কবর দেওয়ার জায়গা নেই লন্ডনের ৩ এলাকায়, ২০৪০ সালে সংকট ছড়াতে পারে ১৭ কাউন্সিলে
- প্রকাশঃ ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২০:১০
- / 2
লন্ডন, ১১ আগস্ট, (প্রজন্ম কথা) – লন্ডনে দাফনের জায়গার সংকট আগামী ১৫ বছরে আরও তীব্র হতে পারে। সিটি হলের এক নিরীক্ষায় বলা হয়েছে, ২০৪০ সালের মধ্যে রাজধানীর ১৭টি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের এলাকায় নতুন কবর দেওয়ার মতো জায়গা শেষ হয়ে যেতে পারে। এরই মধ্যে ক্যামডেন, হ্যাকনি ও টাওয়ার হ্যামলেটসে নতুন কবরের জন্য জায়গা ফুরিয়ে গেছে।
সিটি হলের ‘লন্ডনে সমাধিস্থলের ব্যবস্থা নিরীক্ষা’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্য লন্ডনের বেশ কয়েকটি বরো তাদের বিদ্যমান কবরস্থানের ধারণক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। নিরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২৫টি বরোর মধ্যে ৯টি জানিয়েছে, পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে তাদের এলাকার বাইরে থাকা কবরস্থানের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় লন্ডনের মেয়র সাদিক খানের নেতৃত্বে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আহ্বান জানিয়েছেন লন্ডন অ্যাসেম্বলির লিবারেল ডেমোক্র্যাট সদস্য হিনা বোখারি। তাঁর প্রস্তাব, স্থানীয় কাউন্সিল, কবরস্থান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়কে নিয়ে সমন্বিতভাবে ভবিষ্যতের সমাধিস্থলের প্রয়োজন নির্ধারণ করা।
লন্ডনের জনসংখ্যাগত পরিবর্তনও এ সংকটকে আরও বাড়াতে পারে। জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৪০ সালের মধ্যে লন্ডনে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের অনুপাত ৪০ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে দাফনের জায়গার চাহিদা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হিনা বোখারি জানান, প্রায় ১৫ বছর আগে নিজের বাবাকে মের্টনের বাড়ির কাছাকাছি দাফনের জন্য জায়গা খুঁজতে গিয়ে তিনিও সমস্যায় পড়েছিলেন। তাঁর আশঙ্কা, পরিকল্পনা না করা হলে ভবিষ্যতে আরও পরিবার নিজেদের বসবাসের এলাকার কাছাকাছি স্বজনকে দাফনের সুযোগ হারাতে পারে।
লন্ডনের খসড়া নগর পরিকল্পনায় সংকট মোকাবিলায় পুরোনো কবর পুনর্ব্যবহার এবং একই স্থানে একাধিক ব্যক্তিকে দাফনের জন্য কবর আরও গভীর করার মতো ব্যবস্থা বিবেচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত জায়গার প্রয়োজন হলে গ্রে বেল্ট ও গ্রিন বেল্টের কিছু জমি ব্যবহারের বিষয়ও পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে।
তবে গ্রিন বেল্ট ব্যবহারের আগে স্থানীয় কাউন্সিলগুলোর নিজস্ব জমি, বিদ্যমান কবরস্থানের আশপাশের জমি এবং অন্য কাজে ব্যবহার করা সম্ভব নয় এমন জায়গা খতিয়ে দেখার পক্ষে হিনা বোখারি। তাঁর মতে, এসব বিকল্প ব্যবহারের পর প্রয়োজন হলে গ্রিন বেল্টের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
এদিকে হাউস অব লর্ডসে লিবারেল ডেমোক্র্যাট সদস্যরা একটি বিল উত্থাপন করেছেন। প্রস্তাবিত আইনে স্থানীয় কাউন্সিলগুলোকে ভবিষ্যতের দাফনের জায়গার চাহিদা আগেভাগে পরিকল্পনা ও পর্যবেক্ষণের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কবরস্থান পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারলেও নির্দিষ্ট পরিমাণ সমাধিস্থলের জায়গা নিশ্চিত করার আইনি বাধ্যবাধকতা নেই।
বিলটি কার্যকর হলে স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় ভবিষ্যতের সমাধিস্থলের প্রয়োজন অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে। এতে জনসংখ্যার পরিবর্তন, জমির প্রাপ্যতা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সম্প্রদায়ের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা সম্ভব হবে।
লন্ডনের মেয়রের কার্যালয় জানিয়েছে, খসড়া লন্ডন পরিকল্পনায় কাউন্সিলগুলোকে কবরস্থানের সম্প্রসারণ, পুরোনো কবর পুনর্ব্যবহার এবং দীর্ঘমেয়াদে দাফনের জায়গা নিশ্চিত করার বিষয়ে সক্রিয় ও সমন্বিত পরিকল্পনা করতে বলা হয়েছে। বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সম্প্রদায়ের প্রয়োজন বিবেচনার বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পেয়েছে।
বিশেষ করে মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নিজস্ব দাফনরীতি ও সমাধিস্থলের প্রয়োজন থাকায় জায়গার সংকট ভবিষ্যতে আরও জটিল হতে পারে। ইতোমধ্যে তিনটি এলাকায় নতুন কবরের জায়গা শেষ হয়ে যাওয়া এবং ২০৪০ সালের মধ্যে আরও ১৭টি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এলাকায় একই পরিস্থিতির পূর্বাভাস লন্ডনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।





























