যুক্তরাষ্ট্রে সিডিএল লাইসেন্স: খরচ কত, কারা আবেদন করতে পারবেন?
- প্রকাশঃ ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৩৫
- / 5
ওয়াশিংটন, ১৭ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা): যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্যিক ট্রাক, বাস ও ভারী যানবাহন চালিয়ে পেশা গড়তে আগ্রহীদের প্রয়োজন কমার্শিয়াল ড্রাইভার্স লাইসেন্স (সিডিএল)। প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা, নিয়োগকর্তা ও কাজের ধরন অনুযায়ী এ পেশায় আয়ের সুযোগ ভিন্ন হয়। তবে লাইসেন্স পেলেই চাকরি বা ঘণ্টায় ৪০ ডলার আয়ের নিশ্চয়তা নেই।
সিডিএল নেওয়ার আগে প্রশিক্ষণের ব্যয়, লাইসেন্সের শ্রেণি, বয়স ও মেডিকেল যোগ্যতা এবং অঙ্গরাজ্যভিত্তিক নিয়ম জানা জরুরি। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন-অবস্থার ভিত্তিতে অনাবাসিক আবেদনকারীদের সিডিএল পাওয়ার নিয়মে ২০২৬ সালে পরিবর্তন এসেছে।
সিডিএল নিতে কত খরচ হয়?
যুক্তরাষ্ট্রে সিডিএল প্রশিক্ষণের জন্য দেশজুড়ে একক নির্ধারিত ফি নেই। অঙ্গরাজ্য, প্রশিক্ষণকেন্দ্র, কোর্সের মেয়াদ এবং লাইসেন্সের শ্রেণি অনুযায়ী ব্যয় পরিবর্তিত হয়। পূর্ণাঙ্গ ক্লাস-এ প্রশিক্ষণ নিতে কয়েক হাজার ডলার খরচ হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার আগে প্রশিক্ষণ ফি, পরীক্ষার খরচ, প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত গাড়ির ফি এবং অন্যান্য চার্জসহ মোট ব্যয় জেনে নেওয়া উচিত।
ক্লাস-এ লাইসেন্স দিয়ে সাধারণত বড় ট্রাক ও ট্রাক-ট্রেইলার চালানো যায়। ক্লাস-বি লাইসেন্সের আওতায় পড়ে নির্দিষ্ট ধরনের ভারী একক ট্রাক ও বাস। কোন শ্রেণির লাইসেন্স প্রয়োজন, তা গাড়ির ধরন, ওজন এবং সংশ্লিষ্ট বিধির ওপর নির্ভর করে।
প্রশিক্ষণ ফি ছাড়াও কমার্শিয়াল লার্নার পারমিট, লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষা, মেডিকেল পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় বিশেষ অনুমোদনের জন্য খরচ হতে পারে। এসব ফি অঙ্গরাজ্য ও সেবাভেদে আলাদা।
কোম্পানির সহায়তায় প্রশিক্ষণের সুযোগ
কিছু ট্রাকিং কোম্পানি নতুন চালকদের প্রশিক্ষণ দেয় অথবা প্রশিক্ষণের ব্যয় বহনে সহায়তা করে। কোনো কোনো কর্মসূচিতে শুরুতে প্রশিক্ষণ ফি দিতে হয় না। তবে এর বিনিময়ে নির্দিষ্ট সময় কোম্পানিতে কাজ করার শর্ত থাকতে পারে। চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের আগে চাকরি ছাড়লে প্রশিক্ষণের খরচ ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও থাকতে পারে।
এ ধরনের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগে চাকরির মেয়াদ, বেতন, প্রশিক্ষণ চলাকালে পারিশ্রমিক, চুক্তি বাতিলের শর্ত এবং সম্ভাব্য অতিরিক্ত ব্যয় লিখিতভাবে যাচাই করা উচিত।
কারা সিডিএলের জন্য আবেদন করতে পারবেন?
