যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্বে ‘গুড ক্যারেক্টার’ শর্ত আরও কঠোর, আবেদন বাতিলের ঝুঁকি বাড়ল
- প্রকাশঃ ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:১১
- / 7
যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব অর্জনের ক্ষেত্রে ‘সু-চরিত্র’ বা গুড ক্যারেক্টার শর্ত আগের চেয়ে আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করছে দেশটির স্বরাষ্ট্র দপ্তর (হোম অফিস)। ১০ বছরের বেশি বয়সী প্রায় সব আবেদনকারীর জন্য এই শর্ত বাধ্যতামূলক। হোম অফিসের মূল্যায়নে কোনো ব্যক্তি ‘সু-চরিত্রের অধিকারী’ হিসেবে বিবেচিত না হলে তার নাগরিকত্বের আবেদন সরাসরি প্রত্যাখ্যান হতে পারে।
ব্রিটিশ ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট ১৯৮১-এ ‘সু-চরিত্র’-এর নির্দিষ্ট সংজ্ঞা না থাকলেও হোম অফিসের ৬২ পৃষ্ঠার নীতিমালায় এমন বহু বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, যা আবেদনকারীর বিরুদ্ধে নেতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। নীতিমালা অনুযায়ী, গুরুতর অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ, যুদ্ধাপরাধ, মানবাধিকার লঙ্ঘন, প্রতারণা, মিথ্যা তথ্য প্রদান, অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ, ওভারস্টে, অনুমতি ছাড়া কাজ করা, ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘন, শ্যাম বিয়ে এবং ইংরেজি ভাষা বা ‘লাইফ ইন দ্য ইউকে’ পরীক্ষায় জালিয়াতির মতো ঘটনায় নাগরিকত্বের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হতে পারে।
হোম অফিস জানিয়েছে, আবেদনকারীদের সব ধরনের অপরাধের তথ্য প্রকাশ করতে হবে। বহু বছর আগের ‘স্পেন্ট’ অপরাধ, সড়ক পরিবহন সংক্রান্ত জরিমানা, স্পিডিং বা পার্কিং ফাইন সম্পর্কিত তথ্যও উল্লেখ করা উচিত। এসব তথ্য গোপন করা হলে তা প্রতারণা হিসেবে গণ্য হতে পারে, যা ভবিষ্যতের নাগরিকত্ব আবেদনেও দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
২০২৩ সালের ৩১ জুলাইয়ের পর জমা দেওয়া আবেদনগুলোর ক্ষেত্রে অপরাধসংক্রান্ত নীতি আরও কঠোর করা হয়েছে। এক বছরের বেশি কারাদণ্ড, ধারাবাহিক সাজা, গুরুতর ক্ষতিকর অপরাধ, যৌন অপরাধ অথবা বারবার অপরাধ করার ইতিহাস থাকলে আবেদন সাধারণত প্রত্যাখ্যান করা হবে। তবে অত্যন্ত ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে কর্মকর্তারা বিশেষ বিবেচনায় আবেদন অনুমোদন দিতে পারেন।
এ ছাড়া ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারির পর থেকে অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশকারীদের জন্য নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ আরও সীমিত করা হয়েছে। তবে মানবপাচারের শিকার ব্যক্তি, শিশু অবস্থায় অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে আনা হয়েছে এমন ব্যক্তি এবং নির্দিষ্ট আইনি সুরক্ষা পাওয়া কিছু শরণার্থীর জন্য ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।
আর্থিক বিষয়ও ‘সু-চরিত্র’ মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জালিয়াতিপূর্ণ দেউলিয়াত্ব, কোম্পানি পরিচালনায় গুরুতর অনিয়ম, বড় অঙ্কের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস) ঋণ, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সরকারি পাওনা পরিশোধ না করা অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ এড়িয়ে যাওয়ার মতো বিষয়ও নাগরিকত্ব আবেদন প্রত্যাখ্যানের কারণ হতে পারে।
তবে নীতিমালায় ইতিবাচক দিকও বিবেচনার সুযোগ রাখা হয়েছে। দীর্ঘ সময় আইন মেনে চলা, সমাজসেবা, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ, দাতব্য কর্মকাণ্ড, সমাজে ইতিবাচক অবদান এবং সংশোধিত জীবনযাপনের প্রমাণ আবেদনকারীর পক্ষে সহায়ক হতে পারে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নাগরিকত্বের আবেদন করার সময় কোনো তথ্য গোপন না করে সম্পূর্ণ ও সঠিক তথ্য প্রদান করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলেও সাধারণত বিদ্যমান অভিবাসন মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে। তবে প্রতারণার অভিযোগে আবেদন বাতিল হলে পরবর্তী ১০ বছর নতুন আবেদনও প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, যাদের অতীতে অপরাধ, ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘন বা অন্য কোনো জটিলতা রয়েছে, তারা আবেদন করার আগে অভিজ্ঞ অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় ইতিবাচক প্রমাণসহ আবেদন করলে সফলতার সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
সূত্র: ফ্রি মুভমেন্ট


























