এইচ-১বি ও এল-১ ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর সব আবেদনে বায়োমেট্রিক ফি, কার্যকর হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বিধি
- প্রকাশঃ ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৫৪
- / 6
ওয়াশিংটন, ৯ অক্টোবর ২০২৬, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) এইচ-১বি ও এল-১ ভিসার জন্য নির্ধারিত ‘৯-১১ রেসপন্স অ্যান্ড বায়োমেট্রিক এন্ট্রি-এক্সিট ফি’ আদায়ের পরিধি বাড়িয়েছে। নতুন চূড়ান্ত বিধি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শ্রেণির নিয়োগকর্তাদের এখন মেয়াদ বাড়ানোর প্রতিটি আবেদনের সঙ্গেই এই ফি জমা দিতে হবে। কর্মীর নিয়োগকর্তা একই থাকলেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। বিধিটি কার্যকর হয়েছে ৯ সেপ্টেম্বর থেকে।
ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত বিধিটিতে স্বাক্ষর করেছেন ডিএইচএসের সচিব মার্কওয়েন মুলিন। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র কাস্টমস ও সীমান্ত সুরক্ষা সংস্থা (সিবিপি) সংশ্লিষ্ট বিধিমালা সংশোধন করেছে।
কাদের জন্য প্রযোজ্য
ফিটি দিতে হবে কেবল ‘কভার্ড এমপ্লয়ার’ হিসেবে চিহ্নিত নিয়োগকর্তাদের। যুক্তরাষ্ট্রে যাদের ৫০ বা তার বেশি কর্মী রয়েছে এবং ওই কর্মীদের ৫০ শতাংশের বেশি এইচ-১বি, এল-১এ বা এল-১বি মর্যাদায় কাজ করছেন, তারা এই শ্রেণিতে পড়ে। এইচ-১বি পিটিশনের জন্য ফি ৪ হাজার ডলার, এল-১ পিটিশনের জন্য ৪ হাজার ৫০০ ডলার। এই অঙ্ক কংগ্রেসের আইনে নির্ধারিত, ডিএইচএস তা বাড়াতে বা কমাতে পারে না।
আগের নিয়ম ও বদল
এত দিন এই ফি নেওয়া হতো প্রথমবার ভিসা মর্যাদা পাওয়ার আবেদনে এবং নিয়োগকর্তা বদলের আবেদনে। একই নিয়োগকর্তার অধীনে একই কর্মীর মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনে তা প্রযোজ্য ছিল না। কারণ, ডিএইচএস আগে আইনটি এমনভাবে ব্যাখ্যা করত যে প্রতারণা প্রতিরোধ ও শনাক্তকরণ ফি (ফ্রড ফি) যেখানে প্রযোজ্য, কেবল সেখানেই বায়োমেট্রিক ফি নেওয়া হবে। নতুন বিধিতে সেই সংযোগ তুলে দেওয়া হয়েছে। এখন ফ্রড ফি প্রযোজ্য হোক বা না হোক, মেয়াদ বাড়ানোর সব আবেদনে বায়োমেট্রিক ফি দিতে হবে।
ডিএইচএসের ব্যাখ্যা, ২০১৫ সালের আইনে কংগ্রেস ‘মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনসহ’ কথাটি যুক্ত করেছিল। এর মাধ্যমে সব এক্সটেনশন আবেদনকেই ফির আওতায় আনার উদ্দেশ্য ছিল। সংস্থাটি বলছে, ২০১৬ সালে তাদের গৃহীত ব্যাখ্যা আইনের সর্বোত্তম পাঠ ছিল না। এ ক্ষেত্রে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের লোপার ব্রাইট এন্টারপ্রাইজেস বনাম রাইমন্ডো মামলার রায়ের উল্লেখ করেছে।
সংশোধনে আরও যা আছে
- যে পিটিশনে মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধ নেই, কেবল চাকরির শর্ত বা কর্মীর যোগ্যতায় বড় পরিবর্তনের কারণে সংশোধিত পিটিশন (অ্যামেন্ডেড পিটিশন) দাখিল করা হয়, সেটি ফি থেকে অব্যাহতি পাবে।
- কভার্ড এমপ্লয়ার নির্ধারণে কর্মীদের গণনা হবে সামগ্রিকভাবে (ইন দ্য অ্যাগ্রিগেট)। আগের চর্চাকে স্পষ্ট করতে বিধিতে কথাটি যুক্ত হয়েছে। এতে পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন দুই ধরনের কর্মীই গণনায় আসেন।
- ফি প্রযোজ্য হবে ২০২৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বা তার আগে দাখিল করা পিটিশনে। ওই তারিখে এই ফির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।
- বিধি কার্যকরের আগে দাখিল করা বা বিচারাধীন কোনো পিটিশনে এটি পূর্বপ্রভাবে প্রযোজ্য হবে না।
কেন এই পদক্ষেপ
ডিএইচএস জানিয়েছে, এই ফির অর্ধেক অর্থ যায় ‘৯-১১ রেসপন্স অ্যান্ড বায়োমেট্রিক এক্সিট অ্যাকাউন্টে’, যার সীমা ১০০ কোটি ডলার। বাকি অর্ধেক যায় ফেডারেল কোষাগারে। অ্যাকাউন্টের অর্থ ব্যবহার হয় কংগ্রেসের নির্দেশিত বায়োমেট্রিক প্রবেশ ও প্রস্থান ব্যবস্থার জন্য। এর মূল ভিত্তি ‘ট্রাভেলার ভেরিফিকেশন সার্ভিস’ নামের মুখ-শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, যা ভ্রমণকারীকে তাঁর ভ্রমণ নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখে।
