ঢাকা ০৮:১১ , Sat, ২৪ Oct ২০২৬

টেসলার নতুন রোডস্টারের প্রকৌশল প্রকল্পে কাজ করেছেন বুয়েটের তারেক সরোয়ার

প্রজন্ম কথা ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৪৪
  • / 3
টেসলার নতুন রোডস্টার মডেলের নিচের কাঠামোর স্থায়িত্ব ও কার্যক্ষমতা মূল্যায়নের প্রকৌশল প্রকল্পে কাজ করেছেন বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী তারেক সরোয়ার। ছবি: সংগৃহীত 

ঢাকা, ২৫ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা) – বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার নতুন রোডস্টার মডেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকৌশল প্রকল্পে কাজ করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক শিক্ষার্থী তারেক সরোয়ার। ২০২৩ সালে টেসলায় ইন্টার্নশিপের সময় গাড়িটির নিচের কাঠামোর স্থায়িত্ব ও কার্যক্ষমতা মূল্যায়নের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। সম্প্রতি গাড়িটির পূর্ণাঙ্গ রূপ প্রকাশ্যে আসার পর প্রকল্পে কাজ করার অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন তারেক। বর্তমানে তিনি হানিওয়েলে কর্মরত।

তারেক বুয়েটের ধাতব পদার্থ ও ধাতুবিদ্যা প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। টেসলায় কাজ করার সময় তিনি রোডস্টারের নতুন মডেলের নিচের কাঠামো তৈরির একটি বিশেষ প্রকৌশল উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রচলিত পদ্ধতিতে একাধিক ধাতব পাত জোড়া দিয়ে কাঠামো তৈরির পরিবর্তে পুরো অংশটি একবারে ঢালাই করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছিল প্রতিষ্ঠানটি।

সাধারণত গাড়ির নিচের কাঠামো একাধিক ধাতব অংশ জোড়া দিয়ে তৈরি করা হয়। তবে টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক এই প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে পুরো কাঠামো একটিমাত্র অংশ হিসেবে ঢালাই করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেন। বড় আকারের একটি যন্ত্রাংশ একবারে তৈরি করা ছিল প্রকৌশলগতভাবে জটিল চ্যালেঞ্জ।

এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টেসলা বিশেষ ধরনের অ্যালুমিনিয়াম সংকর ধাতু নিয়ে কাজ করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর প্রতিষ্ঠানটি প্রতি পাঁচ সেকেন্ডে একটি করে সম্পূর্ণ নিচের কাঠামোর অংশ তৈরির প্রক্রিয়া আয়ত্ত করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তারেকের ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তর আমেরিকায় এত বড় একটি অংশ একবারে ঢালাই করার পূর্ববর্তী কোনো দৃষ্টান্ত নেই।

এই প্রকল্পে তারেকের প্রধান দায়িত্ব ছিল বিভিন্ন তীব্র আবহাওয়ায় গাড়িটির নিচের কাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব ও কার্যক্ষমতা মূল্যায়ন করা। সময়ের সঙ্গে উপাদানটির আচরণ কেমন হবে এবং বিভিন্ন পরিবেশে সেটি কতটা কার্যকর থাকবে, তা বিশ্লেষণ করতেন তিনি।

তার মূল্যায়ন থেকে পাওয়া ফলাফল যন্ত্রাংশটির চূড়ান্ত নকশা তৈরির কাজে ভূমিকা রাখে। গাড়ি নির্মাণে ব্যবহৃত উপাদানের স্থায়িত্ব ও কার্যক্ষমতা যাচাইয়ের মাধ্যমে উৎপাদনপ্রক্রিয়া এবং চূড়ান্ত নকশা উন্নত করার সুযোগ তৈরি হয়।

২০২৩ সালে প্রকল্পটিতে কাজ করার প্রায় তিন বছর পর সম্প্রতি রোডস্টারের পূর্ণাঙ্গ রূপ প্রকাশ্যে আসে। এরপর প্রকল্পে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাগ করে নেন তারেক। টেসলার মতো প্রতিষ্ঠানে কাজ করার এই অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ও প্রকৌশল খাতে বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের অংশগ্রহণের বিষয়টি সামনে এনেছে।

গাড়ি নির্মাণের উন্নত প্রকৌশলপ্রক্রিয়ায় নকশার পাশাপাশি উপাদানবিজ্ঞান, তথ্য বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন কারিগরি সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বুয়েটে অর্জিত ধাতব পদার্থের বৈশিষ্ট্য ও স্থায়িত্ববিষয়ক জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তারেক এই প্রকল্পে দায়িত্ব পালন করেছেন।

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌর শহরের আবু তাহের ও ছাহেরা আক্তার রুমা দম্পতির বড় ছেলে তারেক সরোয়ার। তাঁর স্থায়ী নিবাস ঢাকার উত্তরায়। ব্যক্তিগত জীবনে দুই সন্তানের জনক তারেক ২০১৬ সালে কম্পিউটার প্রকৌশলী সুমাইয়া আফরিনকে বিয়ে করেন।

