ঢাকা ০৮:০৬ , Mon, ২৪ Aug ২০২৬

পাঁচ মাসের কঠোর প্রশিক্ষণ, ১১০ ডিগ্রি গরম, সবকিছু পেরিয়ে মার্কিন সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেন সিলেটের পংকজ

ফাহিম আহমেদ
  • প্রকাশঃ ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৬:০৫
  • / 5
যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোরে কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিয়েছেন সিলেটের পংকজ তালুকদার ছবি: সংগৃহীত

সিলেট, ২৪ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – সিলেটের টিলাগড়ের পংকজ তালুকদার কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোরে কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রযুক্তি খাতে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করার পর তাঁর সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার এই যাত্রা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতজনদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।

পংকজ সিলেটের হাতিম আলী উচ্চবিদ্যালয় ও এমসি কলেজে পড়াশোনা শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। পরে নিউইয়র্কের সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর পরিবারের মূল বাড়ি সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের সামরিক প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে পংকজ জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতির প্রতিটি ধাপেই কঠোর শারীরিক ও মানসিক প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। অনেক দিন ভোর ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে প্রশিক্ষণ শুরু হয়ে রাত ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত চলেছে। সীমিত বিশ্রামের মধ্যেও প্রতিদিন শারীরিক সক্ষমতা, সহনশীলতা ও মানসিক দৃঢ়তার পরীক্ষা দিতে হয়েছে।

মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষণেও ছিল কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি। প্রায় ১১০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় টানা চার দিন জঙ্গলে অবস্থান করে প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে। প্রচণ্ড গরম, সাপ, পোকামাকড় ও শারীরিক ক্লান্তির মধ্যেও প্রশিক্ষণ চালিয়ে যেতে হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে এম৪ রাইফেল দিয়ে গুলি চালানো, জীবন্ত গ্রেনেড নিক্ষেপ, মাইন শনাক্তকরণ এবং বিভিন্ন ধরনের দুর্গম বাধা অতিক্রমের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন পংকজ। প্রায় পাঁচ মাসের প্রশিক্ষণে তাঁর ওজন ২৬ পাউন্ড কমে যায়। এ সময় প্রায় প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার দৌড়াতেও হয়েছে তাঁকে।

প্রশিক্ষণের আরেকটি কঠিন ধাপ ছিল কাঁধে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ পাউন্ড ওজনের ব্যাগ নিয়ে টানা ১০ মাইল হাঁটা। কখনো মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেও এই প্রশিক্ষণ চালিয়ে যেতে হয়েছে। শারীরিক ক্লান্তি সত্ত্বেও প্রশিক্ষণ থামানোর সুযোগ ছিল না বলে নিজের অভিজ্ঞতায় উল্লেখ করেছেন পংকজ।

তিনি জানান, অনেক সময় শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়লেও প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাওয়ার জন্য নিজের মনোবল ধরে রাখতে হয়েছে। পরিবারের সদস্য ও পরিচিত পরিবেশ থেকে দীর্ঘ সময় দূরে থাকাও তাঁর জন্য মানসিকভাবে কঠিন ছিল। প্রশিক্ষণের সময় মুঠোফোন ব্যবহারের সুযোগ সীমিত থাকায় কখনো মাত্র ৩০ মিনিটের জন্য পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরেছেন।

দীর্ঘ প্রশিক্ষণ শেষে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন পংকজ। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বেসামরিক জীবন থেকে শুরু করা এই যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ করে এখন তিনি গর্বের সঙ্গে বলতে পারেন, “আমি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একজন সদস্য।”

পংকজের ভাষ্য, “এই পথ সহজ ছিল না। কিন্তু প্রতিটি কষ্ট সার্থক হয়েছে। কষ্ট ছিল সাময়িক, গর্ব থাকবে চিরদিন।”

সিলেট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে প্রযুক্তি খাতে পেশাজীবন শুরু করার পর সামরিক বাহিনীর কঠোর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে ইঞ্জিনিয়ার কোরে কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার এই পথকে তাঁর পরিচিতজনেরা পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও অধ্যবসায়ের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