সংস্থাটির তথ্যমতে, ২০১৮ সালে কর্মসূচি শুরুর পর বিমানবন্দরে ৮৭ জন এবং স্থলপথে হেঁটে প্রবেশের ক্ষেত্রে ২ হাজার ১৫৮ জন ভুয়া পরিচয়ধারীকে আটক করা হয়েছে। ২০১৭ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত মুখ-শনাক্তকরণের মাধ্যমে ৫ লাখ ১৬ হাজার ৬০১ জনের ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থানের তথ্য নিশ্চিত হয়েছে।
ডিএইচএসের হিসাবে, আদায় প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস বছরে ৪২ কোটি ডলার আদায়ের প্রাক্কলন করেছিল। বাস্তবে ২০১৬ অর্থবছরে আদায় হয়েছে ১৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এরপর তা কমতে কমতে ২০২৫ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৫৬ লাখ ডলারে। ২০২০ ও ২০২১ সালে করোনা মহামারির প্রভাব ছিল। তবে সংস্থার দাবি, মহামারির আগেও আদায় প্রাক্কলনের নিচে ছিল এবং এর প্রধান কারণ আগের ব্যাখ্যা।
২০১৮ থেকে ২০২৫ অর্থবছরে কভার্ড এমপ্লয়ারদের এইচ-১বি পিটিশনের ২৭ শতাংশে এই ফি প্রযোজ্য ছিল। নতুন ব্যাখ্যা তখন কার্যকর থাকলে প্রযোজ্য হতো ৭৫ শতাংশে।
অর্থের পরিমাণ
ডিএইচএসের প্রাক্কলন অনুযায়ী, নতুন বিধির ফলে ফি বাবদ সরকারের অতিরিক্ত আয় হবে ২০২৬ অর্থবছরে প্রায় ৩ কোটি ৭৯ লাখ ডলার এবং ২০২৭ অর্থবছরে প্রায় ৪ কোটি ডলার। হিসাবটি পুরো অর্থবছর বিধি কার্যকর থাকার ধারণার ওপর ভিত্তি করে করা। বছরের একাংশে কার্যকর থাকলে অঙ্ক আনুপাতিক হারে কমবে।
এইচ-১বির ক্ষেত্রে এই বাড়তি অঙ্ক ২০২৬ অর্থবছরে ৩ কোটি ৬৬ লাখ ডলারের কিছু বেশি ও ২০২৭ অর্থবছরে ৩ কোটি ২৫ লাখ ডলারের কিছু বেশি। এল-১-এর ক্ষেত্রে যথাক্রমে ৭২ লাখ ও ৭৫ লাখ ডলারের কাছাকাছি। এল-১-এর হিসাব আনুমানিক, কারণ এ-সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক তথ্য সংরক্ষিত নেই।
জনমত ও ডিএইচএসের জবাব
প্রস্তাবিত বিধির ওপর ৩০ দিনের মতামত গ্রহণে ১৪৬টি মন্তব্য জমা পড়ে। অধিকাংশ মন্তব্যকারী বিরোধিতা করেন। তাঁদের মূল আশঙ্কা ছিল, এতে নিয়োগকর্তারা এইচ-১বি ও এল-১ কর্মী নিতে নিরুৎসাহিত হবেন এবং দক্ষ কর্মী আকর্ষণে যুক্তরাষ্ট্র পিছিয়ে পড়বে। কেউ কেউ ভারত ও চীনের নাগরিকদের ওপর অসম প্রভাবের কথা বলেন, কারণ গ্রিন কার্ডের দীর্ঘ অপেক্ষায় তাঁদের বারবার মেয়াদ বাড়াতে হয়। আবার কয়েকজন বিধিটির সমর্থনও জানান।
ডিএইচএস জানায়, এইচ-১বি ভিসার চাহিদা বছরের পর বছর বার্ষিক সীমার চেয়ে বেশি। ফলে এই ফির কারণে আবেদনকারীর সংখ্যা সীমার নিচে নেমে যাবে বলে তারা মনে করে না। সংস্থাটির মতে, ফিটি বেতন ও স্থানান্তর খরচের তুলনায় সামান্য। নিয়োগকর্তারা আইনত এই ফি কর্মীর বেতন থেকে আদায় করতে পারেন না বলেও তারা উল্লেখ করেছে। কর্মীদের পক্ষে ফি দেওয়ার প্রস্তাব নাকচ করে সংস্থাটি জানায়, আইন ও বিধিতে ফি দেওয়ার দায়িত্ব নিয়োগকর্তার।
ক্ষুদ্র ব্যবসা ও পটভূমি
ডিএইচএসের নমুনা-সমীক্ষায় ২৬৪টি ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান শনাক্ত হয়, যার ২২৩টির কর্মী ৫০ জনের কম। ফলে সেগুলো আইনগতভাবেই ফির বাইরে। ৪০টির কর্মী ৫০ বা তার বেশি এবং একটির কর্মীসংখ্যা জানা যায়নি। এর ভিত্তিতে সংস্থাটির হিসাব, ক্ষুদ্র ব্যবসার সর্বোচ্চ প্রায় ১৬ শতাংশ প্রভাবিত হতে পারে। তবে প্রকৃত হার এর চেয়ে কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, এমনকি শূন্যও হতে পারে।
বিধিটির প্রস্তাব প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২৪ সালের ৬ জুন। ২০২০ সালের ফি-বিধিতে অনুরূপ ব্যাখ্যা নেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট নয় এমন একটি মামলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞায় তা কার্যকর হয়নি। এ ছাড়া ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জারি করা ঘোষণা ভবিষ্যতে এইচ-১বি ভিসার সংখ্যা কমাতে পারে বলে ডিএইচএস উল্লেখ করেছে। এর প্রভাব এল-১সহ অন্য কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসাতেও পড়তে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো পর্যাপ্ত তথ্য নেই।




























