চট্টগ্রাম থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস: প্রযুক্তি, ব্যবসা ও কমিউনিটি নেতৃত্বে মিকায়েল খান
- প্রকাশঃ ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:১৫
- / 6
লস অ্যাঞ্জেলেস, ১০ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা) : চট্টগ্রামে শিক্ষাজীবনের শুরু, ভারতের দিল্লি ও পুনে হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসে উচ্চশিক্ষা। এরপর প্রযুক্তি খাতে পেশাগত ক্যারিয়ার, ব্যবসায় উদ্যোগ এবং নাগরিক সেবায় নেতৃত্ব। এই দীর্ঘ পথচলার স্বীকৃতি হিসেবে লস অ্যাঞ্জেলেসের কমিউনিটি নেতা মিকায়েল খান পেয়েছেন ‘জয় পি. অ্যাটকিনসন নেইবারহুড কাউন্সিল এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’।
প্রযুক্তি পেশাজীবী হিসেবে সফটওয়্যার প্রকৌশল ও সাইবার নিরাপত্তায় কাজ করার পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনা এবং স্থানীয় কমিউনিটির উন্নয়নেও ভূমিকা রেখেছেন তিনি। পাকোইমা নেইবারহুড কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিন মেয়াদ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আবাসন, ভূমি ব্যবহার ও অর্থনৈতিক উন্নয়নসংক্রান্ত কার্যক্রমেও নেতৃত্ব দিয়েছেন মিকায়েল।
চট্টগ্রামের সেন্ট প্লাসিড স্কুলে তাঁর শিক্ষাজীবনের শুরু। পরে ভারতের দিল্লির শিবা শিবানি পাবলিক স্কুলে পড়াশোনা করেন। এরপর পুনে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিপণনে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে এসে উইচিটা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার প্রকৌশলেও স্নাতক ডিগ্রি নেন।
বিপণন ও কম্পিউটার প্রকৌশলে তাঁর এই দ্বিমুখী শিক্ষাগত অভিজ্ঞতা পরবর্তী পেশাজীবনে প্রযুক্তি, ব্যবসা ও মানুষের সঙ্গে কাজ করার বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে।
প্রযুক্তি খাতে দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতা
মিকায়েল খান সফটওয়্যার প্রকৌশল, সাইবার নিরাপত্তা, পরিচয় ও প্রবেশাধিকার ব্যবস্থাপনা, সফটওয়্যার মাননিয়ন্ত্রণ এবং স্বয়ংক্রিয় পরীক্ষণ প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করেছেন। ভেনচুরা কাউন্টি জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট, বোয়িং, ব্ল্যাকবোর্ড ইনকরপোরেটেড, ইউএসটি ও ওয়েলস ফার্গোর মতো প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
প্রযুক্তি খাতে কাজের সময় সফটওয়্যার তৈরি ও পরীক্ষা ছাড়াও নিরাপত্তা, সিস্টেম ব্যবস্থাপনা এবং কর্মপ্রক্রিয়া উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিনের এই অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।

প্রযুক্তি পেশা থেকে ব্যবসায় উদ্যোগ
বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়ার বেকার্সফিল্ডে মাকো অটো বডি শপের ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক ও সহমালিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মিকায়েল। ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখাকে উদ্যোক্তা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখেন তিনি।
পাকোইমা নেইবারহুড কাউন্সিলে নেতৃত্ব
লস অ্যাঞ্জেলেসের স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক সেবায় যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে মিকায়েলের নেতৃত্বের আরেকটি দিক সামনে আসে। পাকোইমা নেইবারহুড কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিন মেয়াদ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আট বছর ভূমি ব্যবহার, আবাসন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি।
এ সময়ে আবাসন, ভূমি ব্যবহার, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জননিরাপত্তা, পরিবহন, শিক্ষা, যুব কার্যক্রম ও কমিউনিটি উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করেছেন।

মিকায়েল বলেন, কাউন্সিলের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পাকোইমা লস অ্যাঞ্জেলেসের ৯৯টি নেইবারহুড কাউন্সিলের মধ্যে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে।
এই অর্জনের কৃতিত্ব নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না তিনি। মিকায়েলের ভাষায়, ‘কমিউনিটির মানুষ যখন একটি লক্ষ্য নিয়ে একসঙ্গে কাজ করেন, তখনই বড় পরিবর্তন সম্ভব।’
বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন উদ্যোগেও যুক্ত
লস অ্যাঞ্জেলেসের নাগরিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠন ও উদ্যোগেও যুক্ত রয়েছেন মিকায়েল। তিনি জেসমিন খান ফাউন্ডেশনের পরিচালক, আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টসের কোষাধ্যক্ষ এবং বাংলা বিজয় বহরের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্যাসিফিক কাইট ক্লাবের ঘুড়ি উৎসব আয়োজনেও নেতৃত্বের ভূমিকা রয়েছে তাঁর।
এসব সংগঠনের সঙ্গে কাজের মাধ্যমে শিক্ষা, সংস্কৃতি, সামাজিক যোগাযোগ, কমিউনিটি অনুষ্ঠান এবং নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার বিভিন্ন উদ্যোগে অংশ নিয়েছেন তিনি।

পুরস্কারকে দেখছেন সম্মিলিত কাজের স্বীকৃতি হিসেবে
‘জয় পি. অ্যাটকিনসন নেইবারহুড কাউন্সিল এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ পাওয়ার পর নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে কৃতজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন মিকায়েল।
প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘মানুষের সেবা করার, সবাইকে একত্র করার এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার প্রতিটি সুযোগের জন্য আমি কৃতজ্ঞ।’
তাঁর কাছে এই পুরস্কার ব্যক্তিগত অর্জনের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের কাজের পথে পাশে থাকা মানুষদের অবদানেরও স্বীকৃতি। চট্টগ্রাম থেকে শুরু হওয়া শিক্ষাজীবন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি পেশায় প্রতিষ্ঠা, ব্যবসায় উদ্যোগ এবং স্থানীয় নাগরিক নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে মিকায়েলের পথচলা প্রবাসী বাংলাদেশিদের বহুমুখী অবদানের একটি উদাহরণ।























