে প্রদত্ত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।

অনুমোদনহীন দালাল ও উপ-এজেন্টের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ ঠেকাতেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অনিয়মের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠান বা এজেন্টের লাইসেন্স বাতিলসহ শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

মালয়েশিয়ার কলিং ভিসা পেতে যেসব ধাপ

মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী হিসেবে যেতে হলে নিয়োগকর্তার কোটা অনুমোদন থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ভিসা অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট দেশের জনশক্তি ছাড়পত্র পর্যন্ত কয়েকটি ধাপ সম্পন্ন করতে হয়।

প্রথম ধাপ: নিয়োগকর্তার কোটা অনুমোদন

বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তাকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোটা অনুমোদন নিতে হয়। অনুমোদনের পর কর্মীর চাহিদাপত্র ও নিয়োগ চুক্তি প্রস্তুত করা হয়।

দ্বিতীয় ধাপ: স্বাস্থ্য পরীক্ষা

অনুমোদিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মীকে চিকিৎসা পরীক্ষা করাতে হয়। প্রদত্ত তথ্যে বুকের এক্স-রে, রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা এবং সাধারণ শারীরিক সক্ষমতা যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছে। হেপাটাইটিস বি, এইচআইভি, ভিডিআরএল ও ম্যালেরিয়া পরীক্ষার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

চিকিৎসা পরীক্ষার ফলাফল এফডব্লিউসিএমএস ব্যবস্থায় পাঠানোর কথা বলা হয়েছে।

তৃতীয় ধাপ: ভিসা উইথ রেফারেন্স

স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উপযুক্ত বিবেচিত হলে নিয়োগকর্তা কর্মীর পাসপোর্ট ও চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে মালয়েশিয়ার অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে ভিসা উইথ রেফারেন্স বা ভিডিআর অনুমোদনের আবেদন করেন।

চতুর্থ ধাপ: কলিং ভিসা বা একক প্রবেশ ভিসা

ভিডিআর অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট দেশের মালয়েশিয়ান হাইকমিশন বা দূতাবাসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে একক প্রবেশ ভিসা নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ইভিসার ব্যবস্থাও থাকতে পারে।

পঞ্চম ধাপ: জনশক্তি ছাড়পত্র ও যাত্রা

মালয়েশিয়ায় যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি জনশক্তি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হয়। দক্ষিণ এশিয়ার কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ, আঙুলের ছাপ নিবন্ধন এবং দেশত্যাগের অনুমোদনসংক্রান্ত প্রক্রিয়া থাকতে পারে বলে প্রদত্ত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

অনলাইনে কলিং ভিসার আবেদন যাচাই

আবেদনকারীদের দালাল বা অননুমোদিত সূত্রের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট সরকারি ব্যবস্থায় নিজেদের আবেদন যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এফডব্লিউসিএমএস ব্যবস্থায় পাসপোর্ট নম্বর ও নিজ দেশের তথ্য ব্যবহার করে কর্মীর আবেদনসংক্রান্ত তথ্য দেখা যেতে পারে বলে প্রদত্ত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। আবেদনটি নতুন, অনুমোদিত, চিকিৎসা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বা ভিডিআর জারি হয়েছে কি না, সে ধরনের অবস্থাও সেখানে দেখা যেতে পারে।

এ ছাড়া মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের অনলাইন সেবার মাধ্যমে ভিসা আবেদনের অবস্থাও যাচাই করা যায়। আবেদন নম্বর বা পাসপোর্ট নম্বর ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট রেকর্ড খোঁজার সুযোগ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, আবেদনকারীদের সাধারণত এসব নথি প্রস্তুত রাখতে হবে:

  • মূল পাসপোর্ট
  • নির্ধারিত মানের বায়োমেট্রিক ছবি
  • স্বাক্ষর করা নিয়োগ চুক্তি
  • অনুমোদিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মক্ষমতার সনদ
  • জাতীয় পরিচয়পত্র বা নাগরিকত্বের পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি
  • প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ

