হাদি হত্যাকাণ্ড: খুনিদের সীমান্ত পার করেন যুবলীগ নেতা
- প্রকাশঃ ১২:০৭:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 92
ছবি: সংগৃহীত
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ ওসমান হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখকে ভারতে পালিয়ে যেতে সহায়তাকারী দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরীর (বাপ্পী) প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় তার ভগ্নিপতি আমিনুল ইসলাম খুনিদের সীমান্ত পার করার ব্যবস্থা করেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে মিরপুর থেকে আমিনুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে। এ নিয়ে হাদি হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১২ ডিসেম্বর পল্টনে হাদিকে গুলি করার পরপরই ফয়সাল ও আলমগীরকে দেশের বাইরে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়। ভারতে অবস্থানরত সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম তার ভগ্নিপতি আমিনুলকে ফোন করে জানান, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তের দালাল ফিলিপ স্নালের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করতে পারছেন না। তাইজুলের নির্দেশে আমিনুল দালাল ফিলিপের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন এবং দুই ব্যক্তিকে ওই রাতেই সীমান্ত পার করার চুক্তি করেন।
চুক্তি অনুযায়ী, আমিনুল তাৎক্ষণিকভাবে ফিলিপকে ৫ হাজার টাকা পাঠান। ফয়সাল ও আলমগীর ঢাকা থেকে কয়েক দফা যানবাহন বদলে ওই রাতেই হালুয়াঘাট সীমান্তে পৌঁছালে ফিলিপ তাদের সীমান্ত পার করে দেন।
ডিবি পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ফয়সাল ও আলমগীরের অবস্থান হালুয়াঘাট সীমান্তে শনাক্ত করার পর সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ফিলিপের দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তারের পর জানা যায়, খুনিরা সীমান্ত পার হয়ে গেছে। পরবর্তীতে ফিলিপের কল রেকর্ড ও লেনদেন বিশ্লেষণ করে ঢাকার মিরপুরের আমিনুলের যোগসূত্র পাওয়া যায়।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃত আমিনুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাইজুলের নির্দেশে খুনিদের পালানোর ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
তদন্তে জানা গেছে, এই হত্যাকাণ্ডের খুনিদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার মাস্টারমাইন্ড ছিলেন ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার ঘনিষ্ঠ সহযোগী তাইজুল ইসলাম। ৫ আগস্টের পর তিনি ভারতে পালিয়ে গেলেও সেখান থেকেই দেশের অপরাধী চক্র ও সীমান্ত দালালদের নিয়ন্ত্রণ করছিলেন। শুটার ফয়সাল ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা এবং মোটরসাইকেল চালক আলমগীর আদাবর থানা যুবলীগের কর্মী।
গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ওসমান হাদিকে রিকশায় থাকা অবস্থায় মাথায় গুলি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। গত রোববার জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিস্থলের পাশে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।






























