ঢাকা ১০:২৬ , Sat, ০১ Aug ২০২৬

ফ্লোরিডায় যাচ্ছেন? স্টেট ট্যাক্স নেই, কিন্তু যেসব খরচের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে

প্রজন্ম কথা ডেস্ক
  • প্রকাশঃ ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫:০০
  • / 6
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবন শুরু করতে আগ্রহী অনেক বাংলাদেশির কাছেই ফ্লোরিডা একটি আকর্ষণীয় অঙ্গরাজ্য। স্টেট ইনকাম ট্যাক্স না থাকা, উষ্ণ আবহাওয়া এবং সমুদ্রঘেঁষা জীবনযাত্রার কারণে প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ সেখানে বসতি গড়ছেন। তবে ফ্লোরিডায় বসবাসের প্রকৃত ব্যয় নির্ধারণে স্টেট ইনকাম ট্যাক্সের পাশাপাশি বাড়ির বীমা, গাড়ির বীমা, আবাসন ব্যয় এবং হারিকেনজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

২০২৩ সালে নিউইয়র্ক থেকে ফ্লোরিডায় স্থানান্তরিত হওয়া এক বাংলাদেশির অভিজ্ঞতাও সেই চিত্র তুলে ধরে। শুরুতে স্টেট ইনকাম ট্যাক্স না থাকায় তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হবেন বলে মনে করেছিলেন। তবে কয়েক মাসের মধ্যেই বাড়ির বীমা, গাড়ির বীমা, হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (HOA) ফি এবং গ্রীষ্মকালের বিদ্যুৎ বিল মিলিয়ে তার মাসিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। ফলে স্থানান্তরের আগে সামগ্রিক ব্যয়ের হিসাব করার গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ফ্লোরিডা যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের একটি, যেখানে ব্যক্তিগত আয়ের ওপর কোনো স্টেট ইনকাম ট্যাক্স নেই। তবে সেখানে ৬ শতাংশ স্টেট সেলস ট্যাক্সের পাশাপাশি কাউন্টিভেদে অতিরিক্ত ০.৫ থেকে ১.৫ শতাংশ পর্যন্ত স্থানীয় সারচার্জ আরোপ করা হয়। এছাড়া সম্পত্তি কর এবং পর্যটন উন্নয়ন করও প্রযোজ্য।

বিশেষ করে মিয়ামি-ডেড কাউন্টির মতো এলাকায় সম্পত্তি করের হার তুলনামূলক কম হলেও বাড়ির মূল্য বেশি হওয়ায় অনেক মালিককে বছরে কয়েক হাজার ডলার পর্যন্ত সম্পত্তি কর পরিশোধ করতে হয়। পর্যটন খাতের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, মহাকাশ ও বিমান শিল্প, নির্মাণ, কৃষি এবং লজিস্টিক্স খাতেও ফ্লোরিডায় উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে।

অরল্যান্ডোতে থিম পার্ক ও হোটেল শিল্প, মিয়ামিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ক্রুজ শিল্প, ট্যাম্পায় স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম এবং জ্যাকসনভিলে লজিস্টিক্স ও নৌবাহিনী সংশ্লিষ্ট খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলনামূলক বেশি। ফ্লোরিডার বিভিন্ন শহরে আবাসন ব্যয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।

মিয়ামির ব্রিকেল এলাকায় এক শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ২ হাজার ২০০ ডলার বা তার বেশি হতে পারে। অন্যদিকে জ্যাকসনভিল বা তাল্লাহাসির মতো শহরে একই ধরনের বাসা তুলনামূলক কম খরচে পাওয়া সম্ভব। বাড়ি কেনার ক্ষেত্রেও অবস্থানভেদে ব্যয় পরিবর্তিত হয়। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় বাড়ির বীমার খরচ বেশি হওয়ায় মোট মাসিক ব্যয়ও বৃদ্ধি পায়।

ফ্লোরিডায় ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডা, ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব মিয়ামিসহ অসংখ্য বিশ্ববিদ্যালয় ও কমিউনিটি কলেজ রয়েছে। রাজ্যের বাসিন্দাদের জন্য ইন-স্টেট টিউশন সুবিধা এবং বিভিন্ন বৃত্তি কর্মসূচি চালু থাকায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছেও অঙ্গরাজ্যটি জনপ্রিয়।