তবে পাসপোর্টের মেয়াদ, ছবি, নথি সত্যায়ন ও চিকিৎসা সনদের নির্দিষ্ট শর্ত আবেদন করার সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনার সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

দালাল ও প্রতারণা থেকে সতর্কতা

বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগকে কেন্দ্র করে প্রতারণার ঝুঁকি থাকায় অনুমোদনহীন দালাল বা এজেন্টকে অগ্রিম নগদ অর্থ না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যে মালয়েশীয় প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, সেই প্রতিষ্ঠানের বিদেশি কর্মী নিয়োগের অনুমোদন ও কোটা রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা জরুরি।

অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে সরকারি বা অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের রসিদ নেওয়া এবং চাওয়া অর্থের পরিমাণ নির্ধারিত সরকারি ফি ও অন্যান্য বৈধ ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

২০২৬ সালের নতুন কাঠামোয় মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু হলে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়োগের তারিখ, খাত, বয়সসীমা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ভিসা এবং জনশক্তি ছাড়পত্রের শর্ত সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

❤️
👏
🙂
😞

মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগে নতুন কাঠামো, আবেদনকারীদের যেসব ধাপ ও সতর্কতা জানা জরুরি

প্রকাশঃ ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯:৩২

কুয়ালালামপুর, ১৩ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – মালয়েশিয়ায় ২০২৬ সালে বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া নতুন কাঠামোর মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। বাংলাদেশসহ কর্মী পাঠানো দেশগুলো থেকে শ্রমিক নিয়োগে মধ্যস্বত্বভোগী ও অননুমোদিত এজেন্ট নিয়ন্ত্রণ, কর্মীদের সুরক্ষা এবং অনলাইন যাচাই ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে নিয়োগ শুরুর সময়, খাতভিত্তিক অনুমোদন ও যোগ্যতার শর্ত পরিবর্তনশীল হওয়ায় আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করে এগোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টের শেষ দিকে ধাপে ধাপে বিদেশি কর্মী নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। উৎপাদন, নির্মাণ, কৃষি, বাগান ও সেবা খাতে বিদেশি কর্মী নিয়োগের সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশসহ কর্মী পাঠানো দেশগুলোর সরকারি বা রাষ্ট্রীয়ভাবে অনুমোদিত জনশক্তি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

সাধারণ শ্রমিকদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা ১৮ থেকে ৪৫ বছর এবং গৃহকর্মীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়স ৪৫ বছর রাখার তথ্য দেওয়া হয়েছে। বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনায় এফডব্লিউসিএমএস এবং ইভিসা ব্যবস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ যাচাই কাঠামো হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় বিদেশে কর্মসংস্থানের অতিরিক্ত ব্যয় ও কর্মী শোষণ কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি কর্মী পাঠানো দেশগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

আগের পর্যায়ে অনুমোদন পাওয়া কিছু কর্মী প্রশাসনিক কারণে নির্ধারিত সময়ে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে পারেননি। আগস্টের শুরুতে এসব অনুমোদিত কর্মীর আবেদন ও প্রবেশসংক্রান্ত জট কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি শুরু হয়েছে বলে প্রদত্ত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।

অনুমোদনহীন দালাল ও উপ-এজেন্টের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ ঠেকাতেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অনিয়মের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠান বা এজেন্টের লাইসেন্স বাতিলসহ শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

মালয়েশিয়ার কলিং ভিসা পেতে যেসব ধাপ

মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী হিসেবে যেতে হলে নিয়োগকর্তার কোটা অনুমোদন থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ভিসা অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট দেশের জনশক্তি ছাড়পত্র পর্যন্ত কয়েকটি ধাপ সম্পন্ন করতে হয়।

প্রথম ধাপ: নিয়োগকর্তার কোটা অনুমোদন

বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তাকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোটা অনুমোদন নিতে হয়। অনুমোদনের পর কর্মীর চাহিদাপত্র ও নিয়োগ চুক্তি প্রস্তুত করা হয়।

