ঢাকা ১০:৫৩ , Sun, ১৮ Oct ২০২৬

রোদে দেবীবরণ, বৃষ্টিতে বিসর্জন: টাইমস স্কয়ারে দুই দিনের দুর্গোৎসব ‘মহামিলন ২০২৬’

প্রজন্ম কথা ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২:০৫
  • / 3
নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারের ফাদার ডাফি স্কয়ারে ‘মহামিলন ২০২৬’ দুর্গোৎসবে ধর্মীয় আচার ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন শিল্পী ও ভক্তরা। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক, (প্রজন্ম কথা) – রোদে দেবীবরণ আর বৃষ্টিতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে নিউইয়র্কের বিশ্বখ্যাত টাইমস স্কয়ারে শেষ হয়েছে দুই দিনব্যাপী দুর্গোৎসব ‘মহামিলন ২০২৬’। গত ১০ ও ১১ অক্টোবর ম্যানহাটনের ফাদার ডাফি স্কয়ারে আয়োজিত এ উৎসবে ধর্মীয় আচার, নৃত্য, সংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন হাজারো দর্শনার্থী। প্রবাসী বাঙালিদের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটক, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ, কূটনীতিক ও করপোরেট অঙ্গনের প্রতিনিধিরাও এতে যোগ দেন।

টাইমস স্কয়ার দুর্গা উৎসব অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি ফাদার ডাফি স্কয়ারে দ্বিতীয় দুর্গোৎসব। দুই দিনের কর্মসূচিতে বাঙালির ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক চর্চার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।

১০ অক্টোবর শনিবার প্রথম দিনের অনুষ্ঠানে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি ছিল নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সত্যম রায় চৌধুরীর চণ্ডীপাঠ, সুতিপা চৌধুরীর পরিচালনায় শিশু-কিশোরদের গীতাপাঠ এবং মালবিকা চ্যাটার্জির পরিচালনায় সংগীত সাধনা একাডেমির পরিবেশনা ছিল কর্মসূচির অংশ। দিনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল চন্দ্রা ব্যানার্জির পরিচালনায় নৃত্যাঞ্জলির ‘দশ মহাবিদ্যা’। প্রায় তিন মাসের প্রস্তুতিতে ৬০ জনের বেশি শিল্পী এতে অংশ নেন। সংগীত পরিবেশন করেন শাহ্ মাহবুব। তাঁর গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন মহিতোষ তালুকদার তাপস। মেঘলা দাশগুপ্ত ও তাঁর দলের পরিবেশনা চলে রাত ১০টা পর্যন্ত।

উৎসবে উত্তর আমেরিকার চার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ড. মৃদুল পাঠক, অশোক রক্ষিত, মিলন আওয়ান ও জয়প্রকাশ বিশ্বাসকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। অশোক রক্ষিতের হাতে সম্মাননা তুলে দেন বিশ্বজিত সাহা। সংগঠনের সভাপতি শশধর হাওলাদার সম্মাননা দেন মিলন আওয়ানকে এবং কোষাধ্যক্ষ সম্যব্রত দাশগুপ্ত সম্মাননা তুলে দেন জয়প্রকাশ বিশ্বাসের হাতে। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ড. কল্লোল বসু।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. প্রিন্স মারিও-ম্যাক্স শাউমবার্গ-লিপে ও তাঁর মা ড. আন্তোনিয়া প্রিন্সেসিন জু শাউমার্গ-লিপে। অ্যাসোসিয়েশনের অতিথি সম্পর্ক ও আতিথেয়তা বিভাগের প্রধান অনুপম দত্ত তাঁদের অভ্যর্থনা জানান। নিউইয়র্কে ভারতের কনসাল জেনারেল বিনয় শ্রীকান্ত প্রধান স্ত্রী মোনালিসা প্রধান ও দুই সন্তানকে নিয়ে দুর্গাপ্রতিমা দর্শন করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও করপোরেট অঙ্গনের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

১১ অক্টোবর রোববার বৃষ্টির মধ্যেই পালিত হয় মহাষ্টমী, মহানবমী ও বিজয়া দশমীর পূজা। পুষ্পাঞ্জলি, শান্তিজল প্রদান, সিঁদুর খেলা ও বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন ভক্তরা। প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও ধর্মীয় আচার ও সাংস্কৃতিক আয়োজন অব্যাহত ছিল।

দ্বিতীয় দিনের সাংস্কৃতিক পর্বে সুদেষ্ণা সাহার একক নৃত্য, নৃত্যাঞ্জলির ধুনুচি নাচ এবং কানেকটিকাটের তাথৈ শিল্পীগোষ্ঠীর ‘প্রেমের বৃন্দাবন’ পরিবেশনা দর্শকদের প্রশংসা পায়। ‘প্রেমের বৃন্দাবন’-এর নৃত্যপরিকল্পনা ও পরিচালনায় ছিলেন তানিয়া চন্দ্র এবং সংগীত পরিবেশন করেন সবিতা দাস। বাংলাদেশ একাডেমি অব ফাইন আর্টসের (বাফা) ‘জয় মা দুর্গা’ পরিবেশনার পরিকল্পনা ও পরিচালনা করেন মার্জিয়া স্মৃতি। দিয়াসিনী রায় ও তাঁর সংগীতদলের বাংলা ও হিন্দি গানের পরিবেশনায় বৃষ্টিভেজা টাইমস স্কয়ারেও উৎসবের আমেজ বজায় থাকে।

দুর্গাপূজার আয়োজন ও বাঙালি সংস্কৃতি সংরক্ষণে পাঁচ দশক বা তার বেশি সময় ধরে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি ঐতিহ্যবাহী সংগঠনকে সম্মাননা দেওয়া হয়। সংগঠনগুলো হলো ক্যালিফোর্নিয়ার বে এরিয়া প্রবাসী ইনকরপোরেটেড, ইলিনয়ের বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন অব গ্রেটার শিকাগো, ওহাইওর বেঙ্গলি কালচারাল সোসাইটি, নিউইয়র্কের ইস্ট কোস্ট দুর্গাপূজা অ্যাসোসিয়েশন, নিউজার্সির কল্লোল এবং পেনসিলভানিয়ার প্রগতি।

আয়োজন সফল করতে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি (এনওয়াইইউ), রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩৫ জন তরুণ-তরুণী স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেন। উৎসবের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ছিল আশা গ্রুপের আশা হোম কেয়ার ও আশা রেস্টুরেন্ট।
এবারের আয়োজন উপলক্ষে বিশ্বজিত সাহার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় বিশেষ সাহিত্যসংকলন ‘শারদীয় ২০২৬’। এতে বিশিষ্ট সাহিত্যিক নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়িসহ বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরের লেখকদের রচনা স্থান পেয়েছে। উৎসবস্থলে সংকলনটির শত শত কপি বিতরণ করা হয়।

ধর্মীয় আচার, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সম্মাননা প্রদান ও সাহিত্যসংকলন প্রকাশের মধ্য দিয়ে ‘মহামিলন ২০২৬’ প্রবাসে বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বহুমাত্রিক প্রকাশ হয়ে ওঠে। রোদে দেবীবরণ থেকে বৃষ্টিতে বিসর্জন পর্যন্ত দুই দিনের আয়োজন নিউইয়র্কের প্রবাসী বাঙালিদের মিলন এবং সাংস্কৃতিক বন্ধন দৃঢ় করার উপলক্ষ তৈরি করে।

❤️
👏
🙂
😞

রোদে দেবীবরণ, বৃষ্টিতে বিসর্জন: টাইমস স্কয়ারে দুই দিনের দুর্গোৎসব ‘মহামিলন ২০২৬’

প্রকাশঃ ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২:০৫

নিউইয়র্ক, (প্রজন্ম কথা) – রোদে দেবীবরণ আর বৃষ্টিতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে নিউইয়র্কের বিশ্বখ্যাত টাইমস স্কয়ারে শেষ হয়েছে দুই দিনব্যাপী দুর্গোৎসব ‘মহামিলন ২০২৬’। গত ১০ ও ১১ অক্টোবর ম্যানহাটনের ফাদার ডাফি স্কয়ারে আয়োজিত এ উৎসবে ধর্মীয় আচার, নৃত্য, সংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন হাজারো দর্শনার্থী। প্রবাসী বাঙালিদের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটক, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ, কূটনীতিক ও করপোরেট অঙ্গনের প্রতিনিধিরাও এতে যোগ দেন।

টাইমস স্কয়ার দুর্গা উৎসব অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি ফাদার ডাফি স্কয়ারে দ্বিতীয় দুর্গোৎসব। দুই দিনের কর্মসূচিতে বাঙালির ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক চর্চার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।

১০ অক্টোবর শনিবার প্রথম দিনের অনুষ্ঠানে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি ছিল নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সত্যম রায় চৌধুরীর চণ্ডীপাঠ, সুতিপা চৌধুরীর পরিচালনায় শিশু-কিশোরদের গীতাপাঠ এবং মালবিকা চ্যাটার্জির পরিচালনায় সংগীত সাধনা একাডেমির পরিবেশনা ছিল কর্মসূচির অংশ। দিনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল চন্দ্রা ব্যানার্জির পরিচালনায় নৃত্যাঞ্জলির ‘দশ মহাবিদ্যা’। প্রায় তিন মাসের প্রস্তুতিতে ৬০ জনের বেশি শিল্পী এতে অংশ নেন। সংগীত পরিবেশন করেন শাহ্ মাহবুব। তাঁর গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন মহিতোষ তালুকদার তাপস। মেঘলা দাশগুপ্ত ও তাঁর দলের পরিবেশনা চলে রাত ১০টা পর্যন্ত।

উৎসবে উত্তর আমেরিকার চার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ড. মৃদুল পাঠক, অশোক রক্ষিত, মিলন আওয়ান ও জয়প্রকাশ বিশ্বাসকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। অশোক রক্ষিতের হাতে সম্মাননা তুলে দেন বিশ্বজিত সাহা। সংগঠনের সভাপতি শশধর হাওলাদার সম্মাননা দেন মিলন আওয়ানকে এবং কোষাধ্যক্ষ সম্যব্রত দাশগুপ্ত সম্মাননা তুলে দেন জয়প্রকাশ বিশ্বাসের হাতে। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ড. কল্লোল বসু।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. প্রিন্স মারিও-ম্যাক্স শাউমবার্গ-লিপে ও তাঁর মা ড. আন্তোনিয়া প্রিন্সেসিন জু শাউমার্গ-লিপে। অ্যাসোসিয়েশনের অতিথি সম্পর্ক ও আতিথেয়তা বিভাগের প্রধান অনুপম দত্ত তাঁদের অভ্যর্থনা জানান। নিউইয়র্কে ভারতের কনসাল জেনারেল বিনয় শ্রীকান্ত প্রধান স্ত্রী মোনালিসা প্রধান ও দুই সন্তানকে নিয়ে দুর্গাপ্রতিমা দর্শন করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও করপোরেট অঙ্গনের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

১১ অক্টোবর রোববার বৃষ্টির মধ্যেই পালিত হয় মহাষ্টমী, মহানবমী ও বিজয়া দশমীর পূজা। পুষ্পাঞ্জলি, শান্তিজল প্রদান, সিঁদুর খেলা ও বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন ভক্তরা। প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও ধর্মীয় আচার ও সাংস্কৃতিক আয়োজন অব্যাহত ছিল।

দ্বিতীয় দিনের সাংস্কৃতিক পর্বে সুদেষ্ণা সাহার একক নৃত্য, নৃত্যাঞ্জলির ধুনুচি নাচ এবং কানেকটিকাটের তাথৈ শিল্পীগোষ্ঠীর ‘প্রেমের বৃন্দাবন’ পরিবেশনা দর্শকদের প্রশংসা পায়। ‘প্রেমের বৃন্দাবন’-এর নৃত্যপরিকল্পনা ও পরিচালনায় ছিলেন তানিয়া চন্দ্র এবং সংগীত পরিবেশন করেন সবিতা দাস। বাংলাদেশ একাডেমি অব ফাইন আর্টসের (বাফা) ‘জয় মা দুর্গা’ পরিবেশনার পরিকল্পনা ও পরিচালনা করেন মার্জিয়া স্মৃতি। দিয়াসিনী রায় ও তাঁর সংগীতদলের বাংলা ও হিন্দি গানের পরিবেশনায় বৃষ্টিভেজা টাইমস স্কয়ারেও উৎসবের আমেজ বজায় থাকে।

দুর্গাপূজার আয়োজন ও বাঙালি সংস্কৃতি সংরক্ষণে পাঁচ দশক বা তার বেশি সময় ধরে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি ঐতিহ্যবাহী সংগঠনকে সম্মাননা দেওয়া হয়। সংগঠনগুলো হলো ক্যালিফোর্নিয়ার বে এরিয়া প্রবাসী ইনকরপোরেটেড, ইলিনয়ের বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন অব গ্রেটার শিকাগো, ওহাইওর বেঙ্গলি কালচারাল সোসাইটি, নিউইয়র্কের ইস্ট কোস্ট দুর্গাপূজা অ্যাসোসিয়েশন, নিউজার্সির কল্লোল এবং পেনসিলভানিয়ার প্রগতি।

আয়োজন সফল করতে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি (এনওয়াইইউ), রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩৫ জন তরুণ-তরুণী স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেন। উৎসবের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ছিল আশা গ্রুপের আশা হোম কেয়ার ও আশা রেস্টুরেন্ট।
এবারের আয়োজন উপলক্ষে বিশ্বজিত সাহার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় বিশেষ সাহিত্যসংকলন ‘শারদীয় ২০২৬’। এতে বিশিষ্ট সাহিত্যিক নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়িসহ বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরের লেখকদের রচনা স্থান পেয়েছে। উৎসবস্থলে সংকলনটির শত শত কপি বিতরণ করা হয়।

ধর্মীয় আচার, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সম্মাননা প্রদান ও সাহিত্যসংকলন প্রকাশের মধ্য দিয়ে ‘মহামিলন ২০২৬’ প্রবাসে বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বহুমাত্রিক প্রকাশ হয়ে ওঠে। রোদে দেবীবরণ থেকে বৃষ্টিতে বিসর্জন পর্যন্ত দুই দিনের আয়োজন নিউইয়র্কের প্রবাসী বাঙালিদের মিলন এবং সাংস্কৃতিক বন্ধন দৃঢ় করার উপলক্ষ তৈরি করে।