সিডিএল পেতে বয়স, প্রয়োজনীয় ড্রাইভিং লাইসেন্স, মেডিকেল যোগ্যতা, পরীক্ষা এবং পরিচয় ও অভিবাসন-সংক্রান্ত প্রযোজ্য কাগজপত্রের শর্ত পূরণ করতে হয়। তবে আবেদনকারীর অবস্থান ও লাইসেন্সের ধরন অনুযায়ী নিয়মে পার্থক্য রয়েছে।
সাধারণভাবে, আন্তঃঅঙ্গরাজ্য বাণিজ্যিক গাড়ি চালানোর জন্য কমপক্ষে ২১ বছর বয়স হতে হয়। ১৮ বছর বয়স থেকে নির্দিষ্ট শর্তে নিজ অঙ্গরাজ্যের ভেতরে বাণিজ্যিক গাড়ি চালানোর লাইসেন্স পাওয়া সম্ভব। তবে অঙ্গরাজ্য ও লাইসেন্সের শ্রেণিভেদে বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হতে পারে।
আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট জ্ঞানভিত্তিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। বাণিজ্যিক গাড়ি চালানোর উপযোগিতা যাচাইয়ে মেডিকেল শর্তও পূরণ করতে হয়। গুরুতর ট্রাফিক অপরাধ, অযোগ্যতা কিংবা লাইসেন্সসংক্রান্ত বিধিনিষেধ আবেদন ও গাড়ি চালানোর অনুমতিকে প্রভাবিত করতে পারে।
অভিবাসন-অবস্থা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও বৈধ স্থায়ী বাসিন্দারা অঙ্গরাজ্যে বসবাসের প্রয়োজনীয় শর্তসহ অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করলে সাধারণ সিডিএলের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বসবাসকারী বা অন্য দেশের আবাসিক অবস্থান থেকে আবেদনকারী বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে অনাবাসিক সিডিএলের নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।
ফেডারেল মোটর ক্যারিয়ার সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৬ মার্চ থেকে কার্যকর নিয়মে অনাবাসিক কমার্শিয়াল লার্নার পারমিট ও সিডিএলের যোগ্যতা নির্দিষ্ট কিছু কর্মভিত্তিক অনভিবাসী শ্রেণিতে সীমিত করা হয়েছে। এসব শ্রেণি হলো এইচ-২এ, এইচ-২বি ও ই-২। এ ক্ষেত্রে বৈধ অভিবাসন-অবস্থার প্রমাণও দিতে হয়। অন্য কোনো অভিবাসন-অবস্থা থাকলেই অনাবাসিক সিডিএলের যোগ্যতা পাওয়া যাবে, এমন নয়।
তবে এই নিয়মকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী সব বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে একইভাবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। নাগরিকত্ব, স্থায়ী বসবাসের অবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রে আবাসিক অবস্থান অনুযায়ী সাধারণ সিডিএল ও অনাবাসিক সিডিএলের নিয়ম আলাদা হতে পারে।
বাংলাদেশি প্রবাসীদের তাই আবেদন করার আগে নিজেদের অভিবাসন-অবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের মোটরযান কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করা প্রয়োজন। সাধারণ ড্রাইভিং লাইসেন্স বা সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর থাকলেই সিডিএল পাওয়ার যোগ্যতা নিশ্চিত হয় না।
সিডিএল আবেদনের প্রক্রিয়া
প্রথমে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের মোটরযান কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করে কমার্শিয়াল লার্নার পারমিট (সিএলপি) নিতে হয়। এ জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞানভিত্তিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়।
প্রথমবার ক্লাস-এ বা ক্লাস-বি সিডিএল নিতে আগ্রহীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এন্ট্রি-লেভেল ড্রাইভার প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হয়। প্রশিক্ষণদাতা ফেডারেল নিবন্ধিত কি না, তা ফেডারেল মোটর ক্যারিয়ার সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তালিকা থেকে যাচাই করা যায়।
সিএলপি পাওয়ার পর সাধারণত অন্তত ১৪ দিন অপেক্ষা করতে হয়। এরপর প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করে গাড়ি পরিদর্শন, মৌলিক নিয়ন্ত্রণ এবং সড়কে গাড়ি চালানোর ব্যবহারিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। অঙ্গরাজ্যের অতিরিক্ত শর্ত থাকলে সেগুলোও পূরণ করতে হবে।
সিডিএল পেলেই সব ধরনের বাণিজ্যিক গাড়ি চালানোর অনুমতি পাওয়া যায় না। যাত্রীবাহী বাস চালানো কিংবা বিপজ্জনক উপাদান পরিবহনের মতো নির্দিষ্ট কাজের জন্য অতিরিক্ত অনুমোদন বা এন্ডোর্সমেন্ট প্রয়োজন হতে পারে।
আয়ের সুযোগ থাকলেও সিদ্ধান্ত নিতে হবে যাচাই করে
সিডিএল যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন খাতে কাজের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে আয় নির্ভর করে অভিজ্ঞতা, নিয়োগকর্তা, কাজের ধরন, কর্মঘণ্টা ও বেতন কাঠামোর ওপর। লাইসেন্স পেলেই চাকরি নিশ্চিত হওয়া বা ঘণ্টায় নির্দিষ্ট অঙ্কের আয় করার নিশ্চয়তা নেই।
প্রশিক্ষণে অর্থ ব্যয়ের আগে মোট খরচ, চাকরির চুক্তি, সম্ভাব্য আয় এবং নিজের অভিবাসন-অবস্থা যাচাই করা জরুরি। আবেদনসংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের মোটরযান কর্তৃপক্ষের নির্দেশনাই অনুসরণ করা উচিত।

