দ্বিতীয় ধাপ: স্বাস্থ্য পরীক্ষা

অনুমোদিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মীকে চিকিৎসা পরীক্ষা করাতে হয়। প্রদত্ত তথ্যে বুকের এক্স-রে, রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা এবং সাধারণ শারীরিক সক্ষমতা যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছে। হেপাটাইটিস বি, এইচআইভি, ভিডিআরএল ও ম্যালেরিয়া পরীক্ষার কথাও উল্লেখ রয়েছে।

চিকিৎসা পরীক্ষার ফলাফল এফডব্লিউসিএমএস ব্যবস্থায় পাঠানোর কথা বলা হয়েছে।

তৃতীয় ধাপ: ভিসা উইথ রেফারেন্স

স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উপযুক্ত বিবেচিত হলে নিয়োগকর্তা কর্মীর পাসপোর্ট ও চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে মালয়েশিয়ার অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে ভিসা উইথ রেফারেন্স বা ভিডিআর অনুমোদনের আবেদন করেন।

চতুর্থ ধাপ: কলিং ভিসা বা একক প্রবেশ ভিসা

ভিডিআর অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট দেশের মালয়েশিয়ান হাইকমিশন বা দূতাবাসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে একক প্রবেশ ভিসা নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ইভিসার ব্যবস্থাও থাকতে পারে।

পঞ্চম ধাপ: জনশক্তি ছাড়পত্র ও যাত্রা

মালয়েশিয়ায় যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি জনশক্তি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হয়। দক্ষিণ এশিয়ার কর্মীদের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ, আঙুলের ছাপ নিবন্ধন এবং দেশত্যাগের অনুমোদনসংক্রান্ত প্রক্রিয়া থাকতে পারে বলে প্রদত্ত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

অনলাইনে কলিং ভিসার আবেদন যাচাই

আবেদনকারীদের দালাল বা অননুমোদিত সূত্রের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট সরকারি ব্যবস্থায় নিজেদের আবেদন যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এফডব্লিউসিএমএস ব্যবস্থায় পাসপোর্ট নম্বর ও নিজ দেশের তথ্য ব্যবহার করে কর্মীর আবেদনসংক্রান্ত তথ্য দেখা যেতে পারে বলে প্রদত্ত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। আবেদনটি নতুন, অনুমোদিত, চিকিৎসা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বা ভিডিআর জারি হয়েছে কি না, সে ধরনের অবস্থাও সেখানে দেখা যেতে পারে।

এ ছাড়া মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের অনলাইন সেবার মাধ্যমে ভিসা আবেদনের অবস্থাও যাচাই করা যায়। আবেদন নম্বর বা পাসপোর্ট নম্বর ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট রেকর্ড খোঁজার সুযোগ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, আবেদনকারীদের সাধারণত এসব নথি প্রস্তুত রাখতে হবে:

  • মূল পাসপোর্ট
  • নির্ধারিত মানের বায়োমেট্রিক ছবি
  • স্বাক্ষর করা নিয়োগ চুক্তি
  • অনুমোদিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মক্ষমতার সনদ
  • জাতীয় পরিচয়পত্র বা নাগরিকত্বের পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি
  • প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ

তবে পাসপোর্টের মেয়াদ, ছবি, নথি সত্যায়ন ও চিকিৎসা সনদের নির্দিষ্ট শর্ত আবেদন করার সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনার সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

দালাল ও প্রতারণা থেকে সতর্কতা

বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগকে কেন্দ্র করে প্রতারণার ঝুঁকি থাকায় অনুমোদনহীন দালাল বা এজেন্টকে অগ্রিম নগদ অর্থ না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যে মালয়েশীয় প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, সেই প্রতিষ্ঠানের বিদেশি কর্মী নিয়োগের অনুমোদন ও কোটা রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা জরুরি।

অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে সরকারি বা অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের রসিদ নেওয়া এবং চাওয়া অর্থের পরিমাণ নির্ধারিত সরকারি ফি ও অন্যান্য বৈধ ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

২০২৬ সালের নতুন কাঠামোয় মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু হলে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়োগের তারিখ, খাত, বয়সসীমা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ভিসা এবং জনশক্তি ছাড়পত্রের শর্ত সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।