শহীদ হাদি হত্যার বিচার দাবিতে পঞ্চগড়ে সড়ক অবরোধ, লাঠিপেটায় আহত ২৬
- প্রকাশঃ ০৮:৪৬:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
- / 34
পঞ্চগড়ে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যার বিচারসহ চার দফা দাবিতে সড়ক অবরোধ করা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় লাঠিপেটায় অন্তত ২৬ জন আহত হয়েছেন।
রোববার (আজ) বিকেলে জেলা শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে করতোয়া সেতুর সামনে পঞ্চগড়–ঢাকা মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিকেল আড়াইটার দিকে পঞ্চগড়ের মকবুলার রহমান সরকারি কলেজ চত্বর থেকে ‘বাংলাদেশপন্থী শিক্ষার্থীদের’ ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে গিয়ে পঞ্চগড়–ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে। এতে প্রায় দেড় ঘণ্টা সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে।
বিকেল চারটার দিকে সেনাসদস্যরা সড়ক থেকে অবরোধকারীদের সরিয়ে দিতে গেলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে তাঁদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে লাঠিপেটা করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে পঞ্চগড় সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর আদনান মোর্শেদ আল হক ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের সেনা ক্যাম্পে বসে আলোচনার আহ্বান জানান। পরে বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এ ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন পঞ্চগড়ের অন্যতম সমন্বয়ক ফজলে রাব্বী, মোকাদ্দেসুর রহমান, সহসমন্বয়ক আতিকুর রহমান ও মাহফুজুর রহমানসহ অন্তত ২৬ জন পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। তাঁদের মধ্যে ১৩ জন ভর্তি রয়েছেন, বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন।
আহত মোকাদ্দেসুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। তখন সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে অতর্কিতভাবে লাঠিচার্জ করেন। এতে আন্দোলনকারীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও আহত হয়েছেন। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ইন্দ্রাশীষ সান্যাল সাংবাদিকদের জানান, হাসপাতালে আসা আহতদের বেশির ভাগই ‘ব্ল্যান্ট ইনজুরি’ বা শক্ত কোনো বস্তুর আঘাতে আহত হয়েছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁদের ভর্তি ও পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।
এদিকে সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর আদনান মোর্শেদ আল হক বলেন, এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে সড়ক অবরোধ চলাকালে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে গেলে আন্দোলনকারীরা একজন লেফটেন্যান্টকে অবজ্ঞা করেন। এ সময় ধস্তাধস্তি ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে দু–একজন আহত হয়ে থাকতে পারেন। ঘটনার পর আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
আহতদের দেখতে সন্ধ্যায় পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে যান জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান, পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম ও সিভিল সার্জন মিজানুর রহমান। এ ছাড়া এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, জেলা জামায়াতের আমির ইকবাল হোসাইনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা–কর্মীরাও হাসপাতালে যান।
জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, সেনাবাহিনী ও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। যেহেতু সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা রয়েছে, সে কারণে বিষয়টি তাঁদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।






























