যুক্তরাজ্যের ১২ বিমানবন্দরে মুখের ছবি দিয়েই পার হওয়া যাবে ই-গেট, আসছে নতুন প্রযুক্তি
- প্রকাশঃ ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৬
- / 14
লন্ডন, ১৯ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা): যুক্তরাজ্যের প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে পাসপোর্ট যাচাইয়ের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। নতুন মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে যোগ্য যাত্রীরা পাসপোর্ট মেশিনে স্ক্যান না করেই স্বয়ংক্রিয় ই-গেট পার হতে পারবেন। ধাপে ধাপে চালু হতে যাওয়া এ ব্যবস্থার লক্ষ্য বিমানবন্দরে প্রবেশ প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও সহজ করা।
যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যমের ১৮ অক্টোবরের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের শুরুর দিকে দেশটির বিভিন্ন বিমানবন্দরের ই-গেটগুলোতে নতুন প্রযুক্তি চালু বা হালনাগাদ করার পরিকল্পনা রয়েছে। হিথ্রো, গ্যাটউইক ও ম্যানচেস্টারসহ বিভিন্ন বিমানবন্দরে এ সুবিধা সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে এ সুবিধা পাবেন যুক্তরাজ্যের নাগরিকেরা। বর্তমানে যেসব দেশের নাগরিকেরা ই-গেট ব্যবহারের যোগ্য, তাঁদেরও পর্যায়ক্রমে নতুন ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সব বিমানবন্দরে একই সময়ে প্রযুক্তিটি চালু হবে না।
যেসব বিমানবন্দরে চালুর পরিকল্পনা
যুক্তরাজ্যের ১২টি বিমানবন্দরে ধাপে ধাপে ই-গেটের নতুন প্রযুক্তি চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিমানবন্দরগুলো হলো:
১. বার্মিংহাম
২. ব্রিস্টল
৩. কার্ডিফ
৪. ইস্ট মিডল্যান্ডস
৫. এডিনবরা
৬. গ্যাটউইক
৭. গ্লাসগো
৮. হিথ্রো
৯. লন্ডন সিটি
১০. লুটন
১১. নিউক্যাসল
১২. স্ট্যানস্টেড
নতুন ব্যবস্থায় যাত্রীর মুখের ছবি শনাক্ত করে পরিচয় যাচাই করা হবে। এতে নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন যাত্রীদের পাসপোর্ট মেশিনে স্ক্যান করার প্রয়োজন কমতে পারে। তবে প্রযুক্তিটি চালুর সময়সূচি ও ব্যবহারের শর্ত বিমানবন্দরভেদে ভিন্ন হতে পারে।
পাসপোর্ট সঙ্গে রাখা জরুরি
পাসপোর্ট স্ক্যান না করেই ই-গেট পার হওয়ার সুবিধা চালু হলেও আন্তর্জাতিক ভ্রমণে পাসপোর্টের প্রয়োজনীয়তা শেষ হচ্ছে না। ভ্রমণসংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান মাই ব্যাগেজের প্রতিষ্ঠাতা পল স্টুয়ার্ট যাত্রীদের এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী, বিমানবন্দরে স্বয়ংক্রিয় পরিচয় যাচাইয়ের সুবিধা থাকলেও উড়োজাহাজ সংস্থা যাত্রার আগে প্রয়োজনীয় নথিপত্র পরীক্ষা করতে পারে। একইভাবে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের সময় অতিরিক্ত যাচাইয়ের জন্য পাসপোর্ট দেখানোর প্রয়োজন হতে পারে।
এ কারণে পাসপোর্ট চেক করা লাগেজে না রেখে হাতব্যাগে এমন জায়গায় রাখা উচিত, যেখান থেকে সহজে বের করা যায়। এতে প্রয়োজনে পরিচয়পত্র দেখাতে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব এড়ানো সম্ভব।
পাসপোর্টের মেয়াদে পরিবর্তন নেই
নতুন প্রযুক্তি চালু হলেও পাসপোর্টের মেয়াদ কিংবা গন্তব্য দেশে প্রবেশের নিয়ম পরিবর্তনের কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তাই ভ্রমণের আগে গন্তব্য দেশের শর্ত অনুযায়ী পাসপোর্টের মেয়াদ যথেষ্ট আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।
পল স্টুয়ার্টের মতে, প্রযুক্তির উন্নয়ন ভ্রমণকে সহজ করতে পারে। তবে বৈধ পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথিপত্র সঙ্গে রাখার দায়িত্ব যাত্রীরই। ছুটি কাটানো, ব্যবসায়িক সফর কিংবা অন্য দেশে বসবাসের উদ্দেশ্যে যাত্রা, সব ক্ষেত্রেই কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা জরুরি।
নতুন ব্যবস্থাটি চালু হলে যোগ্য যাত্রীদের সীমান্ত পার হওয়ার প্রক্রিয়া সহজ হতে পারে। তবে যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর, উড়োজাহাজ সংস্থা ও গন্তব্য দেশের ভ্রমণবিধি যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

























