ব্রিটেনে ভাতা কমিয়ে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনা, বদলাচ্ছে সরকারি সহায়তা নীতি
- প্রকাশঃ ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:১৪
- / 7
লন্ডন, ২০ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা): যুক্তরাজ্যে কাজ, পড়াশোনা বা প্রশিক্ষণের বাইরে থাকা প্রায় ৯ লাখ ৬০ হাজার তরুণকে কর্মজীবনে ফেরাতে সরকারি ভাতা ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের পরিকল্পনা করছে সরকার। এ উদ্যোগের আওতায় ইউনিভার্সাল ক্রেডিট ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ভাতার মতো সুবিধায় পরিবর্তন আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে প্রস্তাবিত সংস্কার নিয়ে দারিদ্র্য বৃদ্ধি ও তরুণদের আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যালোচক অ্যালান মিলবার্ন বলেছেন, তরুণদের কল্যাণমূলক ভাতা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। তাঁর মতে, কাজের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি তরুণদের কর্মসংস্থানে উৎসাহিত করতে বর্তমান ব্যবস্থার কার্যকারিতা পর্যালোচনা করতে হবে। আগামী নভেম্বরে এ বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত নীতি ঘোষণার কথা রয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী প্রায় ৯ লাখ ৬০ হাজার তরুণ বর্তমানে পড়াশোনা, চাকরি কিংবা কোনো প্রশিক্ষণে যুক্ত নন। ইংরেজিতে এই অবস্থাকে ‘নিট’ বলা হয়। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ২০৩০-এর দশকের শুরুর দিকে এই সংখ্যা বেড়ে সাড়ে ১২ লাখে পৌঁছাতে পারে।
মিলবার্ন সতর্ক করে বলেছেন, ২৪ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে প্রায় ৪৫ শতাংশ কখনো কোনো কাজ করেননি। দীর্ঘদিন কর্মজগতের বাইরে থাকলে তাঁদের চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ আরও সীমিত হয়ে পড়তে পারে।
যুক্তরাজ্যের কর্ম ও পেনশনবিষয়ক বিভাগ তরুণদের জন্য স্বাস্থ্য খাতসংশ্লিষ্ট ইউনিভার্সাল ক্রেডিটে বছরে প্রায় ৮০ কোটি পাউন্ড এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ভাতা বা পিআইপিতে বছরে প্রায় ৩২০ কোটি পাউন্ড ব্যয় করে। মিলবার্নের হিসাবে, তরুণদের কর্মসংস্থানে প্রতি এক পাউন্ড ব্যয়ের বিপরীতে ভাতার পেছনে ২৫ পাউন্ড খরচ হচ্ছে।
তাঁর মতে, কাজ না করেও মাসে প্রায় ২ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত ভাতা পাওয়ার সুযোগ কিছু তরুণকে চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করতে পারে। এ কারণে ভাতা ব্যবস্থার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সহায়তা কর্মসূচিগুলোও নতুন করে পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তবে কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী স্টিফেন টিমস জানিয়েছেন, জটিল ও স্থায়ী প্রতিবন্ধকতায় ভোগা তরুণদের প্রস্তাবিত ভাতা কাটছাঁটের আওতার বাইরে রাখা হবে। ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ভাতার ক্ষেত্রেও কঠোর আর্থিক যাচাই আরোপ না করার বিষয়টি তিনি স্পষ্ট করেছেন।
একই সঙ্গে সরকারের ‘ইয়ুথ গ্যারান্টি’ ও ‘পাথওয়েজ টু ওয়ার্ক’ কর্মসূচির মাধ্যমে তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং কাজের উপযোগী করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, অধিকারকর্মীরা সতর্ক করেছেন, পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি না করে ভাতা কমানো হলে তরুণদের দারিদ্র্য ও বঞ্চনা বাড়তে পারে। এতে কেউ কেউ গুরুতর আর্থিক সংকটে পড়ে গৃহহীন হওয়ার ঝুঁকিতেও পড়তে পারেন।
ফলে ভাতা সংস্কারের পরিকল্পনায় কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্য এবং আর্থিকভাবে ঝুঁকিতে থাকা তরুণদের সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নভেম্বরে সরকারের চূড়ান্ত নীতি ঘোষণার পর এ নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক আরও জোরালো হতে পারে।




