মিয়ামি, অরল্যান্ডো এবং ট্যাম্পায় বড় হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্র রয়েছে। বাংলাদেশি কমিউনিটির উপস্থিতিও এই তিন শহরে তুলনামূলক বেশি। ফলে হালাল গ্রোসারি, মসজিদ এবং বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট সহজেই পাওয়া যায়। তবে স্বাস্থ্যবীমার পরিকল্পনা কাউন্টিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই বীমা নির্বাচন করার আগে সংশ্লিষ্ট শর্ত ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।

ফ্লোরিডার অধিকাংশ এলাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি ছাড়া চলাচল কঠিন। তবে মিয়ামিতে মেট্রোরেল, অরল্যান্ডোতে সানরেইল এবং জ্যাকসনভিলে বাসসেবার মতো গণপরিবহন ব্যবস্থা রয়েছে। শহরের কেন্দ্রস্থলে বসবাস করলে কিছু ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গাড়ির প্রয়োজন কম হতে পারে।

অন্যদিকে গাড়ির বীমার খরচ যুক্তরাষ্ট্রের অনেক অঙ্গরাজ্যের তুলনায় ফ্লোরিডায় বেশি। তাই এই ব্যয়ও আগে থেকেই পরিকল্পনায় রাখা প্রয়োজন।

ফ্লোরিডা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির অঙ্গরাজ্য। পর্যটন, রিয়েল এস্টেট, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং কৃষি এর অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। তবে প্রতি বছর জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত হারিকেন মৌসুমে ঝড় ও বন্যার ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে দক্ষিণ ফ্লোরিডার অনেক এলাকায় ফ্লাড ইন্স্যুরেন্সের প্রয়োজন হতে পারে।

স্টেট ইনকাম ট্যাক্স না থাকলেও ফ্লোরিডায় বসবাসের প্রকৃত ব্যয় নির্ভর করে বাড়ির বীমা, গাড়ির বীমা, HOA ফি, সম্পত্তি কর, বিদ্যুৎ বিল এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকির ওপর।

তাই ফ্লোরিডায় বসবাস বা স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সম্ভাব্য আয়, কর্মসংস্থানের সুযোগ, আবাসন ব্যয়, বীমা এবং অন্যান্য নিয়মিত খরচ বিবেচনায় রেখে পূর্ণাঙ্গ বাজেট বিশ্লেষণ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

❤️
👏
🙂
😞

ফ্লোরিডায় যাচ্ছেন? স্টেট ট্যাক্স নেই, কিন্তু যেসব খরচের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে

প্রকাশঃ ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫:০০

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবন শুরু করতে আগ্রহী অনেক বাংলাদেশির কাছেই ফ্লোরিডা একটি আকর্ষণীয় অঙ্গরাজ্য। স্টেট ইনকাম ট্যাক্স না থাকা, উষ্ণ আবহাওয়া এবং সমুদ্রঘেঁষা জীবনযাত্রার কারণে প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ সেখানে বসতি গড়ছেন। তবে ফ্লোরিডায় বসবাসের প্রকৃত ব্যয় নির্ধারণে স্টেট ইনকাম ট্যাক্সের পাশাপাশি বাড়ির বীমা, গাড়ির বীমা, আবাসন ব্যয় এবং হারিকেনজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

২০২৩ সালে নিউইয়র্ক থেকে ফ্লোরিডায় স্থানান্তরিত হওয়া এক বাংলাদেশির অভিজ্ঞতাও সেই চিত্র তুলে ধরে। শুরুতে স্টেট ইনকাম ট্যাক্স না থাকায় তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হবেন বলে মনে করেছিলেন। তবে কয়েক মাসের মধ্যেই বাড়ির বীমা, গাড়ির বীমা, হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (HOA) ফি এবং গ্রীষ্মকালের বিদ্যুৎ বিল মিলিয়ে তার মাসিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। ফলে স্থানান্তরের আগে সামগ্রিক ব্যয়ের হিসাব করার গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ফ্লোরিডা যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের একটি, যেখানে ব্যক্তিগত আয়ের ওপর কোনো স্টেট ইনকাম ট্যাক্স নেই। তবে সেখানে ৬ শতাংশ স্টেট সেলস ট্যাক্সের পাশাপাশি কাউন্টিভেদে অতিরিক্ত ০.৫ থেকে ১.৫ শতাংশ পর্যন্ত স্থানীয় সারচার্জ আরোপ করা হয়। এছাড়া সম্পত্তি কর এবং পর্যটন উন্নয়ন করও প্রযোজ্য।

বিশেষ করে মিয়ামি-ডেড কাউন্টির মতো এলাকায় সম্পত্তি করের হার তুলনামূলক কম হলেও বাড়ির মূল্য বেশি হওয়ায় অনেক মালিককে বছরে কয়েক হাজার ডলার পর্যন্ত সম্পত্তি কর পরিশোধ করতে হয়। পর্যটন খাতের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, মহাকাশ ও বিমান শিল্প, নির্মাণ, কৃষি এবং লজিস্টিক্স খাতেও ফ্লোরিডায় উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে।

অরল্যান্ডোতে থিম পার্ক ও হোটেল শিল্প, মিয়ামিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ক্রুজ শিল্প, ট্যাম্পায় স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম এবং জ্যাকসনভিলে লজিস্টিক্স ও নৌবাহিনী সংশ্লিষ্ট খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলনামূলক বেশি। ফ্লোরিডার বিভিন্ন শহরে আবাসন ব্যয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।

মিয়ামির ব্রিকেল এলাকায় এক শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ২ হাজার ২০০ ডলার বা তার বেশি হতে পারে। অন্যদিকে জ্যাকসনভিল বা তাল্লাহাসির মতো শহরে একই ধরনের বাসা তুলনামূলক কম খরচে পাওয়া সম্ভব। বাড়ি কেনার ক্ষেত্রেও অবস্থানভেদে ব্যয় পরিবর্তিত হয়। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় বাড়ির বীমার খরচ বেশি হওয়ায় মোট মাসিক ব্যয়ও বৃদ্ধি পায়।

ফ্লোরিডায় ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডা, ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব মিয়ামিসহ অসংখ্য বিশ্ববিদ্যালয় ও কমিউনিটি কলেজ রয়েছে। রাজ্যের বাসিন্দাদের জন্য ইন-স্টেট টিউশন সুবিধা এবং বিভিন্ন বৃত্তি কর্মসূচি চালু থাকায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছেও অঙ্গরাজ্যটি জনপ্রিয়।

মিয়ামি, অরল্যান্ডো এবং ট্যাম্পায় বড় হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্র রয়েছে। বাংলাদেশি কমিউনিটির উপস্থিতিও এই তিন শহরে তুলনামূলক বেশি। ফলে হালাল গ্রোসারি, মসজিদ এবং বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট সহজেই পাওয়া যায়। তবে স্বাস্থ্যবীমার পরিকল্পনা কাউন্টিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই বীমা নির্বাচন করার আগে সংশ্লিষ্ট শর্ত ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।

ফ্লোরিডার অধিকাংশ এলাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি ছাড়া চলাচল কঠিন। তবে মিয়ামিতে মেট্রোরেল, অরল্যান্ডোতে সানরেইল এবং জ্যাকসনভিলে বাসসেবার মতো গণপরিবহন ব্যবস্থা রয়েছে। শহরের কেন্দ্রস্থলে বসবাস করলে কিছু ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গাড়ির প্রয়োজন কম হতে পারে।

অন্যদিকে গাড়ির বীমার খরচ যুক্তরাষ্ট্রের অনেক অঙ্গরাজ্যের তুলনায় ফ্লোরিডায় বেশি। তাই এই ব্যয়ও আগে থেকেই পরিকল্পনায় রাখা প্রয়োজন।

ফ্লোরিডা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির অঙ্গরাজ্য। পর্যটন, রিয়েল এস্টেট, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং কৃষি এর অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। তবে প্রতি বছর জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত হারিকেন মৌসুমে ঝড় ও বন্যার ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে দক্ষিণ ফ্লোরিডার অনেক এলাকায় ফ্লাড ইন্স্যুরেন্সের প্রয়োজন হতে পারে।

স্টেট ইনকাম ট্যাক্স না থাকলেও ফ্লোরিডায় বসবাসের প্রকৃত ব্যয় নির্ভর করে বাড়ির বীমা, গাড়ির বীমা, HOA ফি, সম্পত্তি কর, বিদ্যুৎ বিল এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকির ওপর।

তাই ফ্লোরিডায় বসবাস বা স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সম্ভাব্য আয়, কর্মসংস্থানের সুযোগ, আবাসন ব্যয়, বীমা এবং অন্যান্য নিয়মিত খরচ বিবেচনায় রেখে পূর্ণাঙ্গ বাজেট বিশ্লেষণ করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।