শেয়ারবাজারে ২ লাখ ডলার হারিয়েও ঘুরে দাঁড়ালেন, বাফেলোতে শতাধিক বাড়ির মালিক তালহা
- প্রকাশঃ ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৩৭
- / 12
বাফেলো, নিউইয়র্ক, ৯ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা) – মাত্র আট বছর বয়সে বাবা-মায়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন তালহা বখত। নতুন দেশে পড়াশোনা, প্রযুক্তি খাতে চাকরি এবং একের পর এক ব্যবসায়িক উদ্যোগের মধ্য দিয়ে গড়ে তোলেন নিজের কর্মজীবন। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে প্রায় দুই লাখ ডলার হারানোর ধাক্কাও সামলাতে হয়েছে তাঁকে। পরে আবাসন ব্যবসায় মনোযোগ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো শহরে প্রায় ১০০টি বাড়ির মালিক হিসেবে পরিচিতি পান তিনি। তবে তাঁর বর্তমান সম্পত্তির সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
তালহা বখতের কর্মজীবনের শুরু প্রযুক্তি খাতে। পড়াশোনা ও তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষতা কাজে লাগিয়ে তিনি বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এইচপিতে কাজ করেন। করপোরেট চাকরির পাশাপাশি উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ ধরে রাখেন। একসময় অনুষ্ঠান আয়োজন ও ভোজ ব্যবস্থাপনার ব্যবসায় যুক্ত হন তিনি। প্রকাশিত একটি ফিচারে বলা হয়েছে, তাঁর এই ব্যবসায় প্রায় ৯০০ কর্মী কাজ করতেন। ব্যবসার পরিসর বাড়লেও পরবর্তী সময়ে বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন তিনি।
২০০৮ সালে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের পর ২০০৯ সালের বাজারধসের সময় প্রায় দুই লাখ ডলার হারানোর অভিজ্ঞতা হয় তালহার। বড় অঙ্কের এই ক্ষতির পরও ব্যবসা থেকে সরে দাঁড়াননি তিনি। নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। পরবর্তী সময়ে রেস্তোরাঁ, মোবাইল ফোনের আনুষঙ্গিক পণ্যের ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং আবাসন ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে কাজ করেন।
২০১২ সালে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো শহরে বাড়ি কেনার পরিকল্পনা নিয়ে যান তালহা বখত। বাড়ি কিনে দ্রুত বিক্রি করে মুনাফা করার বদলে দীর্ঘমেয়াদে সম্পত্তি ধরে রেখে ভাড়া দেওয়ার কৌশল বেছে নেন তিনি। এভাবে আবাসন ব্যবসায় নিজের অবস্থান গড়ে তোলেন। ২০২২ সালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বাফেলোতে তাঁর প্রায় ১০০টি বাড়ি থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের ৯ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁর মালিকানায় থাকা বাড়ির হালনাগাদ সংখ্যা নিশ্চিত করার মতো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
আবাসন ব্যবসার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের চাহিদা পূরণেও উদ্যোগ নিয়েছেন তালহা। বাফেলোর ১৩৫০ ফিলমোর অ্যাভিনিউতে অবস্থিত আল-আকসা সুপারমার্কেট ও রেস্তোরাঁর সহ-মালিকদের একজন তিনি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউকেবিডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি চালুর সময় তালহা বখত ও তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার মোহাম্মদ হাসনাত প্রায় ২০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেন। দক্ষিণ এশীয় খাবার, হালাল পণ্য এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়।
বাফেলোর বাংলাদেশি কমিউনিটিতে তালহা বখত ‘বাফেলোর প্রিন্স’ নামে পরিচিত। ২০২৪ সালে স্থানীয় বাংলাদেশি সাংবাদিক কেরামত উল্লাহ বিপ্লবের সম্মাননা অনুষ্ঠান নিয়ে প্রকাশিত এক সংবাদে তাঁকে এই পরিচয়ে উল্লেখ করে ঢাকা পোস্ট।
শৈশবে দেশান্তর, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে চাকরি, একাধিক ব্যবসায়িক উদ্যোগ এবং বিনিয়োগে বড় ক্ষতির পর নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তালহার জীবনকাহিনির উল্লেখযোগ্য দিক। তাঁর ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের কিছু তথ্য বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও বর্তমান সম্পদের পরিমাণ, বাড়ির সঠিক সংখ্যা এবং সব ব্যবসার আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে হালনাগাদ নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁকে ঘিরে প্রকাশিত সাফল্যের তথ্য ও তাঁর বর্তমান আর্থিক অবস্থার মধ্যে পার্থক্য রাখা জরুরি।























