ব্রিটেনে আশ্রয় আবেদনে শীর্ষ পাঁচ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ, ফেরার জন্য মিলতে পারে ৩ হাজার পাউন্ড
- প্রকাশঃ ১০ অগাস্ট ২০২৬, ১৩:৩৭
- / 5
ঢাকা, সোমবার, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন ও অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছে ব্রিটিশ পক্ষ। একই সঙ্গে আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরে যেতে ইচ্ছুকদের পুনর্বাসনে সর্বোচ্চ ৩ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত সহায়তার কথা জানানো হয়েছে। ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে।
রোববার অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন, অনিয়মিত অভিবাসন এবং নিরাপদ ও নিয়মিত শ্রম অভিবাসনের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। সারাহ কুক জানান, যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদনকারীর সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বর্তমানে শীর্ষ পাঁচ দেশের মধ্যে রয়েছে। তবে বাংলাদেশ থেকে করা সাম্প্রতিক আশ্রয় আবেদনের অনুমোদনের হার কম বলেও তিনি জানান।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, আশ্রয়প্রার্থীদের বিষয়ে যুক্তরাজ্যের সরকার ও জনগণের অবস্থান কঠোর। আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর কেউ স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরে যেতে চাইলে পুনর্বাসনের জন্য সর্বোচ্চ ৩ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
বৈঠকে বৈধ ও নিরাপদ পথে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে শ্রম অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন সারাহ কুক।
অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি বৈশ্বিক অভিবাসন চুক্তি বাস্তবায়নে দুই দেশের সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী দক্ষ ও মানসম্পন্ন জনশক্তি তৈরির পাশাপাশি নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধেও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার প্রত্যয় জানান তিনি।
অন্যদিকে, সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে এখনো কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়নি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিমসটেকের চেয়ারপারসন হিসেবে তারেক রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণও রয়েছে। তবে কোন আমন্ত্রণ গ্রহণ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সম্পর্ক কবে স্বাভাবিক হবে সে বিষয়ে তিনি কোনো পূর্বাভাস দিতে পারছেন না। তবে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরির বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
বৈঠকে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছে। একই সঙ্গে ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদেরও প্রত্যর্পণের অনুরোধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ভারত যেসব নথি চেয়েছিল, বাংলাদেশ সেগুলো সরবরাহ করেছে বলে জানান তিনি।
গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের পর বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানায়। এ বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে আলোচনা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কারভাবে জানানো হয়েছে এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেছে।
গঙ্গা চুক্তির মতো নির্দিষ্ট কোনো দ্বিপক্ষীয় বিষয় বৈঠকে আলোচিত হয়েছে কি না, জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎটি মূলত সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। তাই নির্দিষ্ট কোনো চুক্তি বা দ্বিপক্ষীয় ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি।
সূত্রঃ কালের কন্ঠ




























