ঢাকা ০৯:২৩ , Mon, ১২ Oct ২০২৬
বিশ্বসমাচার
যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ভিসায় নতুন আর্থিক জামানত, সবার জন্য নয়

মুশফিকুর রহমান
  • প্রকাশঃ ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৫৯
  • / 6
যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসন ভিসা আবেদনকারীর জন্য পরীক্ষামূলক কর্মসূচির আওতায় আর্থিক জামানত দেওয়ার প্রক্রিয়া চালু হয়েছে। তবে এ শর্ত সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। ছবি: সংগৃহীত  

ওয়াশিংটন, ১২ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসন ভিসা আবেদনকারীর জন্য আর্থিক জামানত দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করেছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। পরীক্ষামূলক কর্মসূচির আওতায় কনস্যুলার কর্মকর্তারা নির্বাচিত আবেদনকারীদের ভিসা অনুমোদনের আগে ‘পাবলিক চার্জ বন্ড’ নামে আর্থিক নিশ্চয়তা নেওয়ার প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে বলতে পারবেন। তবে এ শর্ত সব অভিবাসন ভিসা আবেদনকারীর জন্য প্রযোজ্য নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ২০২৬ সালের ৫ আগস্ট এ বিষয়ে নীতিমালা হালনাগাদ করে। নাইজেরিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম লেজিট ডট এনজি ১০ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের সরকারি নির্দেশনাতেও পরীক্ষামূলক কর্মসূচির আওতায় নির্দিষ্ট কিছু আবেদনকারীর ক্ষেত্রে এ ব্যবস্থা ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।

পাবলিক চার্জ বন্ড হলো এক ধরনের আর্থিক নিশ্চয়তা, যা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের ২১২(ক)(৪) ধারায় সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার আশঙ্কায় ভিসা প্রত্যাখ্যাত হতে পারে, এমন নির্দিষ্ট আবেদনকারীর ক্ষেত্রে বিবেচিত হয়। এ ধরনের আবেদনকারী পর্যাপ্ত প্রমাণ দিয়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি নির্ধারিত শর্তে বন্ডের মাধ্যমে ভিসা পাওয়ার সুযোগ নিতে পারেন।

পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, কনস্যুলার কর্মকর্তা আবেদনকারীর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বন্ডের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করবেন। যাঁদের ক্ষেত্রে এ ব্যবস্থা প্রযোজ্য হবে, তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নির্দেশ না দিলে আবেদনকারীদের নিজ উদ্যোগে বন্ডের জন্য আবেদন করার প্রয়োজন নেই।

জামানতের পরিমাণও সবার জন্য নির্দিষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত বিধিমালার আওতায় আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা করে কনস্যুলার কর্মকর্তা অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করবেন। বন্ড জমা দিলেই ভিসা অনুমোদন নিশ্চিত হবে না। আবেদনকারীকে ভিসার অন্যান্য যোগ্যতা ও শর্তও পূরণ করতে হবে।

পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানিয়েছে, যাঁদের বৈধ ভিসা ইতোমধ্যে রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে নতুন এ প্রক্রিয়া সরাসরি প্রযোজ্য হবে না। কোনো ব্যক্তি আবেদনকারীর পক্ষে বন্ড জমা দিলে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। তবে বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হলে তা বাজেয়াপ্ত হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের পরিকল্পনা করছেন এমন বাংলাদেশিসহ অন্যান্য দেশের নাগরিকদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তবে পরীক্ষামূলক কর্মসূচিটি নির্বাচিত কিছু আবেদনকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়ায় সবার জন্য নতুন আর্থিক বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে, এমন ধারণা সঠিক হবে না। আবেদনকারীদের নিজেদের পরিস্থিতি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মার্কিন কনস্যুলার কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা যাচাই করা উচিত।

সরকারি তথ্যসূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনা

❤️
👏
🙂
😞

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ভিসায় নতুন আর্থিক জামানত, সবার জন্য নয়

প্রকাশঃ ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৫৯

ওয়াশিংটন, ১২ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসন ভিসা আবেদনকারীর জন্য আর্থিক জামানত দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করেছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। পরীক্ষামূলক কর্মসূচির আওতায় কনস্যুলার কর্মকর্তারা নির্বাচিত আবেদনকারীদের ভিসা অনুমোদনের আগে ‘পাবলিক চার্জ বন্ড’ নামে আর্থিক নিশ্চয়তা নেওয়ার প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে বলতে পারবেন। তবে এ শর্ত সব অভিবাসন ভিসা আবেদনকারীর জন্য প্রযোজ্য নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ২০২৬ সালের ৫ আগস্ট এ বিষয়ে নীতিমালা হালনাগাদ করে। নাইজেরিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম লেজিট ডট এনজি ১০ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের সরকারি নির্দেশনাতেও পরীক্ষামূলক কর্মসূচির আওতায় নির্দিষ্ট কিছু আবেদনকারীর ক্ষেত্রে এ ব্যবস্থা ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।

পাবলিক চার্জ বন্ড হলো এক ধরনের আর্থিক নিশ্চয়তা, যা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের ২১২(ক)(৪) ধারায় সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার আশঙ্কায় ভিসা প্রত্যাখ্যাত হতে পারে, এমন নির্দিষ্ট আবেদনকারীর ক্ষেত্রে বিবেচিত হয়। এ ধরনের আবেদনকারী পর্যাপ্ত প্রমাণ দিয়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি নির্ধারিত শর্তে বন্ডের মাধ্যমে ভিসা পাওয়ার সুযোগ নিতে পারেন।

পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, কনস্যুলার কর্মকর্তা আবেদনকারীর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বন্ডের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করবেন। যাঁদের ক্ষেত্রে এ ব্যবস্থা প্রযোজ্য হবে, তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নির্দেশ না দিলে আবেদনকারীদের নিজ উদ্যোগে বন্ডের জন্য আবেদন করার প্রয়োজন নেই।

জামানতের পরিমাণও সবার জন্য নির্দিষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত বিধিমালার আওতায় আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা করে কনস্যুলার কর্মকর্তা অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করবেন। বন্ড জমা দিলেই ভিসা অনুমোদন নিশ্চিত হবে না। আবেদনকারীকে ভিসার অন্যান্য যোগ্যতা ও শর্তও পূরণ করতে হবে।

পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানিয়েছে, যাঁদের বৈধ ভিসা ইতোমধ্যে রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে নতুন এ প্রক্রিয়া সরাসরি প্রযোজ্য হবে না। কোনো ব্যক্তি আবেদনকারীর পক্ষে বন্ড জমা দিলে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। তবে বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হলে তা বাজেয়াপ্ত হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের পরিকল্পনা করছেন এমন বাংলাদেশিসহ অন্যান্য দেশের নাগরিকদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তবে পরীক্ষামূলক কর্মসূচিটি নির্বাচিত কিছু আবেদনকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়ায় সবার জন্য নতুন আর্থিক বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে, এমন ধারণা সঠিক হবে না। আবেদনকারীদের নিজেদের পরিস্থিতি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মার্কিন কনস্যুলার কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা যাচাই করা উচিত।

সরকারি তথ্যসূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনা