নিউইয়র্কে বিনা মূল্যে শিশুযত্নের সুযোগ বাড়ছে, ২০২৭ সালে যুক্ত হবে আরও ১০ হাজার আসন
- প্রকাশঃ ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:০৮
- / 7
নিউইয়র্ক, ১৯ অক্টোবর (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে দুই বছর বয়সী শিশুদের জন্য বিনা মূল্যে প্রারম্ভিক শিক্ষা ও শিশুযত্ন কর্মসূচি ‘টু-কে’ আরও সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি ও অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ক্যাথি হোকুল। ২০২৭ সালের শরৎকাল থেকে নতুন করে ১০ হাজার আসন চালু হবে। এর ফলে পাঁচটি বরোর সব এলাকায়, বিশেষ করে ব্রঙ্কসের প্রতিটি স্কুল জেলায় এবং স্ট্যাটেন আইল্যান্ডজুড়ে এ সুবিধা সম্প্রসারিত হবে।
নগর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নতুন আসন যুক্ত হলে ২০২৭ সালের শরৎ থেকে মোট ১২ হাজারের বেশি পরিবার বিনা মূল্যে শিশুযত্ন ও প্রারম্ভিক শিক্ষার সুযোগ পাবে। কর্মসূচিটি এমনভাবে পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে পরিবারগুলোর সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত চাহিদার প্রতিও গুরুত্ব দেওয়া যায়।

মেয়র মামদানি ও গভর্নর হোকুল চলতি বছরের শুরুতে প্রথম পর্যায়ে পাঁচটি স্কুল জেলায় ‘টু-কে’ চালুর ঘোষণা দিয়েছিলেন। ২০২৬ সালের শরৎকালে চালু হওয়া ওই পর্যায়ে ছিল ২ হাজার আসন। এসব আসনের বিপরীতে পরিবারগুলো ৫ হাজার ৭০০টির বেশি আবেদন জমা দেয়। বিপুল চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এবার কর্মসূচির পরিধি বাড়ানো হচ্ছে।
কর্মসূচির সম্প্রসারণে অঙ্গরাজ্য সরকারের ১২০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ সহায়তা দিচ্ছে। এর মাধ্যমে ছয় সপ্তাহ বয়স থেকে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের জন্য সর্বজনীন শিশুযত্নব্যবস্থা গড়ে তোলার নগর প্রশাসনের বৃহত্তর পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
মেয়র মামদানি বলেন, নিউইয়র্কের অনেক পরিবার সন্তান জন্মের পর শিশুযত্নের ব্যয় বহন করা, চাকরি ধরে রাখা কিংবা শহরে বসবাস চালিয়ে যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ে। নতুন ১০ হাজার আসন আরও বেশি পরিবারকে সেই চাপ থেকে মুক্তি দিতে সহায়তা করবে। ব্রঙ্কসের কো-অপ সিটি থেকে স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চল পর্যন্ত কর্মসূচিটি সম্প্রসারণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিবারের চাহিদার ভিত্তিতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
গভর্নর হোকুল বলেন, শিশুযত্নের ব্যয় কমাতে অঙ্গরাজ্য সরকার ও নগর প্রশাসনের অংশীদারত্ব কাজ করছে। তাঁর ভাষ্য, প্রথম পর্যায়ে ২ হাজারের বেশি শিশুকে নতুন শ্রেণিকক্ষে স্বাগত জানানোর পর এবার আরও ১০ হাজার পরিবারের কাছে এ সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কোন কোন এলাকায় চালু হবে নতুন আসন
নতুন সম্প্রসারণে নগরীর ৩২টি ভৌগোলিক স্কুল জেলার মধ্যে আরও ১৭টিতে কর্মসূচি চালু হবে। এতে মোট জেলার সংখ্যা দাঁড়াবে ২২। ইতিমধ্যে কর্মসূচি চালু থাকা পাঁচটি জেলাতেও চাহিদা অনুযায়ী আসন বাড়ানো হবে।
ব্রঙ্কস ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের সব স্কুল জেলা এ সম্প্রসারণের আওতায় আসবে। এ ছাড়া ম্যানহাটন, ব্রুকলিন ও কুইন্সের বেশ কিছু এলাকায় নতুন আসন চালু হবে।
ম্যানহাটনে স্কুল জেলা ৪ ও ৫-এর আওতায় ইস্ট হারলেম, সেন্ট্রাল হারলেম, ম্যানহাটনভিল, ওয়েস্ট হারলেম, মর্নিংসাইড হাইটস, হ্যামিল্টন হাইটস ও সুগার হিল এলাকায় এ সুবিধা সম্প্রসারিত হবে।
ব্রুকলিনে নতুন কর্মসূচির আওতায় আসবে বেডফোর্ড-স্টুইভেস্যান্ট, ক্রাউন হাইটস, প্রসপেক্ট লেফার্টস গার্ডেনস, ফ্ল্যাটবুশ, ইস্ট ফ্ল্যাটবুশ, ইস্ট নিউইয়র্ক, নিউ লটস, সাইপ্রেস হিলস, বে রিজ, ফোর্ট হ্যামিল্টন, ডাইকার হাইটস, কোনি আইল্যান্ড, ব্রাইটন বিচ ও বুশউইকের বিভিন্ন অংশ।
কুইন্সে করোনা, এলমহার্স্ট, মাসপেথ, মিডল ভিলেজ, রিজউড, গ্লেনডেল, সানিসাইড, উডসাইড, ফরেস্ট হিলস, জ্যামাইকা, রিচমন্ড হিল, সাউথ ওজোন পার্ক, কুইন্স ভিলেজ, হলিস ও রোজডেলের মতো এলাকায় নতুন আসন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে এসব এলাকার অংশবিশেষ কর্মসূচির আওতায় আসবে।
২০২৬ সালের শরৎকালে প্রথম পর্যায়ে ম্যানহাটনের জেলা ৬, ব্রঙ্কসের জেলা ১০, ব্রুকলিনের জেলা ১৮ ও ২৩ এবং কুইন্সের জেলা ২৭-এ ‘টু-কে’ চালু হয়েছিল।
পূর্ণ দিবস ও সারা বছর সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা
নগর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘টু-কে’ কর্মসূচি শিশুদের যত্নকেন্দ্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এবং লাইসেন্সপ্রাপ্ত পারিবারিক শিশুযত্নকেন্দ্রের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। স্বাভাবিক কর্মপদ্ধতি অনুযায়ী, সেবা পাওয়া যাবে পূর্ণ দিবস এবং সারা বছর ধরে।
পরিবারগুলোর জন্য ২০২৭ সালের শরৎকালের আবেদন শুরুর সময়সূচি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ঘোষণা করা হবে। বর্তমানে নগরীর সরকারি বিদ্যালয়ব্যবস্থার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ শিশুযত্ন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি জরিপ এবং নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ যাচাইয়ের আবেদনপত্র আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।
শিশুযত্নসেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি কর্মী নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও ধরে রাখার সক্ষমতা বাড়াতেও কাজ করছে নগর প্রশাসন। এর আগে শিশুযত্ন ভাউচারের অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ১০ হাজারের বেশি শিশুকে সেবার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রারম্ভিক শৈশব শিক্ষকদের শিক্ষানবিশ কর্মসূচিতে প্রায় ৭ লাখ ডলার বিনিয়োগের কথাও জানিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ।
এ ছাড়া সরকারি বিদ্যালয়ব্যবস্থার প্রারম্ভিক শৈশব শিক্ষা বিভাগের চুক্তি ও ক্রয়প্রক্রিয়া সহজ করতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য চুক্তি সম্পন্ন করতে সময় কমানো, স্বচ্ছতা বাড়ানো, সেবার মান উন্নত করা এবং শিশুযত্নসেবা প্রদানকারীদের মতামত নেওয়ার সুযোগ বাড়ানো। এ কাজে সহায়তার জন্য ২০০ জনের বেশি নতুন কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।
নগর প্রশাসনের এ উদ্যোগকে কর্মজীবী পরিবারের ব্যয় কমানোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও শিশুযত্নসেবা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা। তবে দীর্ঘমেয়াদে কর্মসূচি টেকসই করতে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পর্যাপ্ত অর্থায়ন, কর্মীদের ন্যায্য পারিশ্রমিক এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছেন কয়েকটি সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
সূত্র: নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের কার্যালয়

























