ঢাকা ০৬:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জিগাতলার ছাত্রী হোস্টেল থেকে এনসিপি নেত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০২:০৬:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 69

রাজধানীর জিগাতলার একটি ছাত্রী হোস্টেল থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ওই নেত্রীর নাম জান্নাত আরা রুমি (৩০)। তিনি ধানমন্ডি থানা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জান্নাত আরা রুমির বাড়ি নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায়। তাঁর বাবার নাম জাকির হোসেন।

হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান জানান, জান্নাত আরা রুমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন এবং জিগাতলার ওই ছাত্রী হোস্টেলের একটি কক্ষে একা বসবাস করতেন।

ওসি বলেন, সকালে খবর পেয়ে পুলিশ হোস্টেলে গিয়ে কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পায়। পুলিশ ও হোস্টেলের অন্যান্য বাসিন্দারা একাধিকবার ডাকাডাকি করেও সাড়া পাননি। পরে দরজা ভেঙে কক্ষের ভেতরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় জান্নাত আরা রুমির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন অপেক্ষা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে, জান্নাত আরা রুমির মৃত্যুর ঘটনায় নানা প্রশ্ন তুলেছে তাঁর রাজনৈতিক দল এনসিপি। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজা দাবি করেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের হুমকি ও ধারাবাহিক সাইবার বুলিংয়ের কারণে জান্নাত আরা রুমি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।

ফেসবুক পোস্টে তারেক রেজা লেখেন, গত মাসে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রায়ের দিন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে একটি ঘটনায় জড়িত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক কর্মীকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন জান্নাত আরা রুমি। এরপর থেকেই তাঁকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হত্যা ও ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তারেক রেজা আরও লেখেন, আমরা এটিকে আত্মহত্যা হিসেবে মানতে রাজি নই। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। যারা আমার বোনের জীবনকে তছনছ করে দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।

এ ঘটনায় পুলিশ জানিয়েছে, সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

জিগাতলার ছাত্রী হোস্টেল থেকে এনসিপি নেত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশঃ ০২:০৬:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজধানীর জিগাতলার একটি ছাত্রী হোস্টেল থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ওই নেত্রীর নাম জান্নাত আরা রুমি (৩০)। তিনি ধানমন্ডি থানা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জান্নাত আরা রুমির বাড়ি নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায়। তাঁর বাবার নাম জাকির হোসেন।

হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান জানান, জান্নাত আরা রুমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন এবং জিগাতলার ওই ছাত্রী হোস্টেলের একটি কক্ষে একা বসবাস করতেন।

ওসি বলেন, সকালে খবর পেয়ে পুলিশ হোস্টেলে গিয়ে কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পায়। পুলিশ ও হোস্টেলের অন্যান্য বাসিন্দারা একাধিকবার ডাকাডাকি করেও সাড়া পাননি। পরে দরজা ভেঙে কক্ষের ভেতরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় জান্নাত আরা রুমির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন অপেক্ষা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে, জান্নাত আরা রুমির মৃত্যুর ঘটনায় নানা প্রশ্ন তুলেছে তাঁর রাজনৈতিক দল এনসিপি। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজা দাবি করেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের হুমকি ও ধারাবাহিক সাইবার বুলিংয়ের কারণে জান্নাত আরা রুমি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।

ফেসবুক পোস্টে তারেক রেজা লেখেন, গত মাসে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রায়ের দিন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে একটি ঘটনায় জড়িত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক কর্মীকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন জান্নাত আরা রুমি। এরপর থেকেই তাঁকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হত্যা ও ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তারেক রেজা আরও লেখেন, আমরা এটিকে আত্মহত্যা হিসেবে মানতে রাজি নই। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। যারা আমার বোনের জীবনকে তছনছ করে দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।

এ ঘটনায় পুলিশ জানিয়েছে, সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”