টেসলার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকৌশল প্রকল্পে কাজ করার অভিজ্ঞতা তারেকের পেশাগত জীবনের উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। তাঁর এই যাত্রা আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের কাজের সুযোগ ও অবদানের দিকটি তুলে ধরে।

❤️
👏
🙂
😞

টেসলার নতুন রোডস্টারের প্রকৌশল প্রকল্পে কাজ করেছেন বুয়েটের তারেক সরোয়ার

প্রকাশঃ ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৪৪

ঢাকা, ২৫ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা) – বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার নতুন রোডস্টার মডেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকৌশল প্রকল্পে কাজ করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক শিক্ষার্থী তারেক সরোয়ার। ২০২৩ সালে টেসলায় ইন্টার্নশিপের সময় গাড়িটির নিচের কাঠামোর স্থায়িত্ব ও কার্যক্ষমতা মূল্যায়নের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। সম্প্রতি গাড়িটির পূর্ণাঙ্গ রূপ প্রকাশ্যে আসার পর প্রকল্পে কাজ করার অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন তারেক। বর্তমানে তিনি হানিওয়েলে কর্মরত।

তারেক বুয়েটের ধাতব পদার্থ ও ধাতুবিদ্যা প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। টেসলায় কাজ করার সময় তিনি রোডস্টারের নতুন মডেলের নিচের কাঠামো তৈরির একটি বিশেষ প্রকৌশল উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রচলিত পদ্ধতিতে একাধিক ধাতব পাত জোড়া দিয়ে কাঠামো তৈরির পরিবর্তে পুরো অংশটি একবারে ঢালাই করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছিল প্রতিষ্ঠানটি।

সাধারণত গাড়ির নিচের কাঠামো একাধিক ধাতব অংশ জোড়া দিয়ে তৈরি করা হয়। তবে টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক এই প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে পুরো কাঠামো একটিমাত্র অংশ হিসেবে ঢালাই করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেন। বড় আকারের একটি যন্ত্রাংশ একবারে তৈরি করা ছিল প্রকৌশলগতভাবে জটিল চ্যালেঞ্জ।

এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টেসলা বিশেষ ধরনের অ্যালুমিনিয়াম সংকর ধাতু নিয়ে কাজ করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর প্রতিষ্ঠানটি প্রতি পাঁচ সেকেন্ডে একটি করে সম্পূর্ণ নিচের কাঠামোর অংশ তৈরির প্রক্রিয়া আয়ত্ত করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তারেকের ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তর আমেরিকায় এত বড় একটি অংশ একবারে ঢালাই করার পূর্ববর্তী কোনো দৃষ্টান্ত নেই।

এই প্রকল্পে তারেকের প্রধান দায়িত্ব ছিল বিভিন্ন তীব্র আবহাওয়ায় গাড়িটির নিচের কাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব ও কার্যক্ষমতা মূল্যায়ন করা। সময়ের সঙ্গে উপাদানটির আচরণ কেমন হবে এবং বিভিন্ন পরিবেশে সেটি কতটা কার্যকর থাকবে, তা বিশ্লেষণ করতেন তিনি।

তার মূল্যায়ন থেকে পাওয়া ফলাফল যন্ত্রাংশটির চূড়ান্ত নকশা তৈরির কাজে ভূমিকা রাখে। গাড়ি নির্মাণে ব্যবহৃত উপাদানের স্থায়িত্ব ও কার্যক্ষমতা যাচাইয়ের মাধ্যমে উৎপাদনপ্রক্রিয়া এবং চূড়ান্ত নকশা উন্নত করার সুযোগ তৈরি হয়।

২০২৩ সালে প্রকল্পটিতে কাজ করার প্রায় তিন বছর পর সম্প্রতি রোডস্টারের পূর্ণাঙ্গ রূপ প্রকাশ্যে আসে। এরপর প্রকল্পে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাগ করে নেন তারেক। টেসলার মতো প্রতিষ্ঠানে কাজ করার এই অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ও প্রকৌশল খাতে বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের অংশগ্রহণের বিষয়টি সামনে এনেছে।

গাড়ি নির্মাণের উন্নত প্রকৌশলপ্রক্রিয়ায় নকশার পাশাপাশি উপাদানবিজ্ঞান, তথ্য বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন কারিগরি সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বুয়েটে অর্জিত ধাতব পদার্থের বৈশিষ্ট্য ও স্থায়িত্ববিষয়ক জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তারেক এই প্রকল্পে দায়িত্ব পালন করেছেন।

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌর শহরের আবু তাহের ও ছাহেরা আক্তার রুমা দম্পতির বড় ছেলে তারেক সরোয়ার। তাঁর স্থায়ী নিবাস ঢাকার উত্তরায়। ব্যক্তিগত জীবনে দুই সন্তানের জনক তারেক ২০১৬ সালে কম্পিউটার প্রকৌশলী সুমাইয়া আফরিনকে বিয়ে করেন।

টেসলার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকৌশল প্রকল্পে কাজ করার অভিজ্ঞতা তারেকের পেশাগত জীবনের উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। তাঁর এই যাত্রা আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের কাজের সুযোগ ও অবদানের দিকটি তুলে ধরে।