৩৮ পাতার নতুন পাসপোর্ট আনছে যুক্তরাষ্ট্র, বদলাবে নকশা ও প্যাকেজিং
- প্রকাশঃ ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১১
- / 13
ওয়াশিংটন, ৫ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। ২০২৭ সাল থেকে প্রথমবার পাসপোর্টের আবেদন অনলাইনে করার সুযোগ চালুর পরিকল্পনার পাশাপাশি ২০২৮ সালে নতুন নকশার পাসপোর্ট চালুর কথা জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
বর্তমানে প্রথমবার প্রাপ্তবয়স্ক পাসপোর্টের আবেদনকারীদের নির্ধারিত গ্রহণকেন্দ্রে সরাসরি উপস্থিত হয়ে আবেদন করতে হয়। অনলাইনে নবায়নের সুবিধা থাকলেও তা নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন আবেদনকারীদের জন্য সীমিত।
রুবিও জানিয়েছেন, নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থায় প্রথমবার পাসপোর্টের আবেদনকারীরা অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পাশাপাশি আবেদনের অগ্রগতিও অনলাইনে দেখতে পারবেন। আবেদন প্রক্রিয়ায় পরিচয় যাচাই, ছবি জমা, ফি পরিশোধ এবং আবেদনের অবস্থা পর্যবেক্ষণের মতো কাজ ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় আবেদনকারীরা সরকারি লগইন ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রবেশ করে নিজেদের তথ্য ব্যবহার করতে পারবেন। মোবাইল ফোনে ছবি তোলা অথবা আগে থেকে থাকা ছবি আপলোড করার সুযোগও রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। আবেদন জমা দেওয়ার পর সম্ভাব্য সরবরাহের সময় সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে।
তবে প্রথমবার পাসপোর্ট আবেদনের অনলাইন ব্যবস্থা এখনো চালু হয়নি। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান নির্দেশনায় প্রথমবার প্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারীদের সরাসরি অনুমোদিত গ্রহণকেন্দ্রে আবেদন করতে বলা হয়েছে।
২০২৮ সালে বদলাবে পাসপোর্টের নকশা
নতুন পাসপোর্টের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ফ্লাইট অব দ্য ঈগল’। নতুন নকশায় প্রচলিত গাঢ় নীল প্রচ্ছদ রাখা হলেও এতে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রেট সিল ও ঈগলের প্রতীক আরও বড় ও উজ্জ্বলভাবে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন নকশায় ‘ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা’ লেখাটিও গ্রেট সিলের ওপরের দিকে থাকবে। পাসপোর্টের ভেতরের পাতাগুলোতেও যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস ও জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত নতুন চিত্র সংযোজন করা হবে।
পাতাগুলো উল্টানোর সময় উড়ন্ত ঈগলের ধারাবাহিক চিত্র দেখা যাবে, যা একটি গতিশীল দৃশ্যের অনুভূতি তৈরি করবে বলে পরিকল্পনায় বলা হয়েছে।
ভেতরের চিত্রগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিপ্লব, রাইট ভ্রাতৃদ্বয়ের উড্ডয়ন, পশ্চিমমুখী সম্প্রসারণ এবং আর্টেমিস কর্মসূচির মতো ঐতিহাসিক ও বৈজ্ঞানিক ঘটনাও তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।
৩৮ পাতার পাসপোর্ট আসছে
২০২৮ সাল থেকে নতুন মার্কিন পাসপোর্ট বইয়ে ৩৮টি পাতা রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বর্তমানে প্রচলিত সাধারণ পাসপোর্ট বইয়ে ২৬টি পাতা থাকে। নতুন ৩৮ পাতার বইটি ঘন ঘন বিদেশ ভ্রমণকারীদের জন্য অতিরিক্ত জায়গা দেবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এরই মধ্যে নিরাপত্তা বাড়াতে নতুন প্রজন্মের পাসপোর্ট বই ব্যবহার করছে। ২০২১ সাল থেকে চালু হওয়া এই পাসপোর্টে পলিকার্বনেট তথ্যপাতা, লেজার খোদাই এবং উন্নত নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ নকশার একটি স্মারক পাসপোর্টও তৈরি করেছে পররাষ্ট্র দপ্তর। তবে সেটি নিয়মিত পাসপোর্টের বিকল্প নয়।
প্যাকেজিংয়েও পরিবর্তন
নতুন পাসপোর্টের নকশার পাশাপাশি পাসপোর্ট সরবরাহের প্যাকেজিংয়েও পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমান খামভিত্তিক প্যাকেজিংয়ের পরিবর্তে নতুন ধরনের প্যাকেজ ব্যবহার করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, পাসপোর্টের নিরাপত্তা ও আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক করার উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এসব পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
পুরোনো পাসপোর্ট কি বাতিল হবে?
নতুন নকশার পাসপোর্ট চালু হলেও ২০২৮ সালের আগে ইস্যু করা বৈধ পাসপোর্ট বাতিল হয়ে যাবে না। কোনো পুরোনো পাসপোর্টের মেয়াদ ২০২৮ সালের পর পর্যন্ত থাকলে সেটি মুদ্রিত মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে।
নতুন নকশার পাসপোর্ট মূলত ২০২৮ সাল থেকে প্রথমবার আবেদনকারী এবং নবায়নকারীদের দেওয়া হবে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের পাসপোর্ট সাধারণত ১০ বছর বৈধ থাকে।
নতুন ডিজিটাল আবেদন ব্যবস্থা চালু হলে প্রথমবার পাসপোর্ট পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করার পাশাপাশি আবেদনকারীদের জন্য কাগজপত্র, সরাসরি উপস্থিতি এবং আবেদনের অগ্রগতি জানার ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসতে পারে।


























