ঢাকা ০৩:৫৯ , Fri, ১৮ Sep ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাষ্ট্র

মেডিকেইডের ওষুধের দাম কমাতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নতুন নীতি আনছে ট্রাম্প প্রশাসন

প্রজন্ম কথা ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:৫০
  • / 3
প্রেসক্রিপশন ওষুধ হাতে এক ব্যক্তি। যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধের দাম কমাতে নতুন মূল্যনীতি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন ছবি: রয়টার্স

ওয়াশিংটন, ১৮ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য, ওয়াশিংটন ডিসি ও পুয়ের্তো রিকোয় মেডিকেইডের আওতায় কিছু ওষুধে আন্তর্জাতিকভাবে সর্বনিম্ন দামের কাছাকাছি মূল্য নির্ধারণের নীতি চালু করতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। শুক্রবার এ পরিকল্পনার ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে বলে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এই নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রে কিছু প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন যে মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুসরণ করছে, সেটিকে ‘মোস্ট-ফেভার্ড-ন্যাশন’ বা সবচেয়ে সুবিধাজনক দেশের মূল্যনীতি বলা হচ্ছে। এর আওতায় কোনো ওষুধের জন্য অন্যান্য উন্নত দেশে যে কম দাম নেওয়া হয়, তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দাম সামঞ্জস্য করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম অনেক বেশি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে একই ওষুধের দাম অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় প্রায় তিন গুণ পর্যন্ত বেশি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবধান কমানোর কথা বলে আসছেন।

গত বছর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বের বড় কয়েকটি ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে এ ধরনের মূল্য কমানোর চুক্তি করে আসছে। এর মধ্যে ফাইজার, এলি লিলি ও নোভো নরডিস্কসহ বড় কোম্পানি রয়েছে। কোম্পানিগুলো অন্যান্য উন্নত দেশে যে দামে ওষুধ বিক্রি করে, তার কাছাকাছি দামে যুক্তরাষ্ট্রে কিছু ওষুধ দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

আগস্টের শেষ দিকে প্রশাসন আরও নয়টি ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির ঘোষণা দেয়। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ওই চুক্তিগুলোর ফলে দেশের প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের মেডিকেইড কর্মসূচি সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর কিছু ওষুধ আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত সবচেয়ে কম দামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মূল্যে পাওয়ার সুযোগ পাবে।

মেডিকেইড যুক্তরাষ্ট্রের নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি, যার অর্থায়ন কেন্দ্রীয় ও অঙ্গরাজ্য সরকার যৌথভাবে করে। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, মেডিকেইড ইতিমধ্যেই ওষুধ কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে বড় ধরনের মূল্যছাড় পেয়ে থাকে। এই কর্মসূচির আওতাভুক্ত অধিকাংশ মানুষ প্রেসক্রিপশন ওষুধের জন্য খুব কম অর্থ নিজের পকেট থেকে দেন।

ট্রাম্প প্রশাসন মে মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, তাদের স্বেচ্ছামূলক ‘সবচেয়ে সুবিধাজনক দেশের মূল্যনীতি’ কাঠামোর আওতায় বিদ্যমান কিছু ওষুধ মেডিকেইড কর্মসূচিতে কম দামে সরবরাহ করা হবে। প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, এতে আগামী ১০ বছরে কেন্দ্রীয় ও অঙ্গরাজ্য সরকারের ৬৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হতে পারে। এটি প্রশাসনের নিজস্ব হিসাব, স্বাধীনভাবে যাচাই করা পূর্বাভাস নয়।

গত মাসেও আন্তর্জাতিক ওষুধ কোম্পানি এবং অপেক্ষাকৃত ছোট জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন মূল্যসংক্রান্ত চুক্তির ঘোষণা দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। হোয়াইট হাউসের দাবি, এসব চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওষুধের দাম অন্যান্য উন্নত দেশের দামের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

নতুন পরিকল্পনার আওতায় মেডিকেইডে অন্তর্ভুক্ত রোগীদের জন্য কোন কোন ওষুধে নতুন মূল্য কার্যকর হবে এবং বাস্তবে অঙ্গরাজ্যগুলো কীভাবে তা প্রয়োগ করবে, সে বিষয়ে শুক্রবারের ঘোষণায় আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার কথা রয়েছে।

