ঢাকা ১১:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নাজমুল ইসলাম ইস্যুতে বিসিবির সীমাবদ্ধতা, পরিচালক অপসারণে নেই সরাসরি ক্ষমতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশঃ ০৩:৩৬:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 29

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাম্প্রতিক ইতিহাসে এমন অস্থির সময় খুব কমই দেখা গেছে। পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের ধারাবাহিক বিতর্কিত মন্তব্যে দেশের ক্রিকেটাঙ্গন এখন উত্তাল। একটি ফেসবুক পোস্ট থেকে শুরু হওয়া বিতর্ক দ্রুত বিসিবির অন্দরমহল পেরিয়ে মাঠের ক্রিকেট পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে ক্রিকেটারদের আলটিমেটামের মুখে শেষ পর্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় বিসিবি।

এই প্রেক্ষাপটে এম নাজমুল ইসলামকে অর্থ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁকে পরিচালক পদ থেকে অপসারণ করা হয়নি—এবং এখানেই সামনে এসেছে বিসিবির গঠনতন্ত্র ও আইনি সীমাবদ্ধতার বিষয়টি।

বিসিবির নিয়ম অনুযায়ী, বোর্ড চাইলেই কোনো পরিচালককে পদচ্যুত করতে পারে না। একজন পরিচালক তখনই পদশূন্য হবেন, যদি তিনি মৃত্যুবরণ করেন, নিজে থেকে পদত্যাগ করেন, মানসিক ভারসাম্য হারান, দীর্ঘদিন অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন, শৃঙ্খলাজনিত কারণে দণ্ডিত হন, পরপর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকেন অথবা অন্য কোনো ক্রীড়া ফেডারেশনের পদ গ্রহণ করেন। এসব নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া আইনত কোনো পরিচালককে পদচ্যুত করার ক্ষমতা বিসিবির নেই।

অর্থাৎ, সরাসরি বহিষ্কারের এখতিয়ার বোর্ডের হাতে সীমিত। শৃঙ্খলাজনিত ব্যবস্থা নিতে হলে বিসিবির শৃঙ্খলা কমিটির মাধ্যমে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। পর্যবেক্ষকদের মতে, নাজমুল ইসলামকে অর্থ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে ‘অব্যাহতি’ দিয়ে আপাতত সংকট সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে বোর্ড।

তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এতে কি এই অধ্যায়ের পূর্ণ সমাপ্তি ঘটবে? নাকি এম নাজমুল ইসলাম নিজে থেকেই পরিচালক পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন, অথবা বিসিবি আরও কঠোর শৃঙ্খলাজনিত পদক্ষেপ নেবে?

এদিকে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব (ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) জানিয়েছে, বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা পুরো প্রক্রিয়ার ওপর নজর রাখবে। ফলে নাজমুল ইসলাম ইস্যুতে বিসিবির সামনে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের চাপ রয়ে গেছে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”

শেয়ার করুন

নাজমুল ইসলাম ইস্যুতে বিসিবির সীমাবদ্ধতা, পরিচালক অপসারণে নেই সরাসরি ক্ষমতা

প্রকাশঃ ০৩:৩৬:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাম্প্রতিক ইতিহাসে এমন অস্থির সময় খুব কমই দেখা গেছে। পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের ধারাবাহিক বিতর্কিত মন্তব্যে দেশের ক্রিকেটাঙ্গন এখন উত্তাল। একটি ফেসবুক পোস্ট থেকে শুরু হওয়া বিতর্ক দ্রুত বিসিবির অন্দরমহল পেরিয়ে মাঠের ক্রিকেট পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে ক্রিকেটারদের আলটিমেটামের মুখে শেষ পর্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় বিসিবি।

এই প্রেক্ষাপটে এম নাজমুল ইসলামকে অর্থ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁকে পরিচালক পদ থেকে অপসারণ করা হয়নি—এবং এখানেই সামনে এসেছে বিসিবির গঠনতন্ত্র ও আইনি সীমাবদ্ধতার বিষয়টি।

বিসিবির নিয়ম অনুযায়ী, বোর্ড চাইলেই কোনো পরিচালককে পদচ্যুত করতে পারে না। একজন পরিচালক তখনই পদশূন্য হবেন, যদি তিনি মৃত্যুবরণ করেন, নিজে থেকে পদত্যাগ করেন, মানসিক ভারসাম্য হারান, দীর্ঘদিন অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন, শৃঙ্খলাজনিত কারণে দণ্ডিত হন, পরপর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকেন অথবা অন্য কোনো ক্রীড়া ফেডারেশনের পদ গ্রহণ করেন। এসব নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া আইনত কোনো পরিচালককে পদচ্যুত করার ক্ষমতা বিসিবির নেই।

অর্থাৎ, সরাসরি বহিষ্কারের এখতিয়ার বোর্ডের হাতে সীমিত। শৃঙ্খলাজনিত ব্যবস্থা নিতে হলে বিসিবির শৃঙ্খলা কমিটির মাধ্যমে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। পর্যবেক্ষকদের মতে, নাজমুল ইসলামকে অর্থ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে ‘অব্যাহতি’ দিয়ে আপাতত সংকট সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে বোর্ড।

তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এতে কি এই অধ্যায়ের পূর্ণ সমাপ্তি ঘটবে? নাকি এম নাজমুল ইসলাম নিজে থেকেই পরিচালক পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন, অথবা বিসিবি আরও কঠোর শৃঙ্খলাজনিত পদক্ষেপ নেবে?

এদিকে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব (ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) জানিয়েছে, বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা পুরো প্রক্রিয়ার ওপর নজর রাখবে। ফলে নাজমুল ইসলাম ইস্যুতে বিসিবির সামনে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের চাপ রয়ে গেছে।

সর্বশেষ খবর পেতে অনুসরণ করুন- “প্রজন্ম কথা”