ঢাকা ০৯:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলা: ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযানে গ্রেপ্তার ৯

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ১১:৪৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 114

প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়সহ সাংস্কৃতিক সংগঠনের ওপর হামলার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এই হামলায় জড়িত আরও ৩১ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র মতে, সোমবার (২১ ডিসেম্বর) সকাল পর্যন্ত অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সাতজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন: মো. কাশেম ফারুক (মোহাম্মদপুর, ঢাকা), মো. সাইদুর রহমান (ভাঙ্গা, ফরিদপুর), রাকিব হোসেন (শেরপুর), মো. নাইম (তেজগাঁও, ঢাকা), ফয়সাল আহমেদ প্রান্ত, মো. সোহেল রানা, মো. শফিকুল ইসলাম।

এছাড়া পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও গোয়েন্দা পুলিশ আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের পরিচয় যাচাই-বাছাই চলছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মো. নাইমকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে লুট হওয়া ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাইম স্বীকার করেছেন যে, তিনি মোট ১ লাখ ২৩ হাজার টাকা লুট করেছিলেন। সেই টাকা দিয়ে তিনি মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে একটি টেলিভিশন ও একটি ফ্রিজ কেনেন, যা পুলিশ ইতোমধ্যে জব্দ করেছে।

শেরপুরের বাসিন্দা রাকিব হোসেনকে ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে সরাসরি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে জড়িত থাকতে দেখা গেছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধ্বংসস্তূপের ছবি পোস্ট করে উসকানিমূলক বার্তা ছড়িয়েছিলেন বলেও প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে, কাশেম ফারুক বগুড়ার একটি মাদ্রাসার প্রাক্তন ছাত্র এবং বর্তমানে মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে পূর্বের অপরাধের রেকর্ড পাওয়া গেছে: মো. সোহেল রানা: কারওয়ান বাজার এলাকার এই বাসিন্দার বিরুদ্ধে মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৩টি মামলা রয়েছে। মো. শফিকুল ইসলাম: তার বিরুদ্ধে অতীতে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দুটি মামলা রয়েছে।

রোববার প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ৩১ জনকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে ভারতের সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবনের কাছে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টায় জড়িত আরও তিনজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হামলার পেছনের মূল উদ্দেশ্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলা: ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযানে গ্রেপ্তার ৯

প্রকাশঃ ১১:৪৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫

প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়সহ সাংস্কৃতিক সংগঠনের ওপর হামলার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এই হামলায় জড়িত আরও ৩১ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র মতে, সোমবার (২১ ডিসেম্বর) সকাল পর্যন্ত অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সাতজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন: মো. কাশেম ফারুক (মোহাম্মদপুর, ঢাকা), মো. সাইদুর রহমান (ভাঙ্গা, ফরিদপুর), রাকিব হোসেন (শেরপুর), মো. নাইম (তেজগাঁও, ঢাকা), ফয়সাল আহমেদ প্রান্ত, মো. সোহেল রানা, মো. শফিকুল ইসলাম।

এছাড়া পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও গোয়েন্দা পুলিশ আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের পরিচয় যাচাই-বাছাই চলছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মো. নাইমকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে লুট হওয়া ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাইম স্বীকার করেছেন যে, তিনি মোট ১ লাখ ২৩ হাজার টাকা লুট করেছিলেন। সেই টাকা দিয়ে তিনি মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে একটি টেলিভিশন ও একটি ফ্রিজ কেনেন, যা পুলিশ ইতোমধ্যে জব্দ করেছে।

শেরপুরের বাসিন্দা রাকিব হোসেনকে ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে সরাসরি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে জড়িত থাকতে দেখা গেছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধ্বংসস্তূপের ছবি পোস্ট করে উসকানিমূলক বার্তা ছড়িয়েছিলেন বলেও প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে, কাশেম ফারুক বগুড়ার একটি মাদ্রাসার প্রাক্তন ছাত্র এবং বর্তমানে মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে পূর্বের অপরাধের রেকর্ড পাওয়া গেছে: মো. সোহেল রানা: কারওয়ান বাজার এলাকার এই বাসিন্দার বিরুদ্ধে মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৩টি মামলা রয়েছে। মো. শফিকুল ইসলাম: তার বিরুদ্ধে অতীতে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দুটি মামলা রয়েছে।

রোববার প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ৩১ জনকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে ভারতের সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবনের কাছে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টায় জড়িত আরও তিনজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হামলার পেছনের মূল উদ্দেশ্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”