নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের লিটল বাংলাদেশে ‘মাহী রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বেকারি’র উদ্বোধন, দেশীয় স্বাদে নতুন ঠিকানা
- প্রকাশঃ ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২:২৮
- / 0
ব্রুকলিন, নিউইয়র্ক, ৯ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের লিটল বাংলাদেশে দেশীয় খাবার, বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে যাত্রা শুরু করেছে ‘মাহী রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বেকারি’। চার্চ অ্যাভিনিউয়ের ৮২ নম্বর ঠিকানায় প্রতিষ্ঠিত এই রেস্তোরাঁটি গড়ে তুলেছেন জ্যাকসন হাইটসের ব্যবসায়ী সৈয়দ রহমান মান্নানের মেয়ে মাহী মান্নান, তাঁর স্বামী মোহাম্মদ শাহেদ ও তাঁদের অংশীদার। পারিবারিক ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতার সঙ্গে নতুন প্রজন্মের উদ্যোগ যুক্ত করে প্রতিষ্ঠানটি ব্রুকলিনের বাংলাদেশি কমিউনিটির কাছে দেশীয় খাবারের নতুন একটি ঠিকানা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর দুপুরে রেস্তোরাঁটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। নতুন প্রতিষ্ঠানের সাফল্য কামনায় দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। উদ্বোধনী দিনেই খাবার নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে আগ্রহ দেখা যায়।
মাহী মান্নানের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম লক্ষ্য হলো ব্রুকলিনে বাংলাদেশি খাবারের আয়োজন সম্প্রসারণ করা। বিশেষ করে শরিয়াহ বোর্ডের সনদপ্রাপ্ত হালাল খাবারের রেস্তোরাঁ চালুর পরিকল্পনা থেকেই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মাহী।
নিজের ব্যবসা শুরুর পেছনের ভাবনা তুলে ধরে মাহী মান্নান বলেন, “আমি বাবার পরিবারের সঙ্গে এত দিন ধরে বিভিন্ন ব্যবসায় সম্পৃক্ত ছিলাম। চিন্তা করেছি কারও ওপর আর ডিপেন্ডেন্ট থাকব না। আত্মনির্ভরশীল হব। আমার হাজব্যান্ডও চাচ্ছিল একটি রেস্টুরেন্ট করার জন্য। এ কারণে আমি ও আমার হাজব্যান্ড মোহাম্মদ শাহেদ এবং আমার পার্টনার মিলে এই ব্যবসাটি আমরা খুলেছি।”
তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলতে তাঁর মায়ের কাছ থেকে কোনো বিনিয়োগ নেওয়া হয়নি। তবে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ব্যবসা পরিচালনার বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়েছেন। এ জন্য পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।
ব্রুকলিনে রেস্তোরাঁটি প্রতিষ্ঠার কারণ ব্যাখ্যা করে মাহী বলেন, চার্চ অ্যাভিনিউ এলাকায় ঘরোয়া খাবারের আয়োজন থাকলেও তাঁদের বিবেচনায় ভালো বাংলাদেশি রেস্তোরাঁর সুযোগ সীমিত। একই সঙ্গে শরিয়াহ বোর্ডের সনদপ্রাপ্ত হালাল রেস্তোরাঁ প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও তাঁদের সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে।
মাহী বলেন, “তখন আমরা চিন্তা করলাম, শরিয়া বোর্ড সার্টিফায়েড হালাল রেস্টুরেন্ট খুলব। আশা করছি, এটি ভালোভাবে চালাতে পারব।” তিনি ব্রুকলিনের বাসিন্দাদের পাশাপাশি নিউইয়র্কের অন্যান্য এলাকার মানুষকেও তাঁদের রেস্তোরাঁয় এসে খাবারের স্বাদ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান।
রেস্তোরাঁটিতে দেশীয় খাবারের বিভিন্ন পদ রাখা হয়েছে। উদ্বোধনী দিনের আয়োজনে ছিল পোলাও-রোস্ট, রুই মাছের কারি, বিভিন্ন ধরনের ভর্তা, ডাল এবং মেজবানি গরুর মাংস। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি থেকে ক্যাটারিংয়ের অর্ডারও নেওয়া হচ্ছে।
খাবারের আয়োজন সম্পর্কে মাহী মান্নান জানান, রেস্তোরাঁয় বিভিন্ন ধরনের খাবারের পাশাপাশি তাঁদের পারিবারিক ব্যবসা মান্নান বেকারির পণ্যও পাওয়া যাবে। নতুন খাবার ও আয়োজন যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁদের।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে মাহী বলেন, ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি দুই মেয়েকে সময় দেওয়া এবং পারিবারিক দায়িত্ব সামলাতে তাঁকে ব্যস্ত থাকতে হয়। এ কারণে এখনই ভবিষ্যতের বিস্তৃত পরিকল্পনা নির্দিষ্ট করে বলতে চান না তিনি। প্রথমে বর্তমান প্রতিষ্ঠানটিকে আরও ভালোভাবে এগিয়ে নেওয়ার দিকে মনোযোগ দিতে চান।
হালাল খাবার পছন্দ করেন এমন ক্রেতাদের রেস্তোরাঁটিতে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁদের খাবারের বিভিন্ন পদ চেখে দেখে স্বাদ সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবেন ক্রেতারা। নতুন কিছু করার প্রচেষ্টাও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
মাহী রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বেকারির আরেকটি বৈশিষ্ট্য এর অন্দরসজ্জা। আধুনিক পরিবেশের সঙ্গে বাংলার পরিচিত প্রকৃতি ও ঐতিহ্যকে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে রেস্তোরাঁটির সাজসজ্জায়।
ভেতরে ব্যবহার করা হয়েছে বেতের তৈরি আলোর শেড ও কাঠের উপকরণ। দেয়ালের খিলানজুড়ে স্থান পেয়েছে বাংলার নদী, নৌকা, নারকেলগাছ, গ্রামীণ জীবন ও পুরোনো স্থাপত্যের ছবি। এসব উপকরণের মাধ্যমে প্রবাসে দেশীয় খাবার খেতে আসা মানুষের কাছে বাংলাদেশের পরিচিত পরিবেশের অনুভূতি তুলে ধরার চেষ্টা রয়েছে।
উদ্বোধনের প্রস্তুতির সময় রেস্তোরাঁটির সাজসজ্জায় পরিমিতিবোধের পাশাপাশি ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয় দেখা যায়। খাবারের আয়োজনের সঙ্গে পরিচিত সাংস্কৃতিক আবহ যুক্ত করাও প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনার অংশ।
মাহী রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বেকারির উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে প্রায় তিন দশকের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা। নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে একটি ছোট গ্রোসারি দিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন সৈয়দ রহমান মান্নান। পরবর্তী সময়ে মান্নান গ্রোসারি, মান্নান সুপারমার্কেট, মান্নান বেকারি ও মান্নান রেস্টুরেন্টের মাধ্যমে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে পরিচিতি পায় তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো।
দীর্ঘদিনের সেই ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় এবার নিজস্ব উদ্যোগ নিয়ে যুক্ত হয়েছেন তাঁর মেয়ে মাহী মান্নান। স্বামী মোহাম্মদ শাহেদ ও তাঁদের অংশীদারকে সঙ্গে নিয়ে নতুন প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন তিনি। পারিবারিক ব্যবসার অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া পরামর্শ কাজে লাগিয়ে নিজস্ব পরিচয়ে প্রতিষ্ঠানটি এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা তাঁর।
নতুন রেস্তোরাঁর উদ্বোধন উপলক্ষে কয়েকটি খাবারে বিশেষ মূল্যছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি চিকেন সমুচার দাম ৩ ডলার। হোয়াইট রোস্ট, পোলাও ও ডিমের কম্বো পাওয়া যাচ্ছে ৬ ডলারে। সাদা ভাত, আলুভর্তা ও ডালের সঙ্গে রুই মাছের কারির কম্বোর দাম ৭ ডলার। আর ভাতের সঙ্গে মেজবানি গরুর মাংসের কম্বোর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ ডলার।
রুই মাছের কারি, হোয়াইট রোস্ট-পোলাও ও মেজবানি গরুর মাংসের এই তিনটি খাবারের কম্বো অফার কেবল খাবার নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। রেস্তোরাঁটি থেকে নিয়মিত খাবারের পাশাপাশি ক্যাটারিংয়ের অর্ডারও দেওয়া যাবে।
টিএলসি লাইসেন্সধারী চালকদের জন্যও রয়েছে বিশেষ ছাড়। পরিচয়পত্র দেখিয়ে কমপক্ষে ১০ ডলারের খাবার নিয়ে যাওয়ার অর্ডার করলে তাঁরা ১০ শতাংশ ছাড় পাবেন। তবে ক্যাটারিংয়ের অর্ডার এবং আগে থেকেই বিশেষ মূল্যছাড়ের আওতায় থাকা খাবারের ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।
প্রচারপত্রে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উদ্বোধন উপলক্ষে বিশেষ অফারগুলো ২০ নভেম্বর পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। তবে খাবারের দাম ও অফারের শর্ত পরিবর্তনের অধিকার সংরক্ষণ করেছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।



