❤️
👏
🙂
😞

পাঁচ মাসের কঠোর প্রশিক্ষণ, ১১০ ডিগ্রি গরম, সবকিছু পেরিয়ে মার্কিন সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেন সিলেটের পংকজ

প্রকাশঃ ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৬:০৫

সিলেট, ২৪ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – সিলেটের টিলাগড়ের পংকজ তালুকদার কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোরে কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রযুক্তি খাতে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করার পর তাঁর সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার এই যাত্রা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতজনদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।

পংকজ সিলেটের হাতিম আলী উচ্চবিদ্যালয় ও এমসি কলেজে পড়াশোনা শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। পরে নিউইয়র্কের সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার আগে তিনি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর পরিবারের মূল বাড়ি সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের সামরিক প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে পংকজ জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতির প্রতিটি ধাপেই কঠোর শারীরিক ও মানসিক প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। অনেক দিন ভোর ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে প্রশিক্ষণ শুরু হয়ে রাত ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত চলেছে। সীমিত বিশ্রামের মধ্যেও প্রতিদিন শারীরিক সক্ষমতা, সহনশীলতা ও মানসিক দৃঢ়তার পরীক্ষা দিতে হয়েছে।

মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষণেও ছিল কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি। প্রায় ১১০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় টানা চার দিন জঙ্গলে অবস্থান করে প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে। প্রচণ্ড গরম, সাপ, পোকামাকড় ও শারীরিক ক্লান্তির মধ্যেও প্রশিক্ষণ চালিয়ে যেতে হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে এম৪ রাইফেল দিয়ে গুলি চালানো, জীবন্ত গ্রেনেড নিক্ষেপ, মাইন শনাক্তকরণ এবং বিভিন্ন ধরনের দুর্গম বাধা অতিক্রমের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন পংকজ। প্রায় পাঁচ মাসের প্রশিক্ষণে তাঁর ওজন ২৬ পাউন্ড কমে যায়। এ সময় প্রায় প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার দৌড়াতেও হয়েছে তাঁকে।

প্রশিক্ষণের আরেকটি কঠিন ধাপ ছিল কাঁধে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ পাউন্ড ওজনের ব্যাগ নিয়ে টানা ১০ মাইল হাঁটা। কখনো মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেও এই প্রশিক্ষণ চালিয়ে যেতে হয়েছে। শারীরিক ক্লান্তি সত্ত্বেও প্রশিক্ষণ থামানোর সুযোগ ছিল না বলে নিজের অভিজ্ঞতায় উল্লেখ করেছেন পংকজ।

তিনি জানান, অনেক সময় শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়লেও প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাওয়ার জন্য নিজের মনোবল ধরে রাখতে হয়েছে। পরিবারের সদস্য ও পরিচিত পরিবেশ থেকে দীর্ঘ সময় দূরে থাকাও তাঁর জন্য মানসিকভাবে কঠিন ছিল। প্রশিক্ষণের সময় মুঠোফোন ব্যবহারের সুযোগ সীমিত থাকায় কখনো মাত্র ৩০ মিনিটের জন্য পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরেছেন।

দীর্ঘ প্রশিক্ষণ শেষে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন পংকজ। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বেসামরিক জীবন থেকে শুরু করা এই যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ করে এখন তিনি গর্বের সঙ্গে বলতে পারেন, “আমি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একজন সদস্য।”

পংকজের ভাষ্য, “এই পথ সহজ ছিল না। কিন্তু প্রতিটি কষ্ট সার্থক হয়েছে। কষ্ট ছিল সাময়িক, গর্ব থাকবে চিরদিন।”

সিলেট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে প্রযুক্তি খাতে পেশাজীবন শুরু করার পর সামরিক বাহিনীর কঠোর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে ইঞ্জিনিয়ার কোরে কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার এই পথকে তাঁর পরিচিতজনেরা পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও অধ্যবসায়ের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।