এইচ-১বি ভিসার নিয়ম লঙ্ঘন করলে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানা, ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব
- প্রকাশঃ ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:২২
- / 4
ওয়াশিংটন, ৮ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা) – এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির নির্দিষ্ট নিয়ম লঙ্ঘন করলে নিয়োগদাতাদের সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানা এবং ১০ বছর পর্যন্ত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের একটি বিল। তবে বিলটি এখনো আইনে পরিণত হয়নি।
এইচ-১বি ভিসা প্রতারণা দমন আইন নামে বিলটি গত ১ অক্টোবর প্রতিনিধি বেথ ভ্যান ডুয়েনি ও আরও পাঁচ রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপন করেন। বিলটি বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদের বিচারবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। আইনে পরিণত হতে হলে এটি কংগ্রেসের উভয় কক্ষে পাস হওয়ার পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর প্রয়োজন হবে।
প্রস্তাবিত আইনে এইচ-১বি কর্মসূচির একটি গুরুতর ধরনের নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ জরিমানা ৩৫ হাজার ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার করার কথা বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিয়োগদাতাকে এইচ-১বি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ থেকে নিষিদ্ধ রাখার ন্যূনতম সময় তিন বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার প্রস্তাব রয়েছে।
অন্য একটি ধরনের লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ জরিমানা ৫ হাজার ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ডলার এবং ন্যূনতম নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ দুই বছর থেকে বাড়িয়ে পাঁচ বছর করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের ২১২(এন)(২)(সি) ধারা সংশোধনের কথা বলা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বিলটিতে অভিবাসনসংক্রান্ত নথি জালিয়াতির শাস্তিও বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
এক ধরনের নথি জালিয়াতির ক্ষেত্রে বর্তমান ২৫০ থেকে ২ হাজার ডলারের জরিমানা বাড়িয়ে ১ হাজার থেকে ১০ হাজার ডলার করার প্রস্তাব রয়েছে। আরও গুরুতর ধরনের নথি জালিয়াতির ক্ষেত্রে জরিমানা ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলার করার কথা বলা হয়েছে।
ভারতীয় পেশাজীবী ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি কর্মসূচিতে ভারতের নাগরিকদের বড় অংশগ্রহণ রয়েছে।
তবে বিলটিতে সাধারণ এইচ-১বি আবেদনকারীদের জন্য নতুন কোনো ফি বা সব এইচ-১বি ভিসাধারীর ওপর সাধারণ জরিমানার প্রস্তাব নেই। প্রস্তাবিত শাস্তিগুলো মূলত কর্মসূচির নির্দিষ্ট নিয়ম লঙ্ঘনকারী নিয়োগদাতা বা প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হবে।
অভিবাসনবিষয়ক প্রকাশনা ইমিগ্রেশন অ্যানালিটিকসের মতে, বিলটি বিভিন্ন শিরোনামে যতটা বিস্তৃতভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে, বাস্তবে এর পরিধি তার চেয়ে সীমিত। এতে এইচ-১বি ভিসার সংখ্যা, যোগ্যতার শর্ত বা আবেদন ফি পরিবর্তনের প্রস্তাব নেই। মূল লক্ষ্য হলো কর্মসূচির নিয়ম লঙ্ঘনকারী নিয়োগদাতাদের জন্য আর্থিক জরিমানা ও নিষেধাজ্ঞা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো।
ইমিগ্রেশন অ্যানালিটিকসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এইচ-১বি কর্মীদের নিয়োগ ও স্পনসরশিপে নির্ভরশীল কর্মী সরবরাহকারী ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে বেশি প্রভাবের মুখে পড়তে পারে। কারণ কোনো প্রতিষ্ঠান পাঁচ বা ১০ বছরের জন্য এইচ-১বি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগ হারালে তাদের ওই ধরনের ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
প্রস্তাবিত আইনে ইচ্ছাকৃতভাবে নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তি বাড়ানো হলেও কোনো নিয়োগদাতা ইচ্ছাকৃতভাবে নিয়ম ভেঙেছেন কি না, তা নির্ধারণের বিদ্যমান মানদণ্ড পরিবর্তনের কথা বলা হয়নি। ফলে কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে কি না, তা প্রয়োগের সময় গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, জরিমানা বাড়ালেই যে নিয়ম প্রয়োগের ঘটনা বাড়বে, তার নিশ্চয়তা নেই। কারণ বিলটিতে অতিরিক্ত তদন্তকারী সংস্থা, অর্থায়ন বা আইন প্রয়োগের নতুন ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়নি।
এই প্রস্তাবটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ও চাপ বাড়ছে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে জারি করা একটি নির্বাহী আদেশে এইচ-১বি আবেদনের বিভিন্ন পর্যায়ে কোনো নিয়োগদাতা কর্মী ছাঁটাই করেছে কি না, তা বিবেচনার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর কয়েক দিন পর টেক্সাসের একটি কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কেবল এইচ-১বি প্রার্থীদের জন্য চাকরির বিজ্ঞাপন দেওয়ার অভিযোগে সমান কর্মসংস্থান সুযোগ কমিশন মামলা করে।
এরপর ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও এইচ-১বি কর্মসূচি বন্ধের বিষয়ে সমর্থন দেওয়ার কথা বলেন।
প্রস্তাবিত এই বিলের ক্ষেত্রে অবশ্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে কংগ্রেসের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া এবং পরবর্তী প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের ওপর।


























