যুক্তরাষ্ট্রে বছরে ১ লাখ ডলার আয় করেও কেন সঞ্চয় করতে হিমশিম খাচ্ছেন অনেক পরিবার?
- প্রকাশঃ ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৫৩
- / 8
যুক্তরাষ্ট্রে বছরে ১ লাখ ডলার আয় দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চ আয়ের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। তবে ২০২৬ সালের জীবনযাত্রার ব্যয়, কর এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ বৃদ্ধির কারণে এই আয়ের পরও অনেক পরিবারের মাস শেষে উল্লেখযোগ্য সঞ্চয় থাকছে না। বিভিন্ন গবেষণা ও ব্যয় বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
কর পরিশোধের পর আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়
SmartAsset-এর ২০২৬ সালের গবেষণা অনুযায়ী, বছরে ১ লাখ ডলার বেতনের একজন কর্মীর আয়ের গড়ে ২৪.৮৬ শতাংশ কর হিসেবে পরিশোধ করতে হয়। অবশ্য এটি রাজ্য ও শহরভেদে ভিন্ন হয়।
গবেষণায় বলা হয়েছে, টেক্সাসের মতো অঙ্গরাজ্যে কার্যকর করহার প্রায় ২১.১ শতাংশ হলেও বাল্টিমোরের মতো শহরে তা ৩১.৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
এ ছাড়া নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে বছরে ১ লাখ ডলার আয়ের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে প্রায় ২৯ হাজার ৪২০ ডলারে নেমে আসে।
বাসাভাড়াই নিয়ে নেয় আয়ের বড় অংশ
নিউইয়র্কভিত্তিক ব্যয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, বছরে ১ লাখ ডলার আয়ের একজন ব্যক্তির কর পরিশোধের পর হাতে থাকে প্রায় ৬৯ হাজার ৬৯৬ ডলার।
এর মধ্যে বাসাভাড়াতেই ব্যয় হয় প্রায় ৪৩ হাজার ৭১৮ ডলার। এরপর খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, ইউটিলিটি বিল এবং যাতায়াত ব্যয়সহ মোট বার্ষিক ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৭৫ হাজার ৯০৫ ডলার। ফলে বছরের শেষে প্রায় ৬ হাজার ২০৯ ডলারের ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে, বিভিন্ন ভোক্তা ব্যয়সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে একটি গড় মার্কিন পরিবার মাসে প্রায় ৬ হাজার ৫৪৫ ডলার বা বছরে প্রায় ৭৮ হাজার ৫৩৫ ডলার ব্যয় করে।
চার সদস্যের পরিবারের জন্য ১ লাখ ডলার এখন প্রায় ন্যূনতম প্রয়োজনীয় আয়
Money.com-এর ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবারের সদস্যসংখ্যার ওপর নির্ভর করে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপনের জন্য বছরে প্রায় ৯৬ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত আয় প্রয়োজন হতে পারে।
আরেকটি গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, চার সদস্যের একটি পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় ‘লিভিং ওয়েজ’ বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
সঞ্চয় কম হওয়ার প্রধান পাঁচ কারণ
গবেষণা ও ব্যয় বিশ্লেষণে কয়েকটি কারণকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রথমত, অনেক পরিবারের আয়ের ৩৩ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাসাভাড়ায় ব্যয় হয়।
দ্বিতীয়ত, ২০২৬ সালে নতুন গাড়ির গড় মাসিক কিস্তি প্রায় ৭৭৩ ডলার এবং ব্যবহৃত গাড়ির ক্ষেত্রে তা প্রায় ৫৫৯ ডলার।
তৃতীয়ত, একটি পরিবারের স্বাস্থ্যবিমার জন্য প্রতি মাসে প্রায় ৬০০ থেকে ১ হাজার ২০০ ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে।
চতুর্থত, অনেক শহরে শিশু পরিচর্যা বা চাইল্ড কেয়ারের খরচ বাসাভাড়ার সমান, এমনকি তার চেয়েও বেশি।
পঞ্চমত, আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যয়ও বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা বা ‘লাইফস্টাইল ইনফ্লেশন’ অনেক পরিবারের সঞ্চয় কমিয়ে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
অর্থব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে বছরে ১ লাখ ডলার আয়ে প্রচলিত ৫০/৩০/২০ বাজেট নিয়ম অনুসরণ করা অনেক পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে।
তাদের অনেকে প্রয়োজনীয় ব্যয়ের জন্য ৬০ শতাংশ, সঞ্চয়ের জন্য ২০ শতাংশ এবং ঋণ পরিশোধের জন্য ২০ শতাংশ আয় বরাদ্দ রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন।























