যুক্তরাষ্ট্রে ঠিকানা বদলের ১০ দিনের নিয়ম, না জানালে অভিবাসন জটিলতার ঝুঁকি
- প্রকাশঃ ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৩৯
- / 7
ওয়াশিংটন, ১৫ অক্টোবর, (প্রজন্ম কথা) – যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অধিকাংশ বিদেশি নাগরিককে ঠিকানা পরিবর্তনের ১০ দিনের মধ্যে নতুন ঠিকানা ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের (ইউএসসিআইএস) কাছে জানানোর নিয়ম স্মরণ করিয়ে দিয়েছে সংস্থাটি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঠিকানা হালনাগাদ না করলে অভিবাসন-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ, নথি ও আবেদনসংক্রান্ত চিঠিপত্র পেতে সমস্যা হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে ঠিকানা পরিবর্তনের এ নিয়ম অধিকাংশ বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে এ ও জি শ্রেণির নির্দিষ্ট ভিসাধারী এবং ভিসা ওয়েভার কর্মসূচির আওতায় থাকা দর্শনার্থীরা এ বাধ্যবাধকতার বাইরে রয়েছেন।
ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, ঠিকানা পরিবর্তনের তথ্য শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগকে (ইউএসপিএস) জানালেই হবে না। ডাক বিভাগের নথিতে ঠিকানা হালনাগাদ করলেও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইউএসসিআইএসের রেকর্ডে যুক্ত হয় না। ফলে সংস্থাটির পাঠানো গুরুত্বপূর্ণ চিঠি নতুন ঠিকানায় পৌঁছানোর নিশ্চয়তা থাকে না।
যেভাবে ঠিকানা হালনাগাদ করবেন
ইউএসসিআইএসের অনলাইন অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে নতুন ঠিকানা জমা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। আগে ডাকযোগে আবেদন জমা দিয়ে থাকলেও অনলাইনে ঠিকানা পরিবর্তনের সুবিধা ব্যবহার করা যায়। একাধিক আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকলে প্রতিটি আবেদনের জন্য সংশ্লিষ্ট রসিদ নম্বর ব্যবহার করে ঠিকানা হালনাগাদ করতে হবে।
বিকল্প হিসেবে ডাকযোগে এআর-১১ ফরম জমা দিয়েও ঠিকানা পরিবর্তনের নিয়ম পূরণ করা যায়। তবে অনলাইনে ঠিকানা পরিবর্তন করলে সংশ্লিষ্ট সব আবেদন ও নথির তথ্য সঠিকভাবে হালনাগাদ হয়েছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি।
কিছু ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, নাগরিকত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে কেউ অন্য ব্যক্তির আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার হলফনামা জমা দিয়ে থাকলে ঠিকানা পরিবর্তনের ৩০ দিনের মধ্যে আই-৮৬৫ ফরম জমা দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
এ ছাড়া নারী নির্যাতন থেকে সুরক্ষা-সংক্রান্ত আবেদন, পাচারের শিকার ব্যক্তিদের টি ভিসা, নির্দিষ্ট অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের ইউ ভিসা এবং নির্যাতনের কারণে আই-৭৫১ ফরমের শর্ত থেকে অব্যাহতি চাওয়া আবেদনকারীদের জন্য আলাদা ঠিকানা পরিবর্তন পদ্ধতি রয়েছে। দত্তক গ্রহণ-সংক্রান্ত কিছু আবেদনের ক্ষেত্রেও ঠিকানা পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
কোনো আবেদন অনুমোদনের নোটিশে সেটি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের জাতীয় ভিসা কেন্দ্রে পাঠানোর কথা উল্লেখ থাকলে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীকে ওই দপ্তরেও নতুন ঠিকানা জানাতে হতে পারে।
অভিবাসন নথি পেতে সতর্কতা জরুরি
অভিবাসন আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকুক বা না থাকুক, নিজের ভিসা ও অভিবাসন পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রযোজ্য নিয়ম যাচাই করে দ্রুত ঠিকানা হালনাগাদ করা গুরুত্বপূর্ণ। এতে গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ হারানো, আবেদনসংক্রান্ত জটিলতা এবং প্রয়োজনীয় অভিবাসন নথি পেতে বিলম্বের ঝুঁকি কমানো যায়।
ঠিকানা পরিবর্তনের নিয়ম ও ব্যতিক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ইউএসসিআইএসের সরকারি ওয়েবসাইটের নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।
