❤️
👏
🙂
😞

মেডিকেইডের ওষুধের দাম কমাতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নতুন নীতি আনছে ট্রাম্প প্রশাসন

প্রকাশঃ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:৫০

ওয়াশিংটন, ১৮ সেপ্টেম্বর, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য, ওয়াশিংটন ডিসি ও পুয়ের্তো রিকোয় মেডিকেইডের আওতায় কিছু ওষুধে আন্তর্জাতিকভাবে সর্বনিম্ন দামের কাছাকাছি মূল্য নির্ধারণের নীতি চালু করতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। শুক্রবার এ পরিকল্পনার ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে বলে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এই নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রে কিছু প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন যে মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুসরণ করছে, সেটিকে ‘মোস্ট-ফেভার্ড-ন্যাশন’ বা সবচেয়ে সুবিধাজনক দেশের মূল্যনীতি বলা হচ্ছে। এর আওতায় কোনো ওষুধের জন্য অন্যান্য উন্নত দেশে যে কম দাম নেওয়া হয়, তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দাম সামঞ্জস্য করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম অনেক বেশি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে একই ওষুধের দাম অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় প্রায় তিন গুণ পর্যন্ত বেশি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবধান কমানোর কথা বলে আসছেন।

গত বছর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বের বড় কয়েকটি ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে এ ধরনের মূল্য কমানোর চুক্তি করে আসছে। এর মধ্যে ফাইজার, এলি লিলি ও নোভো নরডিস্কসহ বড় কোম্পানি রয়েছে। কোম্পানিগুলো অন্যান্য উন্নত দেশে যে দামে ওষুধ বিক্রি করে, তার কাছাকাছি দামে যুক্তরাষ্ট্রে কিছু ওষুধ দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

আগস্টের শেষ দিকে প্রশাসন আরও নয়টি ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির ঘোষণা দেয়। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ওই চুক্তিগুলোর ফলে দেশের প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের মেডিকেইড কর্মসূচি সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর কিছু ওষুধ আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত সবচেয়ে কম দামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মূল্যে পাওয়ার সুযোগ পাবে।

মেডিকেইড যুক্তরাষ্ট্রের নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি, যার অর্থায়ন কেন্দ্রীয় ও অঙ্গরাজ্য সরকার যৌথভাবে করে। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, মেডিকেইড ইতিমধ্যেই ওষুধ কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে বড় ধরনের মূল্যছাড় পেয়ে থাকে। এই কর্মসূচির আওতাভুক্ত অধিকাংশ মানুষ প্রেসক্রিপশন ওষুধের জন্য খুব কম অর্থ নিজের পকেট থেকে দেন।

ট্রাম্প প্রশাসন মে মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, তাদের স্বেচ্ছামূলক ‘সবচেয়ে সুবিধাজনক দেশের মূল্যনীতি’ কাঠামোর আওতায় বিদ্যমান কিছু ওষুধ মেডিকেইড কর্মসূচিতে কম দামে সরবরাহ করা হবে। প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, এতে আগামী ১০ বছরে কেন্দ্রীয় ও অঙ্গরাজ্য সরকারের ৬৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হতে পারে। এটি প্রশাসনের নিজস্ব হিসাব, স্বাধীনভাবে যাচাই করা পূর্বাভাস নয়।

গত মাসেও আন্তর্জাতিক ওষুধ কোম্পানি এবং অপেক্ষাকৃত ছোট জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন মূল্যসংক্রান্ত চুক্তির ঘোষণা দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। হোয়াইট হাউসের দাবি, এসব চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওষুধের দাম অন্যান্য উন্নত দেশের দামের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

নতুন পরিকল্পনার আওতায় মেডিকেইডে অন্তর্ভুক্ত রোগীদের জন্য কোন কোন ওষুধে নতুন মূল্য কার্যকর হবে এবং বাস্তবে অঙ্গরাজ্যগুলো কীভাবে তা প্রয়োগ করবে, সে বিষয়ে শুক্রবারের ঘোষণায় আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার কথা রয়েছে।