যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টধারীদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণে যে ৮টি ভুল এড়িয়ে চলা জরুরি
- প্রকাশঃ ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:১৬
- / 7
(প্রজন্ম কথা) – পাসপোর্টের মেয়াদ, নামের বানান, ফাঁকা পৃষ্ঠা কিংবা আগাম ভ্রমণ অনুমোদনের ঘাটতিতে আন্তর্জাতিক যাত্রায় জটিলতায় পড়তে পারেন যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টধারীরা। পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ না হলেও গন্তব্য দেশের প্রবেশসংক্রান্ত শর্ত পূরণ না হলে বিমানে উঠতে বাধা কিংবা পৌঁছানোর পর প্রবেশে সমস্যা হতে পারে। তাই বিদেশযাত্রার আগে পাসপোর্টের তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি ভিসা, প্রয়োজনীয় ভ্রমণ অনুমোদন এবং যাত্রাবিরতির দেশগুলোর নিয়ম জেনে নেওয়া জরুরি।
ভ্রমণবিষয়ক লেখক ও ভ্রমণ নথিপত্র বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, পাসপোর্ট হারানোর কথা জানানোর পর সেটি খুঁজে পাওয়া, বিমানের টিকিটের সঙ্গে নামের অমিল, নথি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কিংবা নতুন পাসপোর্ট নেওয়ার পর আগের ভ্রমণ অনুমোদন হালনাগাদ না করার মতো ভুলেও যাত্রা ব্যাহত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টধারীদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের আগে অন্তত আটটি বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
১. গন্তব্য দেশের প্রবেশের শর্ত যাচাই না করা
পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ না হলেই সেটি দিয়ে সব দেশে প্রবেশ করা যাবে, এমন ধারণা সঠিক নয়। কোনো কোনো দেশ প্রবেশের দিন থেকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পাসপোর্টের মেয়াদ অবশিষ্ট থাকার শর্ত দেয়। আবার কিছু দেশ ভ্রমণকারীর পরিকল্পিতভাবে দেশ ছাড়ার তারিখ ধরে পাসপোর্টের মেয়াদ হিসাব করে।
ইউরোপের শেনজেন অঞ্চলে প্রবেশকারী ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের অধিকাংশ দেশের নাগরিকের পাসপোর্ট প্রবেশের তারিখের আগের ১০ বছরের মধ্যে ইস্যু করা হতে হয়। একই সঙ্গে শেনজেন অঞ্চল ছাড়ার পরিকল্পিত তারিখের পরও পাসপোর্টের মেয়াদ অন্তত তিন মাস থাকতে হয়।
কিছু দেশ প্রবেশের দিন বা পরিকল্পিতভাবে ফেরার তারিখের পর পাসপোর্টের অন্তত ছয় মাস মেয়াদ থাকার শর্ত দিতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে গন্তব্য দেশ এবং যাত্রাপথে যেসব দেশে যাত্রাবিরতি হবে, সেসব দেশের নিয়মও যাচাই করা জরুরি।
২. পাসপোর্টে পর্যাপ্ত ফাঁকা পৃষ্ঠা না থাকা
পাসপোর্টের মেয়াদ ঠিক থাকলেও ভিসা বা প্রবেশের সিল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত ফাঁকা পৃষ্ঠা না থাকলে ভ্রমণে সমস্যা হতে পারে। ভ্রমণ নথিপত্রবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ভিক্টর জিমেনেজের মতে, কোনো কোনো দেশ অন্তত একটি ফাঁকা পৃষ্ঠা চায়। চীন ও ভারতের মতো দেশ নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে দুটি ফাঁকা পৃষ্ঠা রাখার শর্ত দিতে পারে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে পরপর দুটি সম্পূর্ণ ফাঁকা পৃষ্ঠা প্রয়োজন হতে পারে। অনুমোদন বা বিশেষ মন্তব্য লেখার জন্য নির্ধারিত পৃষ্ঠা এ ক্ষেত্রে ফাঁকা পৃষ্ঠা হিসেবে গণ্য হয় না।
তাই পাসপোর্টে কিছু জায়গা অবশিষ্ট থাকলেই যথেষ্ট ধরে নেওয়া উচিত নয়। গন্তব্য দেশের নিয়ম অনুযায়ী সম্পূর্ণ ফাঁকা পৃষ্ঠার সংখ্যা ও অবস্থান যাচাই করতে হবে।
৩. শিশুর পাসপোর্টের নিয়ম উপেক্ষা করা
যুক্তরাষ্ট্রে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের পাসপোর্ট সাধারণত পাঁচ বছর মেয়াদি। প্রাপ্তবয়স্কদের পাসপোর্টের মেয়াদ সাধারণত ১০ বছর। ফলে শিশুর পাসপোর্টের মেয়াদ কখন শেষ হচ্ছে, তা অভিভাবকদের খেয়াল রাখা প্রয়োজন।
১৬ বছরের কম বয়সী শিশুর পাসপোর্ট নবায়নের জন্য সাধারণত নতুন আবেদন সরাসরি উপস্থিত হয়ে জমা দিতে হয়। অনলাইনে বা ডাকযোগে নবায়নের সাধারণ প্রক্রিয়া তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। সাধারণ নিয়মে আবেদন করার সময় বাবা-মা বা আইনগত অভিভাবক উভয়ের উপস্থিতি প্রয়োজন হতে পারে। কেউ উপস্থিত থাকতে না পারলে পরিস্থিতি অনুযায়ী সম্মতিপত্র, আইনগত অভিভাবকত্বের প্রমাণ বা অতিরিক্ত নথি জমা দিতে হতে পারে।
শিশুর পদবি বাবা-মায়ের পদবির সঙ্গে না মিললে জন্মসনদ সঙ্গে রাখা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর একই পদবি হলেও শিশুর জন্মসনদ বা আইনগত সম্পর্কের প্রমাণের অনুলিপি সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেয়।
৪. টিকিটের সঙ্গে পাসপোর্টের নামের অমিল
বিয়ের পর নতুন পদবি ব্যবহার করে বিমানের টিকিট বুক করা হলেও পাসপোর্টে পুরোনো পদবি থাকলে যাত্রার সময় সমস্যা হতে পারে। নামের বানানে সামান্য পার্থক্যও বিমানবন্দরে বিলম্ব কিংবা বিমানে উঠতে না পারার কারণ হতে পারে।
ভ্রমণ নথিপত্রবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ভিসামুন্ডির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী সেবাস্তিয়েন কুইক্সের মতে, টিকিটে বানান ভুল থাকলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে যাত্রায় সমস্যা হয় না। আবার একটি অক্ষরের ভুলেই গুরুত্বপূর্ণ ভ্রমণ ব্যাহত হতে পারে। তাই ভুল ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে সংশোধনের ব্যবস্থা করা উচিত।
দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের দুটি পাসপোর্টে নামের পার্থক্য থাকলে টিকিট বুক করার আগে বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে কোন নাম ব্যবহার করতে হবে, তা জেনে নেওয়া ভালো। সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি নির্দেশনাও যাচাই করা প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিকদের দেশটিতে প্রবেশ ও দেশটি থেকে বের হওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট ব্যবহার করতে হয়। অন্য নাগরিকত্বের দেশে প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রে ওই দেশের নিয়ম অনুযায়ী অন্য পাসপোর্টও প্রয়োজন হতে পারে।
৫. ক্ষতিগ্রস্ত পাসপোর্ট নিয়ে ভ্রমণ করা
পাসপোর্টের পৃষ্ঠা একসঙ্গে আটকে যাওয়া, বাঁধাই ছিঁড়ে যাওয়া কিংবা তথ্যসংবলিত পাতায় ক্ষতি থাকাকে ছোট সমস্যা মনে হতে পারে। কিন্তু ক্ষতির ধরন গুরুতর হলে বিমান সংস্থা বিমানে উঠতে বাধা দিতে পারে এবং সীমান্ত কর্মকর্তারা প্রবেশ প্রত্যাখ্যান করতে পারেন।
পাসপোর্টের তথ্যসংবলিত পাতায় ছবি, ব্যক্তিগত তথ্য, পাসপোর্ট নম্বর এবং ইস্যু ও মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ থাকে। পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এই পাতার তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে পানির দাগ, ছত্রাক, বড় ধরনের দাগ কিংবা ওপরের সুরক্ষামূলক স্তর উঠে যাওয়ার মতো ক্ষতি থাকলে নতুন পাসপোর্ট নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
ভিক্টর জিমেনেজের সতর্কতা অনুযায়ী, পাসপোর্টের তথ্যসংবলিত পাতায় অনুমোদনহীন লেখা, স্টিকার বা অন্য কোনো চিহ্নও সমস্যা তৈরি করতে পারে। শিশুর আঁকিবুঁকি কিংবা স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে লাগানো স্টিকারও কোনো কোনো ক্ষেত্রে নথিটিকে অগ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারে।
তবে পাসপোর্টের প্রচ্ছদে সামান্য ঘষা লাগা বা পাতায় হালকা ভাঁজ পড়লেই সেটি বদলাতে হবে, এমন নয়। ক্ষতি যদি তথ্য পড়া বা ইলেকট্রনিকভাবে যাচাই করার প্রক্রিয়ায় বাধা না দেয়, তাহলে তা স্বাভাবিক ব্যবহারজনিত ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
৬. ভিসামুক্ত ভ্রমণে আগাম অনুমোদন না নেওয়া
কোনো দেশে ভিসা ছাড়া প্রবেশের সুযোগ থাকলেই আগাম কোনো প্রক্রিয়া ছাড়াই সেখানে যাওয়া যাবে, তা নয়। কিছু দেশ ভিসামুক্ত ভ্রমণের ক্ষেত্রেও ইলেকট্রনিক ভ্রমণ অনুমোদন বা আগাম যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালু রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টধারীরা যুক্তরাজ্য বা নিউজিল্যান্ডে নির্দিষ্ট স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের ক্ষেত্রে সাধারণত ভিসা ছাড়াই যেতে পারেন। তবে যোগ্য ভ্রমণের জন্য তাঁদের যুক্তরাজ্যের ইলেকট্রনিক ভ্রমণ অনুমোদন অথবা নিউজিল্যান্ডের ইলেকট্রনিক ভ্রমণ অনুমোদন নিতে হতে পারে।
এ ধরনের অনুমোদন ভ্রমণের অনুমতি দিলেও গন্তব্য দেশে প্রবেশ নিশ্চিত করে না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় সীমান্ত কর্তৃপক্ষ। তাই টিকিট কাটার আগে অনুমোদন প্রয়োজন কি না এবং কীভাবে আবেদন করতে হবে, তা যাচাই করা জরুরি।
৭. নতুন পাসপোর্ট নেওয়ার পর ভ্রমণ অনুমোদন হালনাগাদ না করা
পাসপোর্ট নবায়ন করলে পুরোনো পাসপোর্টের সঙ্গে যুক্ত সব ভিসা বা ভ্রমণ অনুমোদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন পাসপোর্টে স্থানান্তরিত হয় না। নতুন পাসপোর্টে নম্বর বদলে যাওয়ায় আগের নথির সঙ্গে যুক্ত অনুমোদন অকার্যকর হয়ে যেতে পারে।
যুক্তরাজ্যের ইলেকট্রনিক ভ্রমণ অনুমোদন যে পাসপোর্ট দিয়ে আবেদন করা হয়, তার সঙ্গেই যুক্ত থাকে। অনুমোদনটির মেয়াদ সাধারণত দুই বছর হলেও সংশ্লিষ্ট পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলে সেটিও আর ব্যবহার করা যায় না। নতুন পাসপোর্ট নিয়ে ভ্রমণের আগে নতুন করে আবেদন ও ফি পরিশোধের প্রয়োজন হতে পারে।
অনুমোদনের ধরন অনুযায়ী কোথাও পাসপোর্টের তথ্য হালনাগাদ করতে হয়, আবার কোথাও নতুন আবেদন জমা দিতে হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্টে বৈধ ভিসা থাকলে কিছু দেশ পুরোনো ও নতুন পাসপোর্ট একসঙ্গে দেখিয়ে ভ্রমণের অনুমতি দিতে পারে। তবে কিছু দেশে ভিসা বর্তমান পাসপোর্টে থাকা বাধ্যতামূলক। তাই নতুন পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দেশের নিয়ম যাচাই না করে যাত্রা করা উচিত নয়।
৮. প্রবেশসংক্রান্ত নিয়মের পরিবর্তন খেয়াল না করা
আন্তর্জাতিক ভ্রমণের নিয়ম পরিবর্তিত হতে পারে। কোনো দেশের প্রবেশসংক্রান্ত শর্ত, ভিসামুক্ত দেশের তালিকা বা আগাম অনুমোদনের নিয়মে পরিবর্তন এলে আগে থেকে প্রস্তুতি না থাকলে যাত্রার সময় জটিলতা দেখা দিতে পারে।
সেবাস্তিয়েন কুইক্সের পরামর্শ, টিকিট বা হোটেল বুক করার আগে একবার এবং যাত্রার কয়েক সপ্তাহ আগে আবার গন্তব্য দেশের পাসপোর্ট ও প্রবেশসংক্রান্ত নিয়ম যাচাই করা উচিত। এতে নতুন কোনো নথি বা অনুমোদন প্রয়োজন হলে তা সংগ্রহের সময় পাওয়া যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে দেশভিত্তিক নির্দেশনা পাওয়া যায়। এরপর গন্তব্য দেশের সরকারি ওয়েবসাইট বা কনস্যুলেটের তথ্যের সঙ্গে সেগুলো মিলিয়ে নেওয়া উচিত। যাত্রাপথে অন্য দেশে যাত্রাবিরতি থাকলে সেই দেশের নিয়মও পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
বিমান সংস্থার নথিপত্রসংক্রান্ত শর্তও আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে। কারণ সরকারি প্রবেশসংক্রান্ত নিয়ম এবং বিমান সংস্থার ব্যবস্থায় তথ্য হালনাগাদ হওয়ার সময় সব ক্ষেত্রে এক হয় না।
পাসপোর্ট নিয়ে সাধারণ কিছু প্রশ্ন
পাসপোর্টের ভুল সংশোধন করতে কত সময় লাগে?
সময়সীমা নির্ভর করে ভুলের ধরন ও সংশোধনের প্রক্রিয়ার ওপর। যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ পাসপোর্ট নবায়নে সাধারণত চার থেকে ছয় সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। অতিরিক্ত ফি দিয়ে দ্রুত প্রক্রিয়ার সুযোগও রয়েছে। নাম, ছবি, ব্যক্তিগত তথ্য বা মুদ্রণসংক্রান্ত ভুল সংশোধনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। ভুল ভিসা বা গন্তব্য দেশের প্রবেশসংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে আরও বেশি সময় লাগতে পারে।
পাসপোর্টে ভুল থাকলে কি ভ্রমণ করা যাবে?
পাসপোর্টে ভুল থাকলে তা সংশোধন না করে ভ্রমণ করা ঝুঁকিপূর্ণ। বিমানবন্দরে বিলম্ব, বিমানে উঠতে বাধা কিংবা গন্তব্য দেশে প্রবেশ প্রত্যাখ্যানের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই যাত্রার আগে ভুল সংশোধনের চেষ্টা করা উচিত। সময় কম থাকলে দ্রুত পাসপোর্ট প্রক্রিয়াকরণের সুযোগ আছে কি না, তা যাচাই করা যেতে পারে।
মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পাসপোর্ট কত দিন বৈধ থাকে?
যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলে সেটি আর বৈধ ভ্রমণ নথি হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেও কোনো গন্তব্য দেশে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় অবশিষ্ট মেয়াদ না থাকলে ভ্রমণে বাধা আসতে পারে। তাই শুধু ফেরার তারিখ নয়, গন্তব্য ও যাত্রাবিরতির দেশগুলোর নিয়মও যাচাই করতে হবে।
নতুন পাসপোর্ট পেতে কত সময় লাগে?
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন পাসপোর্টের আবেদন বা নবায়নে সাধারণত চার থেকে ছয় সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। দ্রুত প্রক্রিয়ায় সাধারণত দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে পাসপোর্ট পাওয়া সম্ভব, তবে ডাকযোগে যাতায়াতের সময় এতে অন্তর্ভুক্ত নাও থাকতে পারে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ১৪ দিনের মধ্যে যাত্রা নির্ধারিত থাকলে জরুরি সেবার জন্য পাসপোর্ট সংস্থায় সাক্ষাতের সুযোগ নেওয়া যেতে পারে। আবেদন জমা দেওয়ার পর অনলাইনে আবেদনের অগ্রগতিও যাচাই করা যায়।
আন্তর্জাতিক ভ্রমণের আগে পাসপোর্টের মেয়াদ, ফাঁকা পৃষ্ঠা, ব্যক্তিগত তথ্য, ভিসা ও আগাম অনুমোদন যাচাই করে নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে যাত্রার কয়েক সপ্তাহ আগে সব নথি আবার পরীক্ষা করলে শেষ মুহূর্তের জটিলতা এড়ানোর সুযোগ বাড়ে।
























