ঢাকা ০৯:৫৩ , Fri, ১৪ Aug ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাজ্যে

বিদেশি শিক্ষার্থী কমায় আর্থিক চাপে ব্রিটেনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, ১১% কমেছে স্টুডেন্ট ভিসা আবেদন

আয়ান সরকার
  • প্রকাশঃ ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ২১:২৩
  • / 3
ছবি: টিভি৩বাংলা

লন্ডন, ১৪ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আর্থিক চাপ বাড়ছে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কায় শিক্ষক-কর্মচারী ছাঁটাই, কোর্স বাতিল এবং কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় লেবার সরকারের কাছে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর আরোপিত ৯২৫ পাউন্ডের লেভি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় নেতারা।

হোম অফিসের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ শতাংশ কমেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আশঙ্কা, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। এতে বিদেশি শিক্ষার্থীর ওপর বেশি নির্ভরশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক অবস্থায় বড় চাপ তৈরি হতে পারে।

কিংস কলেজ লন্ডনের উপাচার্য অধ্যাপক শিতিজ কাপুর বলেছেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার প্রভাব ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দেখা যাচ্ছে। তাঁর মতে, প্রতি পাঁচজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমলে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি চাকরি ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে কর্মীসংখ্যা ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতা দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে দেশীয় শিক্ষার্থীদের ভর্তিতে চলতি বছর ইতিবাচক চিত্র দেখা গেলেও তা বিদেশি শিক্ষার্থীর ঘাটতি পূরণ করতে পারছে না। ইংল্যান্ডে এ বছর রেকর্ড ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থী তাদের প্রথম পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। এ-লেভেল পরীক্ষার ফলও আগের তুলনায় ভালো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক চাপের আরেকটি কারণ দেশীয় শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি দীর্ঘ সময় ধরে কার্যত অপরিবর্তিত থাকা। ২০১৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত স্নাতক পর্যায়ের সর্বোচ্চ ফি ৯ হাজার ২৫০ পাউন্ডে স্থির ছিল। মূল্যস্ফীতির কারণে এই আয়ের প্রকৃত মূল্য প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে গেছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য ৯২৫ পাউন্ড লেভি যুক্ত হওয়ায় ব্যয়ের চাপ আরও বেড়েছে।

এর প্রভাব বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তেও দেখা যাচ্ছে। ইউনিভার্সিটি অব এক্সেটার কর্নওয়ালের পেনরিন ক্যাম্পাসে ভূগোলসহ একাধিক কোর্স বাতিল করেছে। এর প্রভাব চলতি বছরের আবেদনকারীদের ওপরও পড়বে। এডিনবরা ও কার্ডিফসহ আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্মী ছাঁটাই ও ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।

সাবেক বিশ্ববিদ্যালয়মন্ত্রী ডেভিড উইলেটস বলেছেন, আর্থিক সংকটের কারণে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাঁর মতে, অর্থসংকটের প্রভাব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মানের ওপরও পড়তে পারে।

রাসেল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী লিবি হ্যাকেট বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের গুরুত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ও সমাজ পর্যন্ত বিস্তৃত। সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিদেশি শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার কারণে যুক্তরাজ্য প্রায় ৩ বিলিয়ন পাউন্ডের নিট অর্থনৈতিক সুবিধা হারিয়েছে।

ইউনিভার্সিটিজ ইউকের প্রধান নির্বাহী ভিভিয়েন স্টার্ন সর্বশেষ ভিসা আবেদনের পরিসংখ্যানকে নীতিনির্ধারকদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর আরোপিত লেভি প্রত্যাহার করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আর্থিকভাবে কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার বাজারে যুক্তরাজ্যের অবস্থান ধরে রাখার সুযোগ বাড়বে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
❤️
👏
🙂
😞

বিদেশি শিক্ষার্থী কমায় আর্থিক চাপে ব্রিটেনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, ১১% কমেছে স্টুডেন্ট ভিসা আবেদন

প্রকাশঃ ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ২১:২৩

লন্ডন, ১৪ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আর্থিক চাপ বাড়ছে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কায় শিক্ষক-কর্মচারী ছাঁটাই, কোর্স বাতিল এবং কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় লেবার সরকারের কাছে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর আরোপিত ৯২৫ পাউন্ডের লেভি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় নেতারা।

হোম অফিসের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ শতাংশ কমেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আশঙ্কা, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। এতে বিদেশি শিক্ষার্থীর ওপর বেশি নির্ভরশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক অবস্থায় বড় চাপ তৈরি হতে পারে।

কিংস কলেজ লন্ডনের উপাচার্য অধ্যাপক শিতিজ কাপুর বলেছেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার প্রভাব ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দেখা যাচ্ছে। তাঁর মতে, প্রতি পাঁচজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমলে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি চাকরি ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে কর্মীসংখ্যা ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতা দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে দেশীয় শিক্ষার্থীদের ভর্তিতে চলতি বছর ইতিবাচক চিত্র দেখা গেলেও তা বিদেশি শিক্ষার্থীর ঘাটতি পূরণ করতে পারছে না। ইংল্যান্ডে এ বছর রেকর্ড ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থী তাদের প্রথম পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। এ-লেভেল পরীক্ষার ফলও আগের তুলনায় ভালো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক চাপের আরেকটি কারণ দেশীয় শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি দীর্ঘ সময় ধরে কার্যত অপরিবর্তিত থাকা। ২০১৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত স্নাতক পর্যায়ের সর্বোচ্চ ফি ৯ হাজার ২৫০ পাউন্ডে স্থির ছিল। মূল্যস্ফীতির কারণে এই আয়ের প্রকৃত মূল্য প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে গেছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য ৯২৫ পাউন্ড লেভি যুক্ত হওয়ায় ব্যয়ের চাপ আরও বেড়েছে।

এর প্রভাব বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তেও দেখা যাচ্ছে। ইউনিভার্সিটি অব এক্সেটার কর্নওয়ালের পেনরিন ক্যাম্পাসে ভূগোলসহ একাধিক কোর্স বাতিল করেছে। এর প্রভাব চলতি বছরের আবেদনকারীদের ওপরও পড়বে। এডিনবরা ও কার্ডিফসহ আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্মী ছাঁটাই ও ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।

সাবেক বিশ্ববিদ্যালয়মন্ত্রী ডেভিড উইলেটস বলেছেন, আর্থিক সংকটের কারণে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাঁর মতে, অর্থসংকটের প্রভাব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মানের ওপরও পড়তে পারে।

রাসেল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী লিবি হ্যাকেট বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের গুরুত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ও সমাজ পর্যন্ত বিস্তৃত। সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিদেশি শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার কারণে যুক্তরাজ্য প্রায় ৩ বিলিয়ন পাউন্ডের নিট অর্থনৈতিক সুবিধা হারিয়েছে।

ইউনিভার্সিটিজ ইউকের প্রধান নির্বাহী ভিভিয়েন স্টার্ন সর্বশেষ ভিসা আবেদনের পরিসংখ্যানকে নীতিনির্ধারকদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর আরোপিত লেভি প্রত্যাহার করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আর্থিকভাবে কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার বাজারে যুক্তরাজ্যের অবস্থান ধরে রাখার সুযোগ বাড়বে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান