ঢাকা ০২:০৬ , Fri, ২৩ Oct ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাষ্ট্র

নতুন বাসিন্দা টানতে ১৫ হাজার ডলার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের টোপিকা শহর, মানতে হবে যেসব শর্ত

মুশফিকুর রহমান
  • প্রকাশঃ ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৩
  • / 5
যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যের রাজধানী টোপিকায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে নতুন বসতি গড়লে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার প্রণোদনা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে । নিউইয়র্ক পোস্ট

টোপিকা, ২৩ অক্টোবর (প্রজন্ম কথা): যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যের রাজধানী টোপিকায় নতুন বাসিন্দাদের আকৃষ্ট করতে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। তবে এ সুবিধা পেতে হলে শাওনি কাউন্টির কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি, বছরে কমপক্ষে ৫০ হাজার ডলার বেতন এবং কাউন্টিতে বাড়ি কেনার মতো নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে।

‘চুজ টোপিকা’ নামের এ কর্মসূচির আওতায় স্থায়ীভাবে টোপিকায় যাওয়ার আগেই আবেদন করতে হবে। কর্মসূচিটির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, আবেদনকারীকে শাওনি কাউন্টির কোনো নিয়োগদাতার কাছ থেকে বেতনের প্রমাণ এবং ওই কাউন্টিতে বাড়ি কেনার প্রমাণ দিতে হবে। পাশাপাশি তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অথবা দেশটিতে বৈধভাবে বসবাসের অনুমতিপ্রাপ্ত হতে হবে।

তবে টোপিকায় গেলেই এ অর্থ পাওয়া যাবে, এমন নয়। কর্মসূচিতে নিয়োগদাতাদের অংশগ্রহণ স্বেচ্ছামূলক এবং সব চাকরিতে এ সুবিধা প্রযোজ্য নয়। তাই স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সম্ভাব্য নিয়োগদাতার সঙ্গে প্রণোদনার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

কর্মসূচিটির সঙ্গে বর্তমানে ৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে। সাধারণত যেসব পদে উপযুক্ত কর্মী পাওয়া কঠিন, সেসব পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে এ সুবিধা দেওয়া হয়। বিশেষায়িত দক্ষতা, শিক্ষা বা অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয় এমন চাকরিতে কর্মী আকৃষ্ট করা এর অন্যতম উদ্দেশ্য। তবে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ সব নিয়োগদাতার জন্য উন্মুক্ত।

একই পরিবারের একাধিক সদস্য আবেদন করলেও প্রত্যেকে আলাদা করে অর্থ পাবেন না। একটি পরিবার থেকে একজন সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

আগে শাওনি কাউন্টিতে বসবাস করতেন, পরে অন্যত্র চলে গেছেন এবং এখন ফিরে আসতে চান, এমন ব্যক্তিদের জন্যও অর্থ বরাদ্দ রয়েছে। এ ধরনের আবেদনকারীদের ‘বুমেরাং’ আবেদনকারী বলা হয়। তাঁদের ফিরিয়ে এনে স্থানীয় কর্মসংস্থান ও জনবসতি বাড়ানোও কর্মসূচিটির লক্ষ্য।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত টোপিকার জনসংখ্যা ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৪১। কানসাস সিটির প্রায় ৬০ মাইল পশ্চিমে অবস্থিত শহরটির রয়েছে ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও সাংস্কৃতিক আকর্ষণ।

১৯৫৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক ‘ব্রাউন বনাম বোর্ড অব এডুকেশন’ মামলার রায়ের সঙ্গে টোপিকার নাম বিশেষভাবে জড়িয়ে আছে। ওই রায়ে সরকারি বিদ্যালয়ে বর্ণের ভিত্তিতে শিশুদের পৃথক করে শিক্ষাদানের ব্যবস্থাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবৈষম্যবিরোধী নাগরিক অধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে এ সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

শহরটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ ‘ট্রাকহেঞ্জ’। টোপিকা ও টেকামসির মাঝামাঝি লেসম্যান পরিবারের খামারে অবস্থিত এই উন্মুক্ত শিল্পকর্মের নির্মাণ শুরু করেন রন লেসম্যান, ২০০০ সালে। এতে ছয়টি পুরোনো ট্রাকের সামনের অংশ মাটিতে পুঁতে বৃত্তাকারে সাজানো হয়েছে। ইংল্যান্ডের বিখ্যাত স্টোনহেঞ্জের আদলে তৈরি এ স্থাপনাটি পর্যটকদের আকর্ষণ করে।

টোপিকার খাবার ও পানীয় সংস্কৃতিরও পরিচিতি রয়েছে। শহরের ‘ব্লাইন্ড টাইগার ব্রুয়ারি অ্যান্ড রেস্তোরাঁ’ ২০১২ সালের বিশ্ব বিয়ার প্রতিযোগিতায় মাইবক শ্রেণিতে স্বর্ণপদক জিতেছিল। প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তী সময়ে গ্রেট আমেরিকান বিয়ার উৎসব ও বিশ্ব বিয়ার প্রতিযোগিতায় স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ মিলিয়ে মোট ১৫টি পদক পেয়েছে।

নতুন বাসিন্দা ও কর্মী আকৃষ্ট করার পাশাপাশি সাবেক বাসিন্দাদের ফিরিয়ে আনতে টোপিকার এ কর্মসূচি চালু রয়েছে। তবে আর্থিক সুবিধা পেতে চাকরি, ন্যূনতম আয়, বাড়ি কেনা এবং আবেদনের সময়সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করা বাধ্যতামূলক।

সূত্র: চুজ টোপিকা কর্মসূচির ওয়েবসাইট, নিউইয়র্ক পোস্ট

❤️
👏
🙂
😞

নতুন বাসিন্দা টানতে ১৫ হাজার ডলার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের টোপিকা শহর, মানতে হবে যেসব শর্ত

প্রকাশঃ ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৩

টোপিকা, ২৩ অক্টোবর (প্রজন্ম কথা): যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যের রাজধানী টোপিকায় নতুন বাসিন্দাদের আকৃষ্ট করতে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। তবে এ সুবিধা পেতে হলে শাওনি কাউন্টির কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি, বছরে কমপক্ষে ৫০ হাজার ডলার বেতন এবং কাউন্টিতে বাড়ি কেনার মতো নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে।

‘চুজ টোপিকা’ নামের এ কর্মসূচির আওতায় স্থায়ীভাবে টোপিকায় যাওয়ার আগেই আবেদন করতে হবে। কর্মসূচিটির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, আবেদনকারীকে শাওনি কাউন্টির কোনো নিয়োগদাতার কাছ থেকে বেতনের প্রমাণ এবং ওই কাউন্টিতে বাড়ি কেনার প্রমাণ দিতে হবে। পাশাপাশি তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অথবা দেশটিতে বৈধভাবে বসবাসের অনুমতিপ্রাপ্ত হতে হবে।

তবে টোপিকায় গেলেই এ অর্থ পাওয়া যাবে, এমন নয়। কর্মসূচিতে নিয়োগদাতাদের অংশগ্রহণ স্বেচ্ছামূলক এবং সব চাকরিতে এ সুবিধা প্রযোজ্য নয়। তাই স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সম্ভাব্য নিয়োগদাতার সঙ্গে প্রণোদনার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

কর্মসূচিটির সঙ্গে বর্তমানে ৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে। সাধারণত যেসব পদে উপযুক্ত কর্মী পাওয়া কঠিন, সেসব পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে এ সুবিধা দেওয়া হয়। বিশেষায়িত দক্ষতা, শিক্ষা বা অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয় এমন চাকরিতে কর্মী আকৃষ্ট করা এর অন্যতম উদ্দেশ্য। তবে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ সব নিয়োগদাতার জন্য উন্মুক্ত।

একই পরিবারের একাধিক সদস্য আবেদন করলেও প্রত্যেকে আলাদা করে অর্থ পাবেন না। একটি পরিবার থেকে একজন সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

আগে শাওনি কাউন্টিতে বসবাস করতেন, পরে অন্যত্র চলে গেছেন এবং এখন ফিরে আসতে চান, এমন ব্যক্তিদের জন্যও অর্থ বরাদ্দ রয়েছে। এ ধরনের আবেদনকারীদের ‘বুমেরাং’ আবেদনকারী বলা হয়। তাঁদের ফিরিয়ে এনে স্থানীয় কর্মসংস্থান ও জনবসতি বাড়ানোও কর্মসূচিটির লক্ষ্য।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত টোপিকার জনসংখ্যা ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৪১। কানসাস সিটির প্রায় ৬০ মাইল পশ্চিমে অবস্থিত শহরটির রয়েছে ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও সাংস্কৃতিক আকর্ষণ।

১৯৫৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক ‘ব্রাউন বনাম বোর্ড অব এডুকেশন’ মামলার রায়ের সঙ্গে টোপিকার নাম বিশেষভাবে জড়িয়ে আছে। ওই রায়ে সরকারি বিদ্যালয়ে বর্ণের ভিত্তিতে শিশুদের পৃথক করে শিক্ষাদানের ব্যবস্থাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবৈষম্যবিরোধী নাগরিক অধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে এ সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

শহরটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ ‘ট্রাকহেঞ্জ’। টোপিকা ও টেকামসির মাঝামাঝি লেসম্যান পরিবারের খামারে অবস্থিত এই উন্মুক্ত শিল্পকর্মের নির্মাণ শুরু করেন রন লেসম্যান, ২০০০ সালে। এতে ছয়টি পুরোনো ট্রাকের সামনের অংশ মাটিতে পুঁতে বৃত্তাকারে সাজানো হয়েছে। ইংল্যান্ডের বিখ্যাত স্টোনহেঞ্জের আদলে তৈরি এ স্থাপনাটি পর্যটকদের আকর্ষণ করে।

টোপিকার খাবার ও পানীয় সংস্কৃতিরও পরিচিতি রয়েছে। শহরের ‘ব্লাইন্ড টাইগার ব্রুয়ারি অ্যান্ড রেস্তোরাঁ’ ২০১২ সালের বিশ্ব বিয়ার প্রতিযোগিতায় মাইবক শ্রেণিতে স্বর্ণপদক জিতেছিল। প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তী সময়ে গ্রেট আমেরিকান বিয়ার উৎসব ও বিশ্ব বিয়ার প্রতিযোগিতায় স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ মিলিয়ে মোট ১৫টি পদক পেয়েছে।

নতুন বাসিন্দা ও কর্মী আকৃষ্ট করার পাশাপাশি সাবেক বাসিন্দাদের ফিরিয়ে আনতে টোপিকার এ কর্মসূচি চালু রয়েছে। তবে আর্থিক সুবিধা পেতে চাকরি, ন্যূনতম আয়, বাড়ি কেনা এবং আবেদনের সময়সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করা বাধ্যতামূলক।

সূত্র: চুজ টোপিকা কর্মসূচির ওয়েবসাইট, নিউইয়র্ক পোস্